দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রংপুর বিভাগের সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানের মাঝে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।

গতকাল শনিবার (১৪ই মার্চ) বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমবান্ধব সরকার।

গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে কাজ করতে এই সরকার বদ্ধপরিকর।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসচ্ছল ও দুস্থ সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান কাজ। সাংবাদিকদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবীণ সাংবাদিকদের পেনসন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, রংপুরের সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসাবে কাজ করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান।

এছাড়াও বক্তব্য দেন, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রংপুর প্রেসক্লাবের প্রশাসক মো. রমিজ আলম, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলাম, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিক প্রমুখ।

এ অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের ২৩ জন সাংবাদিককে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কল্যাণ অনুদানের চেক এবং সাংবাদিকদের ৯৪ জন মেