দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে, মহাসড়কে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে হাইওয়ে পুলিশের সংখ্যা। তবে সেই পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা না দিয়ে মহাসড়কে থাকা অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ডে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সময় পার করছেন। আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রোববার (১৫ মার্চ) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাইওয়ে পুলিশের সামনেই মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে অবৈধ তিন চাকার যান—ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে কিংবা অবৈধ স্ট্যান্ডে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

দায়িত্ব ফেলে রেখে সিএনজির ভেতরে বসে মোবাইল চালানো পুলিশ সদস্যের নাম সজীব এবং অবৈধ অটোস্ট্যান্ডে বসে মোবাইল চালানো পুলিশ কর্মকর্তার নাম রথীন মালাকার।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তখন তাঁরা উল্টো পথে আসা ইজিবাইক চলাচলে বাধা দেওয়ার তৎপরতা দেখান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে পুলিশের উপস্থিতিতেই উল্টো পথে অবাধে চলাচল করছে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি। এসব যানবাহন নিয়ম না মেনে উল্টো পথে চলাচল করায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

আর মাত্র কয়েক দিন পর মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই অনেক মানুষ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অবস্থায় ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করা ইজিবাইক ও অটোরিকশা। সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিতই এসব তিন চাকার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এতে একদিকে যেমন যানজট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের মতে, ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে নিষিদ্ধ এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে ঈদের সময় ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

তবে অটোরিকশাচালকদের দাবি ভিন্ন। তাঁদের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে। যানজটের জন্য এককভাবে তাঁদের দায়ী করাও ঠিক নয়। নিরাপদ চলাচলের জন্য মহাসড়কে অটোরিকশার আলাদা লেন তৈরির দাবি জানান তাঁরা।

অন্যদিকে অনেক যাত্রীও অটোরিকশার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় কম খরচে এবং দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে অটোরিকশাই সহজ মাধ্যম। তাই ঝুঁকি জেনেও অনেকেই এ বাহনে যাতায়াত করেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সদস্য সজীব কথা বলতে রাজি হননি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের সার্জেন্ট রথীন মালাকার বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষের চাপ বেশি থাকে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি উল্টো পথে আসা যানবাহন ঠেকাতে। মাঝেমধ্যে দু-একটি গাড়ি চলে গেলে সেগুলোও ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

ডিউটির সময় মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আর হবে না।’

এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই জুলহাস উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সূত্র আজকের পত্রিকা

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

দেশব্যাপী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচি পলন করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, স্টেশন, ইউনিট এবং সংলগ্ন এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

‎শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

‎বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঢাকা, চট্রগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার, এবং টাঙ্গাইল এ অবস্থিত ঘাঁটিসমূহের এয়ার অধিনায়করা এবং স্টেশন, ইউনিটের (মৌলভীবাজার, শমশেরনগর, বগুড়া) অধিনায়কদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘাঁটি, স্টেশন, ইউনিট এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় সচেতনতামূলক ব্রিফিং, র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ফগিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ, পানি জমে থাকার সম্ভাব্য স্থানসমূহ পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।

পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিসমূহে স্ব স্ব ঘাঁটি, স্টেশন ও ইউনিটসমূহের এয়ার অধিনায়ক এবং অধিনায়কসহ সব পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমান বাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় স্কুল সংলগ্ন জায়গায় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবক আহত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাইফুল দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের প্রয়াত মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে সেনহাটী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী সালমা ইসলাম বাড়ির স্টোর রুমের পাশে পরিত্যক্ত ব্যাগে বৈদ্যুতিক তার সাদৃশ বস্তু দেখতে পান। তিনি বিষয়টি সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী মিন্টুকে ফোন করে জানান। সাবেক মেম্বার ঘটনাস্থলে এসে সাইফুল ইসলামকে নিয়ে একটি বাঁশের মাধ্যমে ব্যাগটি টান দিলে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে সাইফুল স্প্লিটারের আঘাতে সামান্য আহত হন। বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিদর্শন করে।

দিঘলিয়া থানার (তদন্ত ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম (সার্কেল-এ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। কেউ এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এ কাজ করতে পারে। আলামত হিসেবে বিস্ফোরিত ব্যাগ, মোটরসাইকেলের ব্যাটারি, বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর জেলা আউটার স্টেডিয়ামে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

এসময় তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক সমাজ এবং দলীয় হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু জুলাই-আগস্টের গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ী সকল নেতাকর্মী, শহীদ পরিবার এবং মিথ্যা মামলায় নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. প্রফেসর হারুন অর রশীদ খান, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবু, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান, নগর জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম লস্কর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান তুষার, বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক ও সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, কেএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তাজুল ইসলাম, এডিসি ট্রাফিক শাহনেওয়াজ খালেক, টোয়াস’র সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মঈনুল ইসলাম জমাদ্দার, শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মনিরুল হক বাবুল, পূজা উদযাপন পরিষদের গোপী কৃষান মুগ্ধা ও বিপ্লব কুমার মিত্র, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্যফ্রন্ট খুলনা জেলার সভাপতি ডা. প্রদীপ দেবনাথ, নগর মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু ও চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ, বিএনপি নেতা ফকরুল আলম, জাফরউল্লাহ্ খান সাচ্চু, ফুলতলা উপজেলার সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল হোসাইন, এনসিপি’র মোহাম্মদ ফাইজুল্লাহ্ ও ফরিদ আহমেদ পাঠান, ইফতার মাহফিলে খুলনার বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততা ও শারীরিক অসুস্থতার জন্য প্রধান অতিথি মন্ত্রী (রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি, মোহাম্মদ আলি আসগার লবি এমপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীতে শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে মশক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ২১নং ওয়ার্ডস্থ এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত ক্রাশ প্রোগ্রাম কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধনকালে কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রস্তুতিমূলকভাবে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জুড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

তারই অংশ হিসেবে খুলনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে এমনভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে যেন জনগণ স্বপ্রণোদিতভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ কাজে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নর্দমাসমূহ পরিস্কার করবে। কিন্তু জনগণের দায়িত্ব হচ্ছে নর্দমায় এবং যে কোন জলাশয়ে কেউ যেন বর্জ্য না ফেলেন।

তিনি পরিচ্ছন্নতা কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং জনসাধারণকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহবান জানান।
কেসিসি’র এই বিশেষ উদ্যোগের পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বাড়িতে থাকা ফুলের টব, ড্রাম, অব্যহৃত বালতি বা পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। সকলের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই মরণঘাতি রোগের সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো: আরিফুল ইসলাম, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল আলম মনা, কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব আরিফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান ও মো: অহিদুজ্জামান খান, বিএনপি নেতা এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহবুব কায়সার, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাফিজুর রহমান মনি, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, রফিকুল ইসলাম শুকুর, শফিকুল ইসলাম শফি সহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সরকার দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তারা।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন—

বরিশাল সিটি করপোরেশন : অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন

রাজশাহী সিটি করপোরেশন : মো. মাহফুজুর রহমান

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন : মো. রুকনুজ্জামান রোকন

রংপুর সিটি করপোরেশন : মাহফুজ উন নবী চৌধুরী

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন : মো. ইউসুফ মোল্লা

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সংশোধিত অধ্যাদেশের ধারা ২৫ক-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

মানুষের সভ্যতার ইতিহাস মূলত পরিবর্তনের ইতিহাস। প্রতিটি বড় আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং অর্থনীতিকে নতুন পথে নিয়ে গেছে। চাকা আবিষ্কার মানুষের চলাচলে এনে দিয়েছিল গতি, আর সেই গতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে প্রযুক্তির উন্নয়নে। শিল্পবিপ্লবের ধারাবাহিকতায় মানুষ যেমন উৎপাদনব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে, তেমনি কৃষিও ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছে নতুন প্রযুক্তির যুগে।

