দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন থেকে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানা গেছে।

রিটার্নে উল্লেখিত ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচার-প্রচারণায় সাড়ে ৫ লাখ, পরিবহন বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার, জনসভা আয়োজনের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ও নির্বাচনি ক্যাম্প পরিচালনায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

এছাড়া, এজেন্ট ও অন্যান্য স্টাফদের জন্য সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। সেই সঙ্গে আবাসন ও প্রশাসনিক খাতে ৬৬ হাজার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ অথবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা বা যেটি বেশি হবে, সেই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব (ফরম-২২) দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ অনুসারে নির্ধারিত ফরমে হলফনামাসহ এই রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং এর অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বৈশ্বিক বিনিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট আইএফডি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা। ক্যামেরুনের রাজধানী ইউয়ান্দিমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের এ সিদ্ধান্তের ফলে চুক্তিটির সহ-স্পন্সর দেশের সংখ্যা বেড়ে ১২৯টিতে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইএফডি একটি (দুইয়ের অধিক কিন্তু বহু পাক্ষিক) চুক্তি, যেখানে সব সদস্য নয়, বরং আগ্রহী দেশগুলো অংশগ্রহণ করে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, নীতিগত স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। চুক্তিটি ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন (এমএফএন)’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, অর্থাৎ এর সুবিধা সব সদস্য দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও বাধ্যবাধকতা থাকবে শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ওপর। এর আগে গত ১৭ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইএফডি চুক্তিতে যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তবে চুক্তিটি নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ভারত আইএফডি চুক্তিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পিউশ গোয়েল মনে করেন, এটি সংস্থার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

অন্যদিকে চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ চুক্তিটিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাঠামোর আওতায় আনতে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। এর আগে তুরস্ক তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করে এতে যোগ দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ প্রবাহ ধরে রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কার, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার চাপও বাড়বে।

বাংলাদেশের সাবেক বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য এক আলোচক বলেন, ‘(দুইয়ের অধিক কিন্তু বহু পাক্ষিক) চুক্তিগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। এ ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুযোগের পাশাপাশি দায়বদ্ধতাও থাকবে। তাই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে নীতিগত প্রস্তুতি জরুরি।’

বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অধীনে ১৮টি (দুইয়ের অধিক কিন্তু বহু পাক্ষিক) চুক্তি রয়েছে বা আলোচনায় আছে, যার মধ্যে ১৬টি সক্রিয়। তবে আইএফডি চুক্তিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পূর্ণ আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা না গেলে এর বাস্তব সুফল পেতে সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড।

সোমবার (৩০ মার্চ) শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা।

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মিলন। পাবলিক পরীক্ষায় নকল ধরতে হেলিকপ্টারে করে আকস্মিক পরিদর্শনে যাওয়ার নজির রয়েছে তার।

তার নেতৃত্বে এবারের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষা কক্ষের মধ্যে এবার সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বর্জ্যমুক্ত ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয় অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকাকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করতে হলে নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি ‘৫০-৫০’ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। নাগরিকরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করেন, তাহলে অর্ধেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। বাকি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে সিটি কর্পোরেশন।

রাজধানীর নগর ভবনে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত ‘রাউন্ড টেবল অ্যান্ড ইউথ-পলিসি ডায়ালগ অন এক্সিলারেটিং জিরো ওয়েস্ট ইন ঢাকা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রশাসক তার বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বাস্তবমুখী রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, নগরবাসীর আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। তিনি উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং কম্পোস্টিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, সরকারের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে মাতুয়াইল ল্যান্ড ফিল্ড এলাকায় একটি আধুনিক ‘ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

জনসচেতনতার অভাবকে বর্জ্য সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩০ মার্চ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস পালন করা হয় ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান সেটলমেন্টস প্রোগ্রাম-এর উদ্যোগে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘খাদ্য অপচয় রোধ’, যা টেকসই ভোগ ও উৎপাদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। তারা ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘১১ দিনে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেলে। অথচ সেখানকার পরিচালক আমাদের জানাননি যে তার কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু গতকাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে তা–ই সত্য। তিনি আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।’

সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যক্তি উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার থেকে দ্রুত কিনে দেওয়া কঠিন ব্যাপার। আমি ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দু-একজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সহায়তায় আজ জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কিনে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারি টাকায় নয়, বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। আজ আরও দুটি ভেন্টিলেটর ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’

চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা (মেডিকেল এথিকস) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা করে। তাই তাদেরকে আচরণ, কথা ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকায় দেখি, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতর সুতা রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে ব্যথায় রোগী কষ্ট পান। এগুলো কেন হয়? চিকিৎসকেরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকেন বা খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন, তখন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এই বিষয়গুলো চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।’

একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা নর্থের এক জায়গায় প্র্যাকটিস করতেন এমন একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট আছেন—দেখতে খুবই সুদর্শন, ব্যাকগ্রাউন্ড সেনাবাহিনীর। নারীরা গেলে তিনি রোগের কথা না শুনে নিজের ইচ্ছামতো গল্প করতেন, গান গাইতেন। এসব করা মেডিকেল এথিকসের পুরোপুরি বাইরে।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজের চিকিৎসা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে দেশীয় অনেক চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল বিশেষ জুতা (অর্থোপেডিক শু) ব্যবহার করে ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনাদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিকেল জার্নালগুলো পড়তে হবে।’

