দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজশাহী, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): রাজশাহী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে (২০২৬ সাল) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

সংগঠনটি ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করেছে। এই প্যানেল থেকে আবুল কাসেম সভাপতি ও পারভেজ তৌফিক জাহেদী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে সহ-সভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেল থেকে এ কে এম মিজানুর রহমান জয়লাভ করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় , জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ থেকে নির্বাচিত অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মাহাবুবুল ইসলাম ও মজিজুল হক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) ইমতিয়ার মাসরুর আল আমিন; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ) নুর-এ কামরুজ্জামান ইরান; হিসাব সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শামীম; লাইব্রেরী সম্পাদক সেলিম রেজা মাসুম; সম্পাদক অডিট তানভীর আহমেদ জুলেট; সম্পাদক প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন শাহজামাল এবং সম্পাদক ম্যাগাজিন অ্যান্ড কালচার কানিজ ফাতেমা কাজল।

সদস্য পদে নির্বাচিত ৯ জন হলেন, ইয়াসিন আলী, শামীম আহমেদ, মাঈনুর রহমান, হাফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন (২), শাহীন আলম মাহমুদ, রেশমা খাতুন, হুমায়ুন কবির শাম্মী ও রহিমা খাতুন।

নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম সেলিম, এএনএম কামরুজ্জামান বকুল ও শামীম হায়দার দারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (বৃহস্পতিবার) রাজশাহী আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আধাঘন্টা বিরতি দিয়ে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬২৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মোট ভোটার ছিল ৬৯৩ জন।

নির্বাচনে ২১ পদের বিপরীতে পৃথক দুটি প্যানেলের ৪২ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে একজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদে বাড়ি ফেরত মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তায় রংপুরে সাব-কন্ট্রোল রুম চালু করেছে মহানগর পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে নগরীর মডার্ন মোড়ে এই সার্ভিস চালু হয়। উদ্বোধন করেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১৩ উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) লিমন রায়, উপ-পুলিশ কমিশনার, টিআই রাশিদুল ইসলাম, তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান প্রমুখ।

উদ্বোধন শেষে মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ‘এই কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সকল প্রকার তথ্য আদান-প্রদান করব। যারা ভুক্তভোগী হবেন, যদি পরিস্থিতির শিকার হন আমাদেরকে জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব। এটাই উদ্দেশ্য।’

মজিদ আলী আরো বলেন, ‘আমাদের এই মডার্ন মোড় মূলত একটি গেটওয়ে। এই অঞ্চলের যতগুলো জেলা আছে গাইবান্ধা ছাড়া সবগুলো জেলার জন্য একটি গেটওয়ে। এই রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন শেষে আবার এই রাস্তা দিয়ে ঢাকামুখী হতে হবে। সুতরাং এই যে গেটওয়ে এই জায়গাটাতে সবারই একটু অসুবিধা হয়। এই অসুবিধাটা কখনো কখনো খুব বেশি হয়। কারণ হচ্ছে সকলেই একই সময়ে গমন করেন আবার একই সময়ে ফিরে আসেন। সে কারণে একটু চাপ পড়ে। এই চাপটাকে যতটুকু মিনিমাইজ করা যায়। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু আজকের এই সমালিত প্রচেষ্টা এবং সম্মিলিত একটা আমাদের উদ্যোগ।’

তিনি বলেন, ‘উত্তরের সাত জেলার গেটওয়ে মডার্ন মোড়। সে কারণে এখানে যানজট নিরসন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়া এবং ভোগান্তি দূর করতেই এই কন্ট্রোল চালু করা হলো। কোনো যাত্রী, শ্রমিক, চালক- কারো কোনো ধরনের ব্যত্যয় লক্ষ করলেই কন্ট্রোল রুমে সরাসরি অথবা হটলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকশনে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

পোশাকী পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব ও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে ওই এলাকায়।