শিল্পবিপ্লবের ইতিহাসে তিনটি বড় ধাপের কথা বলা হয়। ১৭৬০ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। এর ফলে কারখানাভিত্তিক উৎপাদন শুরু হয় এবং মানুষের শ্রমের জায়গায় যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে থাকে। এরপর ১৮৭০ সালে বিদ্যুতের আবিষ্কার দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার শিল্প খাতে এনে দেয় অভাবনীয় গতি। উৎপাদন বাড়ে বহুগুণ, তৈরি হয় নতুন নতুন শিল্পকারখানা। ১৯৬০ সালের দিকে কৃষিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশের কৃষিতথ্যপ্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটায় তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। কম্পিউটার, ইন্টারনেট এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি শিল্পক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করে।
উৎপাদনব্যবস্থায় আসে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ। পৃথিবী যেন একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়।
কিন্তু শিল্পের এই দ্রুত বিকাশের মধ্যেই কৃষি খাত অনেক সময় পিছিয়ে পড়েছে। অথচ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি এই কৃষিই। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, লাঙলই ছিল কৃষির প্রথম যন্ত্র।

সেই লাঙল থেকেই শুরু হয়েছে কৃষিযান্ত্রিকীকরণের যাত্রা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, কম্বাইন হারভেস্টার, সেচযন্ত্র, থ্রেশারের মতো অসংখ্য যন্ত্র কৃষিকে দিয়েছে নতুন গতি।
আধুনিক বিশ্বে উন্নত কৃষি মানেই যন্ত্রনির্ভর কৃষি। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ বপন, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন, ফসল সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ প্রতিটি ধাপেই এখন যন্ত্রের উপস্থিতি অপরিহার্য। কৃষিতে শ্রমের ঘাটতি, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং সময়ের চাপ সবকিছুই কৃষকদের যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে।

কিন্তু বর্তমান সময়ের কৃষি আর শুধু যন্ত্র ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন কৃষিতে প্রয়োজন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার, স্বয়ংক্রিয়তা ও বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ব্যবহার। এখানেই আসে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারণা।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মূলত একটি ডিজিটাল ও বুদ্ধিমান প্রযুক্তির যুগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (খঙঞ), রোবটিক্স, ড্রোন প্রযুক্তি, বিগ ডেটা ও স্যাটেলাইট তথ্য এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠছে নতুন এক কৃষিব্যবস্থা। যেখানে যন্ত্র শুধু মানুষের নির্দেশ পালন করে না; বরং তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে ইতোমধ্যেই এই প্রযুক্তি কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। ড্রোন উড়ে গিয়ে ফসলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে, কোথায় কী পরিমাণ সার বা পানি প্রয়োজন তা নির্ধারণ করছে। সেন্সর মাটির আর্দ্রতা মাপছে এবং সেই অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচব্যবস্থা চালু বা বন্ধ হচ্ছে। এমনকি চালকবিহীন ট্রাক্টরও এখন অনেক দেশে বাস্তবতা।

মানুষ একসময় লাঙল দিয়ে কৃষির যাত্রা শুরু করেছিল। সেই যাত্রা আজ এসে পৌঁছেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের যুগে। ভবিষ্যতের কৃষি হবে আরও স্মার্ট, আরও নির্ভুল, আরও টেকসই। আর সেই ভবিষ্যতের কৃষি গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিকে কৃষিক্ষেত্রে গ্রহণ করতে হবে। ২০১৮ সালে চীনের শিনশিং কাউন্টির একটি গ্রামে কৃষকের খোঁজ করছিলাম। মাঠের পর মাঠ ফসল ফলে আছে। কিন্তু কৃষকের দেখা নেই। একটা মাঠে দেখলাম বিশাল এক ট্রাক্টর জমি চাষ করছে। ভাবলাম, যাহোক অবশেষে পাওয়া গেল কৃষকের সন্ধান। কিন্তু একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি সেই ট্রাক্টরে কোনো চালক নেই। বুঝতে পারলাম দূর থেকে রিমোটে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই যন্ত্র। কৃষিযন্ত্র উৎপাদনে চীন এগিয়েছে বহু পথ। প্রতি বছর চীনে অনুষ্ঠিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ কৃষিযন্ত্রের প্রদর্শনী জানান দেয়, গোটা পৃথিবী প্রতিনিয়ত প্রস্তুত হচ্ছে কৃষি তথা খাদ্য উৎপাদনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়। পৃথিবীতে এযাবৎকালে যন্ত্র চলেছে মানুষের স্বয়ং উপস্থিতি ও পরিচালনায়। আজকের দিনে যন্ত্রকে দেওয়া হচ্ছে নিজে চালিত হওয়ার শক্তি। সেটিই বিজ্ঞানের আধুনিকতম উৎকর্ষ।

