দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

পদ্মায় একসময় ছিল স্বচ্ছ পানির ধারা। এখন পানি আলকাতরার মতো কালো। রাজশাহী নগরীর বর্জ্য যাচ্ছে নদীতে। এটি ছাড়াও স্বরমঙ্গলা, বারাহী, নবগঙ্গা, বারনই ও হোজা নদী এবং এগুলোর সংলগ্ন অন্তত ছয়টি বিল দূষিত হচ্ছে নগরীর অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে।

হাসপাতাল এবং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যও যাচ্ছে নদীতে। এই পানি ব্যবহার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের শরীরে দেখা দিচ্ছে চর্মরোগ। দূষিত পানি কৃষি জমিতে ছড়িয়ে পড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

পদ্মা ছাড়া অন্য পাঁচটি নদী ধীরে ধীরে বর্জ্যবাহী নালায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহী নগরী ও আশপাশ দিয়ে বয়ে গেছে এগুলো। বারাহী নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে বায়া বাজার হয়ে বারনই নদীতে মিশেছে। একইভাবে স্বরমঙ্গলা ও নবগঙ্গা নদীর সব বিষাক্ত বর্জ্য শেষ পর্যন্ত পবা উপজেলার বায়া এলাকায় বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। নদীর মোহনায় গিয়ে দেখা যায়, কুচকুচে কালো পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক, পলিথিন আর কেমিক্যাল মিশ্রিত ফেনা। স্থানীয়দের দাবি, এই দূষণ নাটোরের চলনবিল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।

পদ্মা থেকে নিউমার্কেটের কাছ দিয়ে বারাহী নদী বয়ে গেছে। নদীটি নগরীর মুন্নুজান স্কুলের পাশ দিয়ে পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়ে সিটি ভবনের পশ্চিম পাশ দিয়ে রেলভবন, পলিটেকনিক, বিজিবি ক্যাম্প হয়ে বায়াবাজার দিয়ে বারনই নদীর সঙ্গে মিলেছে। বারাহী নদীতে এক সময় পালতোলা নৌকা চলত। জেলেরা মাঝ ধরত। নদীটি এখন মৃত। সিটি করপোরেশনের সব বর্জ্য পানি ও মেডিকেল বর্জ্য এই মৃত নদীতে সরু খালের মতো প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে বারনই নদীতে। এলজিইডি ২০২৩ সালে নদীটির নাম পাকুরিয়া খাল হিসেবে উল্লেখ করে বায়া আফিনেপালপাড়ায় ২৪ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু করেছে। এই সেতুর নিচে মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায় শহরের কালো বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়ে মিশে যাচ্ছে বারনই নদীতে। বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে সাদা ফেনা বয়ে যাচ্ছে। পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এই নদী প্রসঙ্গে গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘এক পয়সা দিয়ে বারাহী নদী পার হয়ে স্কুলে যেতাম। নদীটি এখন শহরের বর্জ্য বয়ে যাওয়ার ড্রেন।’

ঝুঁকিতে কৃষক, জেলে ও নদীপারের মানুষ
পাকুরিয়া সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সাদা ফেনা ওঠা বর্জ্য পানি। এই পানি গিয়ে মিশছে বারনই নদীতে। সেতুর নিচে পেঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করছিলেন কৃষক মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘এটা বারাহী নদী। আগে এখানে বড় বড় মাছ হতো। পানি পরিষ্কার ছিল। চাষিরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হলে দুই হাতে তুলে এই পানি পান করত। কিন্তু এখন দূষণের কারণে মাছ, শামুক, ঝিনুক এমনকি সাপ পর্যন্ত মরে যায়।’

শুধু বারাহী নয়, দূষণ হচ্ছে আরও নদী ও বিল। নগরীর পূর্ব পাশের স্বরমঙ্গলা নদী রুয়েট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝ দিয়ে খড়খড়ি, রামচন্দ্রপুরহাট হয়ে ফলিয়ার বিলে মিশেছে। এটিই পরে ফলিয়ার বিলে গিয়ে হোজা নদী নামে পরিচিতি পায়।