উদ্বোধনের পর মডার্নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখে তিনি। পরিবহন ও যাত্রীদের সাথে কথা বলেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
রংপুরের তারাগঞ্জে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ট্রাকচালকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার খারুভাজ ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ট্রাকচালক ইদ্রিস আলী (৩৫) ঝিনাইদহ জেলার মহেমপুর উপজেলার জলুলী গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে। আহত একই ট্রাকের হেলপার আরিফুল ইসলাম একই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত অন্য ট্রাকচালকের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর থেকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি সার বোঝাই ট্রাক নীলফামারির সৈয়দপুরের দিকে যাচ্ছিল। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার খারুভাজ ব্রিজ এলাকায় দুটি ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে পাথর বোঝাই ট্রাকের চালক ইদ্রিস আলী (৩৫) ও সার বোঝাই ট্রাকের ড্রাইভার ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা নিহত ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।

তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, দুই ট্রাকচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুইটি জব্দ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী হিসেবে খ্যাত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির জন্য পরিচিত ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

নাগরিকরা জানাচ্ছেন, দিন কিংবা রাত কোনো সময়ই নিরাপত্তা নেই। নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে ছিনতাইকারীরা চলন্ত অটোরিকশা, জনসমাগমপূর্ণ মার্কেট, নির্জন রাস্তাসহ সর্বত্র দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে জেলায় মোট ১১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮-২০টি ছিনতাই-সংক্রান্ত। একই বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬০টি; ৪৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাস্তবে প্রতিটি মাসে নগরীতে গড়ে প্রায় এক হাজারের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রতিক কিছু ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরোনো ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলন্ত অটোরিকশায় শিক্ষার্থী মোবাশ্বির ইসলাম সাদকে চার ছিনতাইকারী আক্রমণ করে। তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে আনন্দ মোহন কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেন। দু’দিন পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিওকর্মী শামীম মিয়া নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, থানায় অভিযোগ সত্ত্বেও এখনও প্রতিকার পাননি। ২৩ অক্টোবর দিঘারকান্দা-রহমতপুর বাইপাস সড়কে বাকপ্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক মাছুমকে ছিনতাইকারীরা পিঠ ও গলায় ছুরিকাঘাত করে যানটি ছিনিয়ে নেয়।

জানা গেছে, নগরীর শম্ভুগঞ্জ, ব্রিজ মোড়, কেওটখালী, বাকৃবি শেষ মোড়, সানকিপাড়া, মীরবাড়ি, কলেজ রোড, মাদ্রাসা কোয়ার্টার, কাশর রোড, বাইপাস মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড, পুরোহিতপাড়া, বাঘমারা, চরপাড়া, মাসকান্দা এবং জয়নুল আবেদীন পার্ক ছিনতাই প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

অপরাধের ধরন অনুযায়ী দেখা গেছে, এখন কেবল নির্জন স্থানেই নয়, বরং প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝে অটোরিকশা বা বাজারে দৌরাত্ম্য চলছে। আশপাশে থাকা যাত্রীরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না। জেলার আশপাশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরাও প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক ৪৬৭ জনের মধ্যে ৩৬২ জনই স্টেশন রোড, পুরোহিতপাড়া, সানকিপাড়া ও মীরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। ৩০০ জন পেশাদার ছিনতাইকারী কারাগার থেকে বের হয়ে আবারও অপরাধে লিপ্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশ বয়স ১৪-৩০ বছরের মধ্যে। অনেকে শিক্ষার্থী ও মাদকাসক্ত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারবার ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ ৫ ফেব্রুয়ারি কলেজ রোডে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী টাঙ্গাইল পলিটেকনিকের ছাত্র রুবেল আহমেদ স্বাধীন গনমাধ্যমকে জানান, ২৩ ডিসেম্বর চলন্ত অটোরিকশায় উঠার সময় তার গলায় ছুরি ধরে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ধোবাউড়া উপজেলার আবু রায়হান জয়নাল আবেদীন পার্কে ঘুরতে এসেও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। জীবন বাঁচাতে চিৎকার করলে দু’টি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৯২ ধারায় ছিনতাইয়ের মামলা হলেও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব, দীর্ঘসূত্রিতা ও অসুবিধার কারণে অনেক আসামি খালাস পেয়ে বা সহজে জামিন পান। ফলে অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