২০১৯ সালে চীনের শ্যাংডং প্রদেশের চিনদাওয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কৃষি যন্ত্রপাতি মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে আগামী দিনের কৃষিযন্ত্র নিয়ে পৃথিবীর কৃষি প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনা ও গবেষণাও উঠে আসে। কৃষিযন্ত্রের মাঠ প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখেছি চীনের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এখন ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোকে মাথায় রেখে স্বয়ংক্রিয় সব কৃষিযন্ত্র উন্নয়ন করছে। সে ভ্রমণে চীনের কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির বৃহৎ প্রতিষ্ঠান লোভোলের হেডকোয়ার্টার এবং যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। লোভোল হচ্ছে কৃষি, নির্মাণ ও অবকাঠামো যন্ত্রাংশ ছাড়াও ভারী ও বৃহৎ যানবাহন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এটি উচ্চতর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও চালকের আসনে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লোভোল কোম্পানির কর্মীর সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। লোভোল ১২০টি দেশে তাদের আধুনিকতম কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করছে।

তখন অক্টোবরের শেষ দিক। এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে চিংদাও শহর থেকে রওনা করলাম। প্রায় দুই শ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উয়েফাং শহরের উপকণ্ঠে এক বিস্তীর্ণ খেতে দেখলাম অসাধারণ দক্ষতায় চলছে সব কৃষিযন্ত্র। সব যন্ত্রই চালকবিহীন। বিস্ময়কর এক প্রদর্শনী। কী নেই! দানবাকার বিশাল ট্রাক্টর থেকে রোবটাকৃতির কীটনাশক ছিটানোর যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় ড্রোন। সেখানেই কথা হলো লোভোল হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (ওভারসিজ) সানডেমিং-এর সঙ্গে। তিনি জানালেন, চীনের বিশাল কৃষিখামারগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের চাহিদা বাড়ছে। শুধু চীনেই নয়, তাদের বাজার এখন পৃথিবীজুড়ে। আমার জিজ্ঞাসা ছিল, বাংলাদেশের মতো দেশের যেখানে খণ্ড খণ্ড ভূমি রয়েছে, সেখানে এত বিশাল আকারের কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই, এ নিয়ে তাদের কোনো বিকল্প চিন্তা আছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে খুব কৌশলী ছিলেন সানডেমিং। তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য কৃষিযন্ত্র তৈরির কথা ভাবছি না। চীনের অন্য কোম্পানিগুলো ছোট যন্ত্র তৈরি করছে। তবে বাজারে বড় চাহিদা তৈরি হলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি তৈরিতেও লেগে যাব।’ বোঝা গেল লোভোল কোম্পানি কৃষিশিল্পের যন্ত্রপাতির বাজারটা নিয়েই আগ্রহী। কারণ আগামীর কৃষি যে শিল্পের কৃষি, সে সত্য তারা বেশ ভালোভাবেই বুঝেশুনে নিয়েছেন।

যাহোক লোভোল কোম্পানির যন্ত্র নির্মাণের বিশাল সব কারখানার কিছু অংশের কাজকর্মও দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। কোথাও তৈরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ, কোথাও চলছে অ্যাসেম্বলিং। বিরাট কর্মযজ্ঞ।

বিশ্বব্যাপীই কৃষির যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে পৃথিবী। কার চেয়ে কে কতটা উৎকর্ষ সাধন করতে পারে চলছে সেই প্রতিযোগিতা। আসা যাক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। আমাদের কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বড় সাফল্যটি হিসাব করা হয় জমি কর্ষণে। পৃথিবীর প্রাচীনতম আবিষ্কার ভূমি কর্ষণের ক্ষেত্রে এখন থেকে শত বছর আগে এই ভূমিতে যে ট্রাক্টর এসেছিল, সেই জায়গাতে আমরা শতভাগের কাছাকাছি ব্যবহার পূর্ণ করতে পেরেছি ধরে নেওয়া হয়। যদিও দুর্গম এমন অঞ্চলও রয়েছে যেখানে এখনো ট্রাক্টর পৌঁছেনি। দেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের চিত্র হলো জমি চাষে ৯৫ ভাগ, সেচব্যবস্থায় ৯৫, ফসল তোলা বা হারভেস্টে ১ দশমিক ৫, ধান মাড়াইয়ে ৯৫, রোপণে দশমিক ৫ ভাগেরও কম। মূল সংকটের জায়গাটি এখানেই। ফসল উৎপাদন-পূর্ববর্তী যান্ত্রিকীকরণে যে অগ্রগতি অর্জন করেছি, উৎপাদন ও তার পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণে পিছিয়ে থাকায় আমাদের বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