চর্মরোগে আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ
পবা উপজেলার বারনই নদীর কাছে গিয়ে দেখা যায়, নওহাটা শ্মশানঘাটের পাশ দিয়ে নদীতে পড়ছে বর্জ্য পানি। সাদা ফেনা ওঠা পানিতে কয়েকটি শিশু খেলা করছে। স্থানীয় জেলে সুমন হলদার বলেন, নদীর পানি শরীরে লাগলে দাউদ, একজিমাসহ নানা রকম রোগ হয়। পবার পুঠিয়াপাড়ার বাসিন্দা রিজিয়া বিবি এই পানি ব্যবহার করে চর্মরোগে আক্রান্ত হন। তাঁর বোন আঞ্জুয়ারা বেগম ও তাহেরা বেগম জানান, নদীর পানি ব্যবহার করতেন তারা। বাড়ির সবারই চুলকানি হয়।

পবা উপজেলার বারনই নদী এলাকার বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলী দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলো দূষণমুক্ত করার আন্দোলনে যুক্ত। তিনি বলেন, এই নদী বাঁচাতে হবে।

কারণ এর সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। চাষিরা এখন মাছ পান না। তারা না জেনেই বিষাক্ত পানিতে ফসলে সেচ দিচ্ছেন। এই ফসল যারা খাবেন তাদেরও ক্ষতি হতে পারে।

নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, নদীগুলো এক সময় প্রবহমান ছিল। নৌকা চলত। বারাহী নদীতে এক পয়সা দিয়ে নৌকা পার হয়ে স্কুলে যেতাম। কিন্তু শহর বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এসব নদী এখন খাল। খালগুলো দিয়ে শহরের সব বর্জ্য পানি বয়ে গিয়ে বারনই নদীতে মিশছে। এতে শুধু রাজশাহী নয়, বর্জ্য পানি নাটোরের চলনবিলে গিয়ে মিশে যাচ্ছে। এই এলাকার মাছ ও জলজপ্রাণীর আবাস ধ্বংস হচ্ছে।

চিকিৎসা দিতে পারছে না উপজেলা হাসপাতাল
পবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বারনই নদীর পানি ভয়ংকর রকমের দূষিত। এই পানি যারা ব্যবহার করেন বা যারা মাছ ধরেন তারাই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কোনো পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে সে পরিবারের সবাই আক্রান্ত হন। আমরা একটি পরিবারের ৯ জন আক্রান্ত সদস্য পেয়েছি। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। তারা বিভিন্ন চর্মরোগ যেমন স্ক্যাবিস, দাউদ, একজিমা, সোরিয়াসিসে একই সঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন। পবা উপজেলায় তিনটি নদীর ঘাটে এমন অন্তত তিন হাজার রোগী আছেন। জেলা সিভিল সার্জন এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, নদীর পানি ব্যবহার না করতে তারা মানুষকে সচেতন করছেন।

বর্জ্য পানি শোধনের নেই কোনো ব্যবস্থা
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মামুন ডলার বলেন, ‘শহরের বর্জ্য নদীতে যাচ্ছে না, বর্জ্য পানি যাচ্ছে। এটা শুধু রাজশাহী নয়, সারাদেশের চিত্র। এ জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসাতে হবে। এটা কবে নাগাদ বসানো সম্ভব, তা আমার জানা নেই।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ‘শহরের বর্জ্য পানি শোধনের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানোর একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।’

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ।

কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে।

চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে।

অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ।

রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’

তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’

রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর।

রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদের আগে রাস্তার দুপাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি তিন চাকার বাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনার দাবি বাস চালকদের।

ঈদযাত্রা এবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশে অন্তত ১৫টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব স্থান যানজটমুক্ত করতে না পারলে ভোগান্তি বাড়বে ঘরমুখো যাত্রীদের।

তবে মহাসড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল, বেপরোয়া গতিতে তিন চাকার অবৈধবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিরসনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষদের ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজমোড়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড়, চুরখাই, বৈলর, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, স্কয়ার মাস্টারবাড়িসহ কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে যানজট ভোগান্তি পোহাতে হয়।

রাস্তায় খানা-খন্দসহ মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় এবারও যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা। ঈদের আগে রাস্তার দুপাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি তিন চাকার বাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনার দাবি দূরপাল্লার বাস চালকদের।

তবে যেসব পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তা নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সৌখিন পরিবহনের চালক রানা মিয়া বলেন, সবচেয়ে বেশি যানজট হয় বাইপাস মোড়, ভালুকা এবং স্কয়ার মাস্টারবাড়ি। এসব স্থানের চারপাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, এগুলো উচ্ছেদ না করলে এবারও যানজট ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে।

আরেক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, “১৫ থেকে ২০ বছর ধরে পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আছি। অভিজ্ঞতা বলে এবারও যানজট হবে। আর এর কারণ হলো মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর অদক্ষ চালক এবং তিন চাকার পরিবহন। প্রত্যেক ঈদকে ঘিরে রাস্তায় অনুমোদনহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রশাসনকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”