সুশীল নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি স্থাপন, মোবাইল আইএমইআই ট্র্যাকিং, বিট পুলিশিং সক্রিয়করণ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ছিনতাই করা পণ্য কেনাবেচায় জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

নগরবাসী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া আগামী ঈদে ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। বর্তমানে ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, অটোরিকশা চালক সকলেই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টহল ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহ নগরীর চর কালীবাড়ি এলাকায় রেলের জায়গা দখল করে সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কর্মকর্তারা গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, রেলওয়ের জায়গাটি অব্যবহৃত ছিল। দখল হয়ে যাবে ভেবে জনস্বার্থে তারা কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম জানান, জুটমিল-সংলগ্ন রেলওয়ের ৫-৬ শতাংশ ভূমিতে সিটি করপোরেশনের একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আরএনবি ফোর্সের একটি দল গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও জানান, অবৈধ দখল প্রতিরোধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় চারটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিডা কনস্ট্রাকশন। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কাজটিকে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। চলতি বছরের জুন মাসে এই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার সাইটের কাজ সরাসরি বন্ধ করতে পারে না। সিটি করপোরেশনের সচিব বললে আমি কাজ বন্ধ রাখব। তিনি আরও বলেন, তবে এর দায়ভার সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। এ পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে, তা ফেরত দিলে আমি কাজ ছেড়ে দেব। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা হরমুজ আলী জানান, সিটি করপোরেশনই তাদের জায়গাটি বুঝিয়ে দিয়েছিল। গতকাল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, জায়গাটি খালি পড়ে ছিল, ভেবেছিলাম, রেলওয়ে এখানে কোনো স্থাপনা করবে না এবং এটি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। জনস্বার্থেই কাউন্সিলর কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন রেলওয়ে বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈদ যাত্রা স্বস্তির ও আনন্দদায়ক করার জন্য সরকারের চেষ্টার পরও এবার মহাসড়কের যানজট চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে ঈদে ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও দর ঢাকা-টাঙ্গাইল দুটি মহাসড়কে উন্নয়নকাজ, অব্যবস্থাপনা

ঈদ যাত্রা স্বস্তির ও আনন্দদায়ক করার জন্য সরকারের চেষ্টার পরও এবার মহাসড়কের যানজট চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে ঈদে ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও দর ঢাকা-টাঙ্গাইল দুটি মহাসড়কে উন্নয়নকাজ, অব্যবস্থাপনা, ঢাকার প্রবেশপথে সড়ক দখল, মহাসড়কের পাশে বাজার ও যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, সেতুর টোলপ্লাজায় ধীরগতির কারণে দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে ঈদযাত্রায়। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই দিন যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে যানজট ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা আছে। এছাড়া ঢাকা-চট্রগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজটও মানুষকে ভোগাতে পারে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ঈদযাত্রায় গাজীপুরের অন্তত আট স্থানে যানজট ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে পাঁচটি জেলা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে কালিয়াকৈর হয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। এই দুই মহাসড়কে মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হয় যানজট। ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়লে যাত্রীদের পোহাতে হবে ভোগান্তি। সড়ক দখল, যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করা যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন।

ভোগান্তির শিকার হওয়ার আটটি স্থানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুটি। দুই মহাসড়কের একাধিক স্থানে ভাসমান বাজার, ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল, অবৈধ স্থাপনা, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং ও মহাসড়কের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে ঘরমুখো যাত্রীদের।

জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় এই মহাসড়কে। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের নানা স্থানে দুই পাশেই অবৈধ দখলদারদের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। গাজীপুর অঞ্চলে পোশাক কারখানা ছুটি হলে চাপ পড়ে মহাসড়কে। ফলে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি হলে যেকোনো সময় যানজট দেখা দিতে পারে।