এখন গোটা পৃথিবীই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে আমাদের দেশেও শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন কৃষিতে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা পথ হাঁটলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কিংবা স্মার্টকৃষির পথে আমাদের কোনোরকম অগ্রগতি নেই। নেই তেমন কোনো গবেষণা কিংবা প্রচেষ্টা। ফলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৃষিতে নিজস্ব অংশগ্রহণের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান অনেক দূরে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো আধুনিক প্রযুক্তিকে দ্রুত কাজে লাগাচ্ছে বাণিজ্যিক স্বার্থে। এর জন্য সুদূরপ্রসারী গবেষণা, মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণসহ যাবতীয় পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রস্তুত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছে চীন। এখানে সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিযন্ত্রের বিশাল বাণিজ্যিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আমরা কৃষি যন্ত্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে এগিয়ে না যেতে পারলে শুধু ক্রেতা হিসেবেই আধুনিক প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে হবে। প্রযুক্তিগত জ্ঞানবিজ্ঞান অর্জনের প্রশ্নে সবার সমান অধিকার রয়েছে। এই অধিকার নিয়ে আমাদেরও শামিল হওয়া দরকার অত্যাধুনিক স্মার্টকৃষির মিশনে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাগ্রো-প্রোডাক্টকে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নবীন কর্মকর্তারা মাঠমুখী হয়ে কাজ করলে কৃষির সম্ভাবনা অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ ৪৪তম বিসিএস (প্রাণিসম্পদ) নবনিযুক্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী অবহিতকরণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ সীমিত কৃষি মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে সারা বছর ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

গরুর গোবরের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকবে। আমদানিনির্ভর রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব উপকরণ ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশ দুটিই সুরক্ষিত থাকবে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে। প্রাকৃতিক ও কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ পাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। গবাদিপশু পালনকারীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা প্রদান এবং বাজারজাতকরণে সহায়তার জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুদ্র খামারি ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। সভাপতিত্ব করেন ড. মো. আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সিলেট নগরের তিনটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় সৌন্দর্য হারিয়েছে এসব স্থাপনা। অনেক জায়গা থেকে চুরি হয়ে গেছে পানি ছিটানোর যন্ত্রাংশও। নগরের সৌন্দর্য ফেরাতে এসব ফোয়ারা চালুর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শুরুতে নগরের হুমায়ুন রশীদ চত্বরে ২০০৩ সালের ২৩ জুন একটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। পরে সেটি নষ্ট হলে দুই দফা মেরামত করা হয়। তবে অন্তত ১২ বছর ধরে এটি বিকল।

শুধু হুমায়ুন রশীদ চত্বরই নয়, নগরের কিনব্রিজের উত্তর পাশে সুরমা নদীর পাড়ে সার্কিট হাউসের বিপরীতের ফোয়ারাটি প্রায় ১০ বছর এবং নাইওরপুল এলাকার ফোয়ারাটি প্রায় ৬ বছর ধরে বিকল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তিনটি ফোয়ারাই এখন কার্যত পরিত্যক্ত।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, হুমায়ুন রশীদ চত্বরে স্টিল-পাকা সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে তিনটি ছোট ও একটি বড় ফোয়ারা আছে। চারটির কোনোটিতেই এখন আর পানি ছিটানোর যন্ত্র নেই। একটি ছোট ফোয়ারায় জমে থাকা পানিতে ভাসছে প্লাস্টিক, কাপড়চোপড়সহ নানা বর্জ্য; জমেছে শ্যাওলা। পানিতে ঘুরছে পোকামাকড়, উড়ছে মশা। অন্য তিনটিতে পানি না থাকলেও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। সীমানাপ্রাচীরের বেশির ভাগ অংশ ভাঙা। সেখানে এক ভবঘুরেকে বসে থাকতে দেখা যায়।

নাইওরপুল ফোয়ারাতেও পানি নেই। ভেতরের যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়েছে। কিনব্রিজ এলাকার ফোয়ারাটিও বিবর্ণ হয়ে আছে। সেখানে নেই পানি ছিটানোর কোনো যন্ত্রাংশ। আশপাশে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট ও নানা বর্জ্য।

কিনব্রিজ এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বলেন, সুরমা নদীর পাড়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ফোয়ারাটি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পানি ছিটানোর সময় জায়গাটি আলাদা সৌন্দর্য পেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি বিকল থাকায় এলাকাটি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

ফোয়ারাটি চালুর পর এলাকায় চটপটি ও চায়ের কয়েকটি টংদোকান গড়ে ওঠে। সেসব দোকানের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ফোয়ারা বন্ধ থাকায় লোকজনের আসা কমে গেছে। আগে যেভাবে ব্যবসা চলত, এখন তেমন হচ্ছে না।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন (৩৯) বলেন, ফোয়ারাগুলো সচল থাকলে নগরের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়ত। তাই এগুলো দ্রুত চালু করা দরকার। যন্ত্রাংশ চুরি ঠেকাতে আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোরও পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে নির্মিত কিনব্রিজ ফোয়ারাটি কয়েক দফায় সংস্কার করা হলেও প্রায় ১০ বছর ধরে বিকল। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নাইওরপুল ফোয়ারাটির উদ্বোধন করেন। সেটিও গত ছয় বছর ধরে বন্ধ।
সিটি করপোরেশনের এক প্রকৌশলী জানান, ফোয়ারাগুলো নষ্ট হলে কয়েক দফায় মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে অনেক যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনটি ফোয়ারা বিকল থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজশাহী অঞ্চল একসময় আখের সবুজ ঢেউয়ে ভরপুর ছিল, সেখানে এখন আখের খেত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একদা উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ আখ চাষ এখন ভয়াবহ পতনের মুখে। রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে-এ চার জেলায় রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের গত এক দশকে আখের আবাদি জমি কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ অঞ্চলে আখ চাষ হয়েছিল ৪০ হাজার ৮৬৭ হেক্টর জমিতে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার ৩৪০ হেক্টরে। উৎপাদনও কমেছে অনুরূপ হারে। ১ দশমিক ৮ কোটি টন থেকে এসেছে ১ দশমিক ১১ কোটি টনে।

এ পতনের মূলে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কলগুলোর দীর্ঘস্থায়ী সংকট, উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত হওয়া, কৃষকদের পাওনা বিলম্বিত পরিশোধ, উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি এবং আমদানি করা সস্তা চিনির বাজার দখল।

কৃষকরা বলছেন, আখ চাষ এখন আর লাভজনক অবস্থায় নেই; বরং ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে অনেকেই আখের জমিতে আম বাগান, গম, ভুট্টা বা সবজি চাষ করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে উত্তরাঞ্চলের আখভিত্তিক কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, আর দেশের চিনি বাজার আরো বেশি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

স্বাধীনতার পর থেকে রাজশাহী অঞ্চল আখ চাষের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। ধান-গমের পাশাপাশি আখ ছিল কৃষকদের নগদ আয়ের অন্যতম উৎস। দীর্ঘ ১০-১২ মাসের চাষে ভালো ফলন পাওয়া যেত, আর স্থানীয় চিনি কলগুলোয় সরাসরি আখ সরবরাহ করে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন। রাজশাহী সুগার মিলস, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস, এসব কারখানা অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখত। হাজার হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা, পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার, ছোট ব্যবসায়ী সবাই এই চেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কিন্তু গত দশকে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি কলগুলোর লোকসান বেড়েছে, অনেক কল বছরের পর বছর বন্ধ বা আংশিক চালু থেকেছে। ২০২০ সালে ছয়টি চিনি কল (পাবনা, কুষ্টিয়া, রংপুর, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ) আখ মাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজশাহী ও নর্থ বেঙ্গল মিলও আখ সংকটে প্রায়ই বন্ধ হয়ে পড়ছে। ফলে কৃষকদের আখ বিক্রির নিশ্চয়তা হারিয়েছে।

রাজশাহী চিনিকলের সাব জোনগুলোয় (কাশিয়াডাঙ্গা, নওদাপাড়া, মিল গেট) আখ চাষ একসময় প্রচুর ছিল। কিন্তু এখন নগরায়ণ, জমি কমে যাওয়া এবং আখ সংকটে উৎপাদন স্বল্প। কৃষকরা অভিযোগ করেন, আখ সরবরাহের পরও পেমেন্ট পেতে ছয় থেকে আট মাস লেগে যায়। এতে ঋণের চাপ বাড়ে, পরের মৌসুমের চাষে অর্থ সংকট দেখা দেয়।

দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক লুতফর রহমান বলেন, আগে আখ চাষ করে ভালো লাভ হতো। এখন সার-কীটনাশক-শ্রমিকের দাম বেড়েছে, কিন্তু আখের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি। চিনিকলে দিলে পয়সা পেতে দেরি হয়। তাই আমরা আমবাগান বা গমের দিকে ঝুঁকেছি।

নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ২০২৫-২৬ মৌসুমে নির্ধারিত সময়ের দুই সপ্তাহ আগে বন্ধ হয়ে গেছে আখের অভাবে। এমন ঘটনা কৃষকদের আস্থা আরও ভেঙেছে।

আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। জমি প্রস্তুতি, রোপণ, সেচ, সার (ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম), আগাছা নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকÑসব মিলিয়ে খরচ অনেক। গত কয়েক বছরে সারের দাম দু-তিনগুণ বেড়েছে, শ্রমিক মজুরি বেড়েছে, জ্বালানি-পরিবহন খরচও বেড়েছে। কিন্তু আখের মূল্য সেই হারে বাড়েনি। ফলে লাভের মার্জিন কমে গেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আখ চাষে প্রতি হেক্টরে খরচ দু-তিন লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়, কিন্তু ফলন ও দামের অনুপাতে লাভ কম। অন্যদিকে আম চাষে একবার লাগালে ১৫-২০ বছর ফলন পাওয়া যায়Ñখরচ কম, লাভ বেশি।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম বাগানের বিস্তার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। বাঘা, পুঠিয়া, গোদাগাড়ীতে আখের জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে গম, ভুট্টা, সবজি চাষ বেড়েছে। এসব ফসল স্বল্পমেয়াদি, ঝুঁকি কম এবং বাজার সহজলভ্য।

দেশের চিনির বড় অংশ এখন আমদানি করা হয় ব্রাজিল ও ভারত থেকে। অনেকটা সস্তায় আমদানি করা হয়। দেশীয় উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। রাজশাহী চিনিকলে এক কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ ৪০৫ টাকা, কিন্তু বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। এতে বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়।

আখ চাষ কমায় এলাকার পরিবহন শ্রমিক, আড়তদার, ছোট ব্যবসাÑসবাই ক্ষতিগ্রস্ত। গ্রামীণ অর্থপ্রবাহ কমেছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চিনি কল আধুনিকায়ন করতে হবে (যান্ত্রিক ত্রুটি কমানো, দক্ষতা বাড়ানো)। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পেমেন্ট সময়মতো দিতে হবে। আখভিত্তিক শিল্প (গুড়, জৈব জ্বালানি, ইথানল) সম্প্রসারণ করতে হবে। স্বল্প সুদে ঋণ, বীমা, আধুনিক চারা সরবরাহ করতে হবে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে দেশীয় উৎপাদনকে সুরক্ষা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকরা ঐতিহ্য বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দ্বিধান্বিত। যদি সরকারি নীতি পরিবর্তন হয়, চিনি কল ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে আখ চাষ ফিরে আসতে পারে। অন্যথায় এই ঐতিহ্যবাহী ফসল রাজশাহীর কৃষি ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, রাজশাহীর আখ চাষ শুধু একটি ফসলের গল্প নয়, এটি হাজার হাজার পরিবারের জীবন, অঞ্চলের অর্থনীতি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার গল্প। এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার, তাহলে হয়তো আখশিল্প বাঁচতে পারে বলে আশা করছেন রাজশাহীর আখচাষিরা।