তিন চাকার অটোরিকশা চালক মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা মহাসড়ক ব্যবহার করে ময়মনসিংহ থেকে ত্রিশাল ও ভালুকায় প্রতিনিয়ত যাতায়াত করি। পেটের তাগিদে তা করতে হচ্ছে।

“তবে আমাদের কারণে কোনো যানজট হয় না। ঈদে প্রতিটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, যার কারণে যানজট হয়। কিন্তু দায় চাপানো হয় আমাদের ওপর।”

এ বিষয়ে সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ হওয়ায় এখান থেকে চারদিকে মানুষ যাতায়াত করে। যার কারণে প্রতিবছর রাস্তায় অসংখ্য পরিবহন দেখা যায়।

এতে চাপ বাড়ায় দীর্ঘ যানজটে মানুষকে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গুণতে হয় অতিরিক্ত ভাড়াও। এসব বিষয়ে প্রশাসন তৎপর না হলে এবারও ভোগান্তি পোহাতে হবে ঘরমুখো যাত্রীদের।

মহাসড়কে তিন চাকার বাহনের জন্য কোনো ধরনের যানজট হয় না দাবি করে অটোরিকশা চালকরা বলছেন, বাস চালকরা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজনৈতিক সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের কথা জানিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার ময়মনসিংহের সব রাস্তা এখনো পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী রয়েছে।

তবে রাস্তার কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে মোবাইল টিম সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করবে। আশা করা যাচ্ছে রাস্তার কারণে কোথাও যানজট হবে না। তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকায় যানজট হয়।

মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। তবে যেসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব জায়গায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহে ডাকাতি হওয়া ট্রাকভর্তি ১৯টি গরু উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। আজ বুধবার ভোরে গাজীপুর মহানগর এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।

জিএমপি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার হওয়া ট্রাক ও গরুগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকসহ ১৯টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ট্রাকে থাকা গরুর মালিক, রাখাল, হেলপার ও চালককে হাত-পা বেঁধে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ফেলে রেখে ট্রাকটি নিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।’

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায়। একপর্যায়ে গরুসহ ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে টহল দল ট্রাকটিকে থামার সংকেত দেয়।

কিন্তু ডাকাতদল পুলিশের সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিলে গরু-ট্রাক মহাসড়কের পাশে ফেলে ডাকাতদল পালিয়ে যায় বলে জানান ওসি আমিনুল।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গাজীপুর। এ জেলায় থাকা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে উত্তরাঞ্চলসহ প্রায় ৩২টি জেলার মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন। ঈদ এলে মানুষের ঢল নামে এই মহাসড়কে। নানা দুর্ভোগ সঙ্গী করে পৌঁছাতে হয় গন্তব্যে। নির্মাণাধীন সড়ক, যানবাহনের বাড়তি চাপ, যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে এবারের ঈদেও এ মহাসড়ক হয়ে চলাচলে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে উঠেছে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। এই প্রকল্পের কারণে মহাসড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। এ কারণে স্বাভাবিক সময়ে এ সড়কে যানজট লেগে থাকে। ঈদের সময় যানবাহন বাড়লে জট দীর্ঘ হয়ে কয়েক ঘণ্টাও ছাড়িয়ে যায়। আরেক চিন্তার কারণ সড়কের আশপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও স্থাপনা।

তবে ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ বলছে, ঘরমুখী মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, সড়কের পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, সড়কের ধারে অনিয়মিত পার্কিং বন্ধ ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি করতে চায় পুলিশ।

বিআরটি লেনে সংকুচিত মহাসড়ক
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজ এক যুগের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। দীর্ঘ এ সময়ে ভোগান্তি নিয়েই চলতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঈদ এলেই ভোগান্তি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। বিশেষ করে মহাসড়কের মাঝখানে থাকা বিআরটি লেনের দুই পাশে বেষ্টনী থাকায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও সেই আশঙ্কা রয়ে গেছে।

অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছি। পাশাপাশি মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত যান চলাচল বন্ধে অভিযান চালানো হবে।
আশরাফুল আলম, উপকমিশনার, ট্রাফিক, গাজীপুর মহানগর পুলিশ
গাজীপুর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্দিষ্ট লেনে দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সরকার এ প্রকল্প হাতে নেয়। ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে নির্মিতব্য এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ৪ বছর ১ মাস। প্রকল্পটির মেয়াদ বেড়েছে পাঁচ দফা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিআরটি লেনের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে অনেকটা। এ কারণে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। ঈদে স্বাভাবিক সময়ে গাড়ি চলে অনেক বেশি। তখন এই পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় বলাকা পরিবহনের চালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিআরটির কারণে সড়কে আগের মতো জায়গা নেই। ঈদে গাড়ির চাপ বাড়লে যানজটও তীব্র হয়। অনেক সময় কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ি থেমে থাকে।

সরেজমিন দেখা যায়, গাজীপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটারে বিআরটি প্রকল্পের কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ। চার লেনের সড়কে যানজট শুরু হলে কয়েকটি স্থানে লেন দুটি হয়ে যায়। আবদুল্লাহপুর থেকে আসা যানবাহন টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগ আলী ও কলেজ গেট হয়ে তিনটি লুপ দিয়ে নিচে নামে। এখানে প্রায়ই যানজট থাকে।

অবৈধ বাজার, গাড়ি পার্কিংয়ে ভোগান্তি
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে ঈদের সময় যানবাহনের গতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ অতিক্রম করতে আধা ঘণ্টার মতো সময় লাগলেও ঈদের সময় তা দুই থেকে তিন ঘণ্টায় গড়ায়। বিশেষ করে বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলে প্রবেশ ও বের হওয়া যানবাহনের কারণে এখানে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে মাওনা ও জৈনা বাজার পর্যন্ত গাজীপুরের সীমানায় মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া মাস্টারবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর, বাঘের বাজার, ভবানীপুর, মাওনা, পল্লী বিদ্যুৎ, জৈনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজারের কারণে সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। বিভিন্ন কারখানার বড় লরি ও ট্রাক সড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এ কারণে যানজট যেমন লেগে থাকে, তেমনি ঘটে দুর্ঘটনাও।

মাওনা চৌরাস্তার সংযোগস্থল নিয়েও চিন্তা
শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এখানে ঢাকা-ময়মনসিংহের সঙ্গে মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের সংযোগ রয়েছে। ঈদের সময় দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বাড়লে সেখানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

মহাসড়কের পাশে অসংখ্য শিল্পকারখানা, বাজার ও আবাসিক এলাকা থাকায় স্থানীয় যানবাহনের চাপও কম নয়। রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশা ও লোকাল বাস প্রায়ই মহাসড়কে যাত্রী ওঠানামা করে। এতে দূরপাল্লার যানবাহনের গতি কমে যানজট সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও রাস্তার পাশে অস্থায়ী বাজার বসার কারণেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ঈদ সামনে রেখে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়ানো হবে নজরদারি।

এই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘টঙ্গী, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছি। পাশাপাশি মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত যান চলাচল বন্ধে অভিযান চালানো হবে।’

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সিলেটে বাসদ কার্যালয়ে ব্লক রেইড দিয়ে সংগ্রাম পরিষদের নেতা মঞ্জুর আহমেদসহ ৪০ জনেরও বেশি শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে দমন করতে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। এটি গণতন্ত্র ও শ্রমিক অধিকারবিরোধী।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, আব্দুর রাজ্জাক, ইমাম হোসেন খোকনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অবিলম্বে মঞ্জুর আহমেদসহ গ্রেফতারকৃত সকল শ্রমিক নেতার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান এবং শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

শেষে বিক্ষোভকারীরা টাউন হল চত্বর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছেলের হামলায় পরকীয়ায় আসক্ত বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শামচুল হক ফকির (৬৩) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাকাল বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শামচুল হক ফকিরের ঘরে স্ত্রী থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে পাশের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। স্ত্রী একাধিকবার স্বামী শামচুল হক ফকিরকে এ বিষয়ে নিষেধ করেন। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। তার পরও শামচুল হক ফকির বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীর কাছে বসে মোবাইলে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন।

বাবার পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে শুক্রবার দুপুরে শামচুল হক ফকিরকে বাকাল বাজারে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন ছেলে সাইরুল ইসলাম রনি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় ছেলে রনি তার বাবার ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শামচুল হক ফকিরের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। তাকে নিষেধ করার পরও আমার কথা শোনেনি। এ নিয়ে আমাকে একাধিকবার মারধর করেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ রয়েছে।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিনয় ভূষণ বৈরাগী বলেন, তাদের পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো ঘটনা শুনতে যাইনি বা সমাধান করিনি।

