দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দীর্ঘ যানজটের দুর্ভোগের দৃশ্য প্রায় প্রতিদিনের। আর ঈদ এলে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কখনও কখনও এমনও হয় যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, অথচ তার কারণও জানা নেই। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর এই মহাসড়ক। চার লেনের প্রশস্ত রাস্তা হলেও পথ চলতে অবস্থাপনা চোখে পড়ে মহাসড়কের পরতে পরতে।

সড়কে হঠাৎ গাড়ি নষ্ট হলে মুহূর্তেই দীর্ঘ জটলার সৃষ্টি হয়। সেইসঙ্গে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে সেতুগুলোতে টোল আদায় ও অটোরিক্সা এবং সিএনজির দৌরাত্ম্য তো আছেই; যার ফলে মহাসড়কে হুটহাট দূরপাল্লার গাড়ির গতি কমাতে বাড়াতে হয়, ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাছাড়া এবার জ্বালানি সংকটে এবার যানজট আরও বাড়ার শঙ্কাও আছে। কেননা, ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন মূল সড়ক দখলে নেয়।

মহাসড়কে জ্যামে আটকেপড়া একজন চালক জানালেন, এই লাইনে লাইনে দেখা যায় একজনে ডাইনে লয়, আরেকজনে ডাইনে লয়; লইতে লইতে রাস্তা শেষ। এ জ্যাম ঠেইলা সামনে গিয়া আরেক পাম্পে দেখি একই অবস্থা। আরেকজন জানান, আমরা সর্বোচ্চ ৮০ স্পিড ম্যানটেইন করি। কিন্তু ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধীরগতি হওয়ার কারণে একটা লম্বা জ্যাম লেগে যায়।

সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়, সায়েদাবাদের মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এবং নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল ও আদমজী সড়ক। অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা, উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো অসঙ্গতি ফলে বাড়ছে দুর্ভোগ।

ঈদ এলেই যানজট নিরসনে সড়কে নীতি নির্ধারকদের দৌঁড়ঝাপ বেড়ে যায়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, অতীতের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা হবে অনেকটা নির্বিঘ্ন।

চ্যানেল 24-কে তিনি বলেন, এখানে যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার, আমরা গত সাত দিন ধরে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিং, সংস্থাগুলোর মধ্যে মিটিং; দায়িত্বে যারা আছে, কে কী কাজ করবে ডিস্ট্রিবিউট করেছি। অর্থাৎ ঈদ উপলক্ষে একটা বিশেষ প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আমি মনে করি, মানুষ একটা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাড়সকের অবকাঠামোগত তেমন কোন ত্রুটি নেই। শুধুমাত্র অবস্থাপনার কারনেই বছরের পর বছর ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, এখানে যানবাহনের গতি আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেই জায়গাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অনেকটা হটস্পট বলব—সেখানে দুইপাশে হাটবাজার। এ ছাড়া টোলপ্লাজার অক্ষমতার কারণেও যানবাহনের সাড়ি তৈরি হয়। সারা বছরের যানজটের মূল কারণ হলো অব্যবস্থাপনা।

সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের পাশাপাশ আইন বাস্তবায়নে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরে মেগাসিটি ঢাকাও বায়ুদূষণের কবলে। বেশ কিছু দিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথমদিকেই রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ছুটির দিন শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকার বাতাস ছিলো ‘অস্বাস্থ্যকর’। তবে শুক্রবার রাতের বৃষ্টির কারণে আজ শনিবার অনেকটা পরিষ্কার ঢাকার বাতাস।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান ২০তম। এই শহরের বায়ুমানের স্কোর ১০০। এই স্কোর মোটামুটি ভালো হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

শুক্রবার তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের লাহোরের অবস্থান আজ দ্বিতীয়। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ২২৮, যা খুব অস্বাস্থ্যকর। আর গতদিন তালিকার শীর্ষে থাকা দেশটির আরেকটি শহর করাচির অবস্থান আজ পঞ্চম। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ১৬১। দূষণের মাত্রা কমলেও করাচির বাতাস অস্বাস্থ্যকর।

অন্যদিকে, ১৯২ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। শহরটির বায়ুমানের স্কোর অস্বাস্থ্যকর। দেশটির আরেকটি শহর কলকাতার অবস্থান সপ্তম। এই শহরের স্কোর ১৫৮।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করছেন বাড়ি ফেরা মানুষ। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গতকাল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। ঝামেলা এড়াতে পরিবারের নারী ও বয়স্করা আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও কয়েকটি ট্রেন ১৫-২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে।

হুইসেল বাজিয়ে সামনে গড়ায় ট্রেন, কামরার ভেতরে বসে বাড়ি ফেরার স্বপ্নে যেন বিভোর থাকে শিশু থেকে বৃদ্ধি সবাই। কেননা এই দিনটির জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষা করেন ঢাকাবাসী।

নিজ আঙ্গিনায় চেনা মানুষদের সঙ্গে ঈদের মুহূর্তগুলো রঙিন করার প্রত্যাশা তাদের। সন্তানের আনন্দে নিজেদের আনন্দ খুঁজে পান বাবা-মা। ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ছুটে যান অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বিভিন্ন গন্তব্যে ৪০টি ট্রেন যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। ১৬ তারিখ থেকে চলবে বিশেষ ট্রেন।’