যাত্রী ও যানবাহনচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড, কলেজ গেট, বোর্ড বাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, সদর উপজেলার ভবানীপুর, বাঘের বাজার, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি বাজার, নয়নপুর ও জৈনাবাজারে যানজটের শঙ্কা আছে। এ ছাড়া চান্দনা চৌরাস্তার ফ্লাইওভার খুলে না দেওয়ায় এবারও চান্দনা চৌরাস্তায় ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে যানজটের এসব স্থান চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলো। গাজীপুরের অন্তত আট স্থানে যানজট ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলমান বাস রর্‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ এক যুগের বেশি সময়েও শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে পরিবহনচালক ও যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্দিষ্ট লেনে দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে বিআরটি প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় চার বছর এক মাস। এই প্রকল্পের সময়সীমা পাঁচ দফা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় হয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদযাত্রায় এই মহাসড়কের কোনাবাড়ী, সফিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে। সাত কিলোমিটার সড়কের গাজীপুর মহানগরীর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যানজট লেগেই থাকে সবসময়।

যানজটের কারণ হিসেবে চালকরা বলছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশিরভাগ অংশ ভাঙাচোরা। স্বাভাবিক সময়ে এই সড়ক পার হতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। চন্দ্রার যানজট মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ।

জামালপুরের ভাটিবাংলা পরিবহনের চালক তুহিন শেখ বলেন, ‘টঙ্গী থেকে বোর্ড বাজার পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। ঈদে মানুষের ঢল ও গাড়ির চাপ বাড়লে প্রকল্পের স্টেশনগুলোতে রাস্তা সরু থাকায় যানজট সৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা লাগবে।’

একই আশঙ্কার কথা বললেন শ্রীপুরের প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চান্দনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় বানানো হয়েছে। এতে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়েই এখানে যানজট লেগে থাকে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লে যানজট আরও প্রকট হবে।’

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার আলম এশিয়া পরিবহনের যাত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বাজার বসানো হয়েছে। সঠিক তদারকি না থাকায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল বাড়ছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে যানজটে ঈদযাত্রায় এই মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। কারণ এখনই কয়েক ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয় যাত্রীদের।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সূত্র বলছেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সবচেয়ে দীর্ঘ যানজট হয় চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়ার পেয়ারাবাগান এলাকায়। ঈদের আগেই চান্দনা চৌরাস্তার ঢাকামুখী উড়ালসড়ক খুলে দেওয়া হবে। এতে ময়মনসিংহ থেকে আসা ঢাকামুখী যানবাহনগুলোকে যানজটে পড়তে হবে না। এ ছাড়া ঈদের আগেই মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা, বাজার ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। তখন গাড়ি বাড়লেও যানজট হবে না।’

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সংক্রান্ত জরুরি সভা সম্প্রতি ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসন এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ ,নিয়মতান্ত্রিক কাউন্টার বরাদ্দ, টার্মিনাল ও বাস ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ।

ঈদযাত্রায় এবারও সেই চিরচেনা যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শিমরাইল, কাঁচপুর, সোনারগাঁসহ সারা দেশে দেড় শতাধিক স্পটে যানজটে দীর্ঘ ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

সওজের তথ্যমতে, সড়ক-মহাসড়কের ৭৫ শতাংশের অবস্থা ভালো। কিন্তু ঢাকা ছাড়তেই ভোগান্তি হতে পারে গাবতলী, সায়েদাবাদ, টঙ্গী ও হানিফ ফ্লাইওভারে। ঢাকার প্রবেশপথে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকের ভিড়। এতে বাসের গতি আটকে যাচ্ছে। জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং আশুগঞ্জ-সরাইল-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-আখাউড়া মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় নরসিংদী ও আশুগঞ্জ এলাকায় দুর্ভোগে পড়তে হবে সিলেটের যাত্রীদের। এখনই দুর্ভোগ হচ্ছে এই দুই সড়কে।