এ ব্যাপারে ছেলে সাইরুল ইসলাম রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শামচুল হক ফকির সাংবাদিকদের বলেন, সাইরুল ইসলাম রনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি দিইনি। তাই আমাকে মারধর করেছে। আমি সুস্থ হয়ে মামলা করব।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশাল নগরীতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা জমে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজার, গির্জামহল্লা, বিবির পুকুর পাড়ের বিপণিবিতানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। নগরীতে গরিবের বাজার খ্যাত হাজী মো. মহসীন মার্কেট এবং সিটি মার্কেটেও ঈদবাজার করতে এসেছেন অনেকে।

ক্রেতারা জানিয়েছেন দাম বাড়লেও তাঁরা এবার কেনাকাটায় কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিক্রেতারা মনে করছেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ঈদের আগে বেচাকেনা আরও চাঙা হবে।

মেরিন জাহান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘শিশুদের জুতার দাম বেশি। এক জোড়া জুতা কিনেছি ১ হাজার ২০০ টাকায়। যা অন্য সময়ে হয়তো এক হাজার টাকার নিচে কেনা যেত।’ আ. রহমান নামের এক ক্রেতা বলেন, দাম নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া উচিত প্রশাসনকে।

দোকানি আজমীর হোসেন বলেন, জর্জেট থ্রিপিস ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সুতি থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। কাতান, জামদানি, ঢাকাই বেনারসি, রাজশাহী সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরিবের বাজার মো. মহসীন মার্কেট এবং সিটি মার্কেটেও শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভিড় দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। সাধ্যের মধ্যে সবাই জামা, প্যান্ট কিনছেন।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বরিশাল নগরের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ দত্ত বলেন, ঈদবাজার বেশ চাঙা। কিন্তু দাম অত্যধিক। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনকে এখনই পোশাক বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। না হয় ক্রেতার পকেট কাটবে ব্যবসায়ীরা।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের সঙ্গে দোল উৎসব করতে মোটরসাইকেলে পাথরঘাটা উপজেলার রূপধন গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার পদে কর্মরত প্রান্ত মন্ডল। ৩ মার্চ ঢাকা থেকে রওনা হয়ে উজিরপুরের ইচলাদি পৌঁছালে একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৪ বছর বয়সি প্রান্ত। প্রায়ই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে। সরু মহাসড়ক, অতিরিক্ত গতি ও যানবাহন বেশি হওয়াকে এজন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত এক সপ্তাহে তিনটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে। সামনে ঈদে মহাসড়কে যানবাহন আরও বাড়বে। এতে দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে মহাসড়ক পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা কমাতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের ভূরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুন হাট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ পাঁচটি এলাকাকে ব্ল্যাক স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পটগুলো হলো গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, ইল্লা, কটকস্থল; উজিরপুরের সোনারবাংলা ও রামগতি। গৌরনদীর বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোর; উজিরপুরের মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদি অংশও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের জয়শ্রী পর্যন্ত মহাসড়কের ডোবা-নালা-খাল ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। খাঞ্জাপুর, ইল্লা বাসস্ট্যান্ড, বার্থী বাজার, কটকস্থল, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বাটাজোর ও বামরাইল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদ সামনে রেখে এসব এলাকায় দুর্ঘটনা রোধে কাজ করতে মহাসড়কে মোবাইল ও টহল টিম বাড়ানোর কথা বলছে জেলা পুলিশ। সাকুরা পরিবহনের দক্ষিণাঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক পলাশ হাওলাদার বলেন, ‘পদ্মা সেতু হওয়ার পর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলাচল বেড়েছে। ঈদের সময় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ সময় ঢাকায় চলাচল করা বাস এ রুটে এসে যাত্রী পরিবহন করে। মহাসড়ক সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা না নিয়ে হঠাৎ করে এসে বাস চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। এদের কারণে অভিজ্ঞ চালকরাও দুর্ঘটনায় পড়েন।’ তাই ঈদের আগে ও পরে দুর্ঘটনা কমাতে হলে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল, থ্রি-হুইলার, নসিমন-করিমন ও ভটভটি চলাচলও বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

গৌরনদী মহাসড়ক থানার ওসি শামীম শেখ বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক চার লেন না করা হলে কোনোভাবেই দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। বর্তমানে মহাসড়ক সরু। প্রচুর যানবাহন চলছে। সব যানবাহনই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে দুর্ঘটনা কমবে।’

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সারাদেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায়; ঢাকা, রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় ও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের শেষের দিকে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।