ঈদের ট্রেন যাত্রার দ্বিতীয় দিনে এসে কয়েকটি ট্রেন ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। যদিও শিডিউল বিপর্যয় হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সংস্থাটি আভাস দিয়েছে।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে।

পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিম/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সেই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এদিকে সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেডর্ক করা হয়েছে ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

গত ১ সপ্তাহ আগেও দেশের অন্যতম পাইকারী বাজার বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজার টির বিভিন্ন সবজি জাতীয় বিভিন্ন জিনিসের দাম চড়াও ছিল। সেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা থেকে ৪ টাকা কমে গেছে, পেয়াজ প্রতি কেজি ২৫-২৬ টাকা যেখানে ছিল তা পরিবর্তীত হয়ে ২০-২১ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন আট থেকে দশ টাকায় এবং লেবুর কেজি যেখানে ১২০ টাকা ছিল সেখান থেকে নেমে ৪০-৫০ টাকা কেজি হয়ে যাওয়ার কারণে এখন পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের পুজি হারাতে বসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত কাল শুক্রবার সকালে পাইকারী বাজারে গেলে আল্লাহ ভরসা সবজির আরতে প্রোঃ মোঃ একলাছ উদ্দিন সহ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে যা পিয়াজের প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি আসার কারনে এর দাম একেবারেই কমে গেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েক জন ব্যবসায়ী জানান, কৃষকের জমিতে প্রতি কেজি বেগুন ৫ টাকা হারে পরলে তারা সেই বেগুন ৭-৮ টাকা বিক্রি করেন এবং আলু প্রতি কেজি ১০-১২ টাকা হারে বিক্রি করছেন। এতে করে তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা লোকশান গুনতে হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা আরও বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে ঐতিহ্যবাহী পিরিজপুর পাইকারী বাজারটি তার সুনাম একেবারে ধুলাই মিশে যাবে বলে উল্লেখ করেন। এর ফলেও ঢাকা চট্রগ্রাম ময়মনসিংহ ভৈরব সহ বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে এ বাজার থেকে সবজি কিনে নিয়ে যান। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বাগেরহাটের রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কনেসহ তিনজনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে। বিয়ের উৎসবের বাড়িতে একদিন বাদেই শোকের মাতম। আপনজনদের হারিয়ে একদিনে স্বজনদের আহাজারিতে যেমন পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে তেমনি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, একদিন আগেও যে বাড়িতে বাজছিল বিয়ের সানাই, ছিল হাসি-আনন্দ আর উৎসবের আমেজ, মাত্র এক রাতের ব্যবধানে সেই বাড়িতেই এখন বুকফাটা কান্না। বিয়ের সাজে নতুন জীবন শুরু করার কথা ছিল মিতু ও সাব্বিরের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—বিদায়ের গাড়িতেই শেষ হয়ে গেল তাদের পথচলা। একদিনের ব্যবধানে আনন্দের বাড়ি পরিণত হলো শোকের বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন কয়রার মেয়ে মিতু আক্তার ও মোংলার যুবক সাব্বির। সারাদিনের আয়োজন শেষে রাতভর ছিল বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়-স্বজনের ভিড় আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। রাতটা কনের বাড়িতেই কাটান বরপক্ষের সবাই। সকালে ছিল বিদায়ের মুহূর্ত। হাসি, কান্না আর নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে নববধূকে নিয়ে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় মাইক্রোবাসটি।

একই গাড়িতে ছিলেন নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা। পরিবারের সবার মুখে তখনও ছিল বিয়ের আনন্দের রেশ। কিন্তু কেউ জানতো না, সেই যাত্রাই হবে জীবনের শেষ পথচলা। বাগেরহাটের রামপালে পৌঁছাতেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বিয়ের যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির। মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় গাড়ি—একে একে নিভে যায় ১৪টি তাজা প্রাণ।

নিহত নববধু মিতু আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মিতুর ছোট বোন লামিয়া একই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত বর আহাদুর রহমান ছাব্বির মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে। আবদুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। এ দুর্ঘটনায় তার দুই ছেলে, মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি মারা গেছে।

শুক্রবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শেহলাবুনিয়ার ছাত্তার লেনের বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের ভিড়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার খবর শুনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। শোকে স্তব্ধ সবাই। আবদুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত চার নারীর মরদেহ। পাশে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাকি পাঁচজনের মরদেহ। পরে জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।

কনে মিতু আকতারের খালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার বোনের তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে মিতু আকতার, মেজো লামিয়া ও সবার ছোট ইসমাইল। বোনের সঙ্গে তার নতুন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছোট ভাই ইসমাইলও বায়না ধরেছিল সেদিন। কিন্তু গাড়িতে জায়গা না হওয়ায় যেতে পারেনি।

নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠা মোংলাতেই। তবে গ্রামের বাড়ি কয়রায়। রাজ্জাক ভাই তার মেয়েরও বিয়ে দিয়েছেন কয়রায়। এই ছেলেরও সেখানে বিয়ে দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনায় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই সহোদর ভাই জখম হয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর হার্ড মেটাল গ্যালারির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতরা হলেন মো. মিলন হাওলাদার (৩৮) ও তাঁর ভাই মো. ওহিদ হাওলাদার (৩৬)। তাঁরা দুজনে রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের খান মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আদম আলী হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, মিলন ও ওহিদ হার্ড মেটাল গ্যালারির সামনের ফুটপাতে জুতা বিক্রি করেন। ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁদের দুজনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। উপস্থিত অন্য ব্যবসায়ীরা তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। অহত দুজন চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

সিলেট নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ।

এই নির্দেশনা কার্যকর হবে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত থেকেই। আর নির্দেশনাটা হল হেলমেট ব্যবহার সংক্রান্ত।

গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ পিপিএম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, সিলেট মহানগর এলাকায় কোনো মোটরসাইকেল চালক টিনটেড ভাইসর হেলমেট ব্যবহার করতে পারবেন না। এ জাতীয় হেলমেটের কারণে অপরাধী সনাক্তে অনেক সময় বেগ পেতে হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিকল্প হেলমেট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, পরবর্তী ৩ দিন পর যে টিনটেড ভাইসর হেলমেট ব্যবহার করবে- তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই তিনদিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছাসংবলিত বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে নগরের সৌন্দর্য বিনষ্ট না করার জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাসহ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সিটি প্রশাসক জানান, ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর নামে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, ফুটপাত, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দেয়ালে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানোর প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এতে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং অনেক সময় পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নগরের যেখানে-সেখানে ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ড লাগালে শহরে নান্দনিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই সিলেট একটি পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যমণ্ডিত নগর হিসেবে গড়ে উঠুক।’

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘নগরের সৌন্দর্য রক্ষা করা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়, এটি সব নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে নগরের পরিবেশ ও সৌন্দর্যের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট একটি ঐতিহ্যবাহী ও পর্যটনসমৃদ্ধ নগর। এই নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও সুন্দর সিলেট নগর গড়ে তুলি।’

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পালশা থান্দারপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের পুরোনো এক গম্বুজবিশিষ্ট একটি মসজিদকে ঘিরে নানা রহস্যের গল্প ছড়িয়ে আছে স্থানীয়দের মুখে মুখে। এলাকাবাসীর দাবি, মোগল আমলে নির্মিত এই প্রাচীন স্থাপনাটিতে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদে আজান শুরু হলেই আশপাশে সাপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো—আজান শেষ হওয়ার পরপরই সাপগুলো আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

এছাড়াও অনেক সময় গভীর রাতে কিংবা ফজরের আগ মুহূর্তে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। তখন মনে হয় যেন একসঙ্গে অনেক মানুষ ওজু করছেন। কিন্তু কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান জানান, তিনি নিজেও বহুবার এমন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছেন।

স্থানীয়দের কাছে এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিনের পরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে তা বেশ বিস্ময়ের। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এলাকাবাসীর দাবি—এ ঘটনাগুলো তারা বহু বছর ধরেই প্রত্যক্ষ করে আসছেন।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ছোট্ট এই এক গম্বুজ মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলী বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ ও বসতবাড়িতে অনেক পরিবর্তন এলেও মসজিদটির প্রাচীন কাঠামো অনেকটাই আগের মতোই রয়েছে।

মসজিদের দীর্ঘদিনের খাদেম আনসার আলী মৃধা গণমাধ্যমকে জানান, বহু বছর ধরে তিনি মসজিদটির দেখভাল করছেন। এ সময় তিনি মাঝেমধ্যেই এমন অদ্ভুত ঘটনার কথা শুনেছেন এবং কিছুটা অনুভবও করেছেন।

তিনি বলেন, শুধু সাপের উপস্থিতিই নয়—মাঝে মাঝে গভীর রাতে বা ফজরের আগে মসজিদের ওজুখানার দিক থেকে পানির শব্দ শোনা যায়। মনে হয় যেন কেউ ওজু করছেন, কিন্তু কাছে গিয়ে কাউকে দেখা যায় না।

এলাকার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস মাস্টার, ইমরান ও কাবেদ আলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা এই মসজিদকে ঘিরে নানা গল্প শুনে আসছেন। কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রাচীন মসজিদের রহস্যময় পরিবেশেরই অংশ।

স্থানীয়দের মতে, এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; বরং এটি এলাকাবাসীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। একসময় ছোট্ট এই মসজিদে একসঙ্গে মাত্র সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন।

বর্তমানে মসজিদের পাশেই একটি নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পুরোনো মসজিদটি এখনো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এলাকার অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে মান্নত করলে মনের আশা পূরণ হয়। তাই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ এখানে আসেন নামাজ আদায় করতে কিংবা প্রাচীন এই স্থাপনাটি এক নজর দেখতে।

সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি আজও বহন করছে ইতিহাস, বিশ্বাস ও রহস্যের এক অনন্য মেলবন্ধন।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংস্কার করা হলে এটি একদিকে যেমন ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে, তেমনি দর্শনার্থীদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।