হাইওয়ে পুলিশ এবং সওজ যদিও বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা কম। কিন্তু ভোগাতে পারে সায়েদাবাদ এবং কাঁচপুরের যানজট। নারায়ণগঞ্জে মহাসড়কের দুই পাশে কলকারখানা এবং ঘনবসতির কারণে কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত যানজট কিংবা গাড়ির গতি ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য এবং মেঘনা ও গোমতীর টোলপ্লাজায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছয়টি স্থানে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে। গজারিয়া অংশের ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে ভবেরচর স্ট্যান্ডে বিশৃঙ্খলার কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট হচ্ছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে রূপসী হয়ে বরপা বিশ্বরোড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত যানজট হচ্ছে, যা ঈদে বাড়তে পারে। এই যানজটের কারণ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নির্মাণকাজ। ভুলতা থেকে বরপা বিশ্বরোড পর্যন্ত যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও পার্কিং উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, নির্বাচনের সময় যে পরিমাণ যাত্রী ঢাকা ছেড়েছিল, ঈদে এর কয়েক গুণ যাত্রী হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা পরিবহন খাত ও সড়কের নেই। তাই ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে। সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যানবাহনের কারণে যানজট হয়। এগুলো ঈদের সময় বন্ধ রাখতে হবে। সড়কগুলোর মোড়ে বাজার এবং অটোরিকশার স্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। এ কারণে দূরপাল্লার গাড়ি আটকে যায়। এগুলো দূর করতে হবে।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ, রেল ও সেতু এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি বলেন, ঈদে ভাড়া বাড়ানো হবে না। তিনি বলেন, নৌপথে ঈদে যাত্রা নিরাপদ করতে ২৬টির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ইফতারে মোরগ পোলাও খেয়ে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় ভালুকার মাস্টার বাড়ি এলাকার গ্লোবাল সুজ কারখানায় ঘটনাটি ঘটে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) ফরহাদ হোসেন খান শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার তথ্য জানান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্লোবাল সুজ-এর শ্রমিকরা সন্ধ্যায় ভালুকার খান হোটেল থেকে ইফতার করার জন্য মোরগ পোলাও নেন। খাবার খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকরা অসুস্থদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২১ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

কারখানার সুইং সেকশনে কর্মরত শ্রমিক ফাহাদ মিয়া জানান, ইফতার করার ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ বমি করতে শুরু করেন এবং একে একে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সুইং সেকশনের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, “কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকে। বৃহস্পতিবার ইফতারে মোরগ পোলাও দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর প্রায় ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।”

ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান জানান, মোরগ পোলাউ খাওয়ার পর অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শ্রমিকরা হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শিল্প পুলিশের এএসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থদের ২১ জনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরো দুজনকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। পরে আরো বিস্তারিত বলা যাবে।”

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে টহল জোরদার করেছে র‌্যাব-৮। অপরাধীদের নিয়ন্ত্রনে বিশেষ অভিযানে নেমেছে র‌্যাব-৮ এর বরিশাল সদর দপ্তরের একাধিক টিম।

ইউনিটটির সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ রওনক জাহান এর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনব্যাপী এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে দুর-দুরান্ত থেকে কেনাকাটা সহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করেন। এছাড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নারীর টানে লঞ্চ ও বাস যোগে যাত্রীরা বরিশালে আসেন। এসব যাত্রীরা রাত কিংবা ভোর রাতে বরিশাল লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে নেমে গন্তব্যস্থলে যান। জনসাধারণের এই বাড়তি চাপকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি করার চেষ্টা করে, তেমনি কিছু অপরাধও সংঘঠিত হয়। অপরাধিরা এই সময়টাকেই তাদের অপকর্মের জন্য বেছে নেয়।

যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সহ ব্যাবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাব-৮ ভ্রাম্যমান টহল অভিযান বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিনই র‌্যাবের একাধিক গাড়ি নগরজুরে টহল দিচ্ছে। শুধু তাই নয় র‌্যাব-৮ এর সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ রওনক জাহান এর নেতৃত্বে একাধিক টিম লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ডসহ মার্কেট এলাকায় টহল দিচ্ছে। টহল টিম কথা বলছেন পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে। আশ্বস্ত করছেন নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে। এর সুফলও পাচ্ছে বরিশালবাসী। বিগত দিনে মার্কেটগুলোতে রোজার ভিড় বাড়ার সাথে সাথে ছিনতাই, চুরিসহ নানা ঘটনার খবর ছিলো স্বাভাবিক। তবে এবার র‌্যাবের টহল ও নজরদারি বৃদ্ধির কারনে এরকম কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ রওনক জাহান জানান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়কের নির্দেশে আমরা বরিশাল নগরীসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও সমানভাবে টহল বৃদ্ধি করেছি। যাতে করে পরিবহন যাত্রীরাসহ দুর-দুরান্ত থেকে কেনা-কাটা করতে আসা ক্রেতারা নির্বিঘ্নে তাদের প্রয়োজন সাড়তে পারেন। তাছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে মাদকের বিস্তার রোধেও র‌্যাব-৮ কাজ করছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