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মাঝে সংক্রামক রোগ ‘হাম’ ছড়িয়ে পড়ছে। এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করে হাম রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত রাজশাহী সিটির ১ এবং পাবনার ২ শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ২৬ মার্চ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আট মাস বয়সী জান্নাতুল মাওয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সাত মাস বয়সী হুমায়রা, একই জেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নয় মাস বয়সী ফারহানা এবং কুষ্টিয়া সদরের পাঁচ মাস বয়সী হিয়াকে হাসপাতালের আইসিইউতে নিতে বলা হয়। হাসপাতালের রেজিস্টারে সবার রোগ ‘হাম’ উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে হুমায়রা ও ফারহানা শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালেই মারা যায়। অন্য দুই শিশুকে এখনও সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপতালের (রামেক) ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জান্নাতুল মাওয়াকে একটি বেডে রাখা হয়েছে, যেখানে পর্যায়ক্রমে অন্য শিশুদেরও এনে ক্যানোলা করা হচ্ছে। শিশুটির নানি ফরিদা বেগম জানান, আইসিইউতে তাদের সিরিয়াল ২৯ নম্বরে। শিশু হিয়ার বাবা রিফাত জানান, তার মেয়ের অবস্থাও সংকটাপন্ন, অথচ আইসিইউতে নেওয়ার জন্য তাদের সিরিয়াল ৩২ নম্বরে। রামেক হাসপাতালের শিশুদের জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১২টি। এই আইসিইউ সুবিধাও সরকারি নয়। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজশাহীর বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, সম্প্রতি একদিনে তাদের হাসপাতালে ৭৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল, এদের মধ্যে ৬০ জনের মধ্যে হামের লক্ষণ ছিল। এর আগের দিন ভর্তি হওয়া ২৮ জনের মধ্যে ২০ জনের একই উপসর্গ পাওয়া যায়। তারা শিশুদের লক্ষণ দেখে হাম সন্দেহ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং তাতে রোগীরা সুস্থও হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগ উল্লেখ করা হলেও ‘হাম’ শব্দটি অনুপস্থিত। এতে রোগটির প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়াই মাস বয়সী জহির নামের এক শিশুর মৃত্যু সনদে ‘হাম’-এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। শিশুটির মা জেসমিন খাতুন জানান, তার সন্তানকেও আলাদা না রেখে সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মাথায় গত ১৮ মার্চ সকালে শিশুটি মারা যায়।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান সূত্রে জানা যায়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। পরে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫৩ জনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে। এতে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ছোঁয়াচে এ রোগ শনাক্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, হাম পজিটিভ ও উপসর্গ থাকা শিশুদের হাসপাতালে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অন্য শিশুদের মাঝে সংক্রমক রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক দেখা গেছে। শিশুদের ওয়ার্ডে অন্য সব শিশুর মাঝে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদেরও চিকিৎসা চলছে।

অথচ চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমন রোগীদের আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থায় রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে। রাজশাহীতে একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে রামেক হাসপাতাল থেকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে যে সমস্ত রোগী আমাদের এখানে আসে, তাদের সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’ কিন্তু শুক্রবার (২৭ মার্চ) সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে হামের উপসর্গ থাকা কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তাহলে এখন রোগী নাই।’

তবে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ কোনো কোনো শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকজন শিশুকে আইসিইউতে নিয়েও বাঁচানো যায়নি।

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল এবং চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করছে।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহিদা ইয়াসমিন বলেন, ডব্লিউএইচও এরইমধ্যে ১০টি নমুনায় হাম নিশ্চিত করেছে, বাকি নমুনাগুলোতেও একই লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। আলাদা করে চিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নেই। এছাড়া ২০০ শয্যার বিপরীতে ঈদের আগে ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজশাহী অঞ্চলে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানা যায়। ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর পরেও আরও কিছু শিশুর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এবং আরও নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলাতেই শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও পাবনায় রোগী বাড়ছিল। এখন একটু কমছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পাবনা রওনা হয়েছেন। এর আগে ২৩ মার্চ তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ওই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৪ জন শিশু হাসপাতালটিতে ভর্তি ছিল। এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা আগে কম ছিল, এখন বাড়ছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সারাদেশের মতো বরিশালেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে হাম সংক্রমিত শিশুর সংখ্যা। দিনে দিনে এ রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তবে বরিশালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টিকার ব্যবস্থা থাকলেও নেই চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা। রয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে শয্যা সংকটও। একই বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে অন্য রোগে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে এসেও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের তৃতীয় তলায় ২টি ইউনিট নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটিতে এক বেডে ৩ জন শিশুকে চিকিৎসা নিতেও দেখা গেছে। এ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া ও রোগটি ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুদের নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন স্বজনরা। ওয়ার্ডে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক বেড থাকায় চরম ভোগান্তিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন সবাই। এছাড়া হাম ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের একই বেডে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। ফলে রোগটি সংক্রমণের শঙ্কা করছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সবাই।

হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন সালেহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার সন্তান টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে হাম আক্রান্ত এক শিশুর সঙ্গে একই বেডে দেওয়া হয়। এরপর তার সন্তানও হামে আক্রান্ত হয়। এ ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডটিতে সচরাচর যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের কথা, সেটিও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

জানা গেছে, হাম ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ৭৮টি বেড রয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত ওয়ার্ডটিতে ১৯৬ জন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। ফলে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর হাম আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৩০ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৯ জন। যার মধ্যে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়ায় ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জাগো নিউজকে বলেন, হামের টিকা সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়স হলে দেওয়া হয়। কিন্তু ইদানীং ৭ মাস বয়সেই শিশুরা এ রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হামের টিকা সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। অথচ ৭ মাস বয়সেই শিশুরা হাম আক্রান্ত হচ্ছে। তাই শিশুদের ৯ মাসের পরিবর্তে কেন ৭ মাস বয়সে টিকা দেওয়া যাবে না এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা দরকার। এছাড়া হাম রোগ একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই এই রোগটির সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মজুতদারি ও অনিয়ম ঠেকাতে বরিশাল জেলার ২৯টি পেট্রল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসারদের পর্যবেক্ষণে ৯ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজ করবেন।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী- ট্যাগ অফিসাররা সংশ্লিষ্ট পাম্পে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত, কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে কাজ করবেন।

তথ্যানুযায়ী, বরিশাল সদর উপজেলায় নথুল্লাবাদ, নতুনবাজার, সাগরদী, রূপাতলী, দপদপিয়া ও চরকাউয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত একাধিক ফিলিং স্টেশনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে বরিশাল অটো সার্ভিস ফিলিং স্টেশন, ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশন, কলেজ রোড ফিলিং স্টেশন, ডোস্ট ফিলিং স্টেশন, লিলি ফিলিং স্টেশন, রূপাতলী ফিলিং স্টেশন, হাজী ফিলিং স্টেশন, তুরাগ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সার্ভিস, শাওন ফিলিং স্টেশন, শেখ ফিলিং স্টেশন, ইছাকাঠী ও রাব্বি ফিলিং স্টেশন, সারা ফিলিং স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতে এসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

উজিরপুর উপজেলায় ইউনিক ফিলিং স্টেশন, কামিনি, সাকুরা, সাজু ও মহিউদ্দিন ফিলিং স্টেশনে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলায় আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলায় আরিফ, আশোকাঠী, মা ও সেন্ট পিটার্স ফিলিং স্টেশনে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও সমবায় কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় হাওলাদার, মিশু, জোবায়দা ও এম খান ফিলিং স্টেশনে খাদ্য নিয়ন্ত্রক, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার করা হয়েছে।

তথ্যমতে, সম্প্রতি বরিশালের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে জ্বালানি তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। অনেক স্থানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ তেল নিতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ট্যাগ অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দ্রুতই জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ঢাকা-বরিশাল-আমুয়া রুটে চলাচলকারী ‘বরিশাল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি এবং চলন্ত গাড়ি থেকে এক যাত্রীকে ফেলে আহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের পর নির্ধারিত ৬০০-৭০০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া টিকিট কাটার পরও আসন না দেওয়া এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী মনিরুজ্জামান জানান, গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তিনি আমুয়া কাউন্টার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় টিকিট কেটে ঢাকার গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে তালতলা বাজারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে তিনি থামার সংকেত দেন। কিন্তু বাস না থামানোয় তিনি বাধ্য হয়ে চলন্ত বাসে ওঠার চেষ্টা করেন।

তার অভিযোগ, বাসে ওঠার পর সুপারভাইজার তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে নিচে ফেলে দেন। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মনিরুজ্জামান এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে আমুয়া কাউন্টার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে বরিশাল এক্সপ্রেসের ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এর বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার দায়ী থাকবে। এছাড়া যে স্টাফ যাত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মকবুল হোসেন বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঘরের সিলিং থেকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর নাম জিন্নাত আরা বেগম (২৬)। তিনি বাঁশখালী উপজেলার জলদি মিয়ার বাজার এলাকার মো. হোসেনের মেয়ে। দুই বছর আগে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ গ্রামের মো. ওমর ফারুকের (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আট মাস বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে।

গৃহবধূর স্বজন আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বাবার বাড়ি বাঁশখালী থেকে আনোয়ারার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন জিন্নাত আরা। এরপর স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। আজ সকালে স্বামী বাইরে গেলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন জিন্নাত। স্বামী ফিরে এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান। এরপর তিনি ঘরের চালের টিন খুলে ভেতরে ঢুকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে জিন্নাতের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

নিহত জিন্নাত আরার বাবা মো. হোসেন বলেন, ‘বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখা নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ কারণে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি মামলা করব।’

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় স্বামীকে আটক করা হয়েছে।’