ছবির ক্যাপসনঃ- বরিশালে ঈদকে সামনে রেখে র‌্যাব-৮ এর সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ রওনক জাহান এর নেতৃত্বে লঞ্চঘাট এলাকায় টহল দেয়া হয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

পরিপত্রের বাইরে গিয়ে বেতন বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে মানববন্ধন করা পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২০০০ টাকা বোনাস এবং অন্যান্য দাবি দাবা পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা।
এর আগে টানা প্রায় ১ সপ্তাহ কর্মবিরতি পালন করায় চরম বিপাকে পড়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফলে ময়লার ভাগারে পরিনত হয় বিসিসির সিটির রাস্তাঘাট।

পরিচ্ছন্ন শাখার কর্মচারীরা জানান, আজ আমরা কয়েকদিন যাবত টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করে যাচ্ছি। গত বছর আমরা ৩০ দিনের বেতন এবং বোনাস পেয়েছি। কিন্তু এ বছর তা দেয়া হচ্ছে না। বোনাস চাইলে বিধি-নিষেধ এবং নিয়ম-নীতির কথা বলেন কর্মকর্তারা।

এদিকে নগরবাসী বলছেন, কিছু হলেই সিটি কর্পোরেশনের কতিপয় কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে জনগণের ভোগান্তি করছে। দুর্গন্ধে রাস্তা থেকে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। যেভাবে হোক এটি আলোচনা করে সমাধানের দাবি জানান নগরবাসী।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, ডেইলি মজুরি ভিত্তিক কতিপয় কর্মচারী স্থায়ী কর্মচারীদের মত বেতন বোনাস দাবি করছে। সরকারের সব শেষ পরিপত্র অনুযায়ী তাদের সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও তারা অযৌক্তিকভাবে ঈদ বোনাস সহ নানা দাবি তুলে ধরেছেন। প্রশাসক স্যার মানবিক দিক বিবেচনায় তাদেরকে ১০০০ টাকা করে ১৪০০ শ্রমিককে ইফতার বাবদ দিয়েছেন। সেটি দুস্থ অসহায় গরীবদের ফান্ড থেকে তাদের দেওয়া হয়েছে। দেয়ার পরপরই তাদের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ বোনাস দাবি করছে। কিন্তু এটি পরিপত্রের বাইরে গিয়ে দিতে গেলে অডিট আপত্তির মুখে পড়তে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চলতে হয়। নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু দিতে গেলে সেটি আমার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে দিতে হবে। আমার অবসর ভাতা থেকে কেটে নিবে। তদুপরি আমরা যতটুকু পারি দিয়েছি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দেয়া তো সম্ভব না। তবে আজ বিকেলে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দেখে কিভাবে সমাধান করা যায়। পরে উভয় পক্ষের শান্তিপূর্ণ বৈঠকে দাবিদাওয়া আংশিক মেনে নিয়ে নেয়ায় সমস্যা সমাধান হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে নতুন কয়েকটি নৌরুটে লঞ্চ ও স্টিমার সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে পাঠানো এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা বলা হয়। ১৭ মার্চ এসব রুটে নিয়মিত নৌযান চলাচল শুরু হবে বলে তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, কাঞ্চন ব্রিজ–সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে শিমুলিয়া-ডেমরা-চাঁদপুর-বরিশাল এবং ঢাকার বছিলা লঞ্চঘাট থেকে বছিলা-সদরঘাট-ইলিশা-গলাচিপা নৌরুটেও লঞ্চ–স্টিমার সার্ভিস চালু করা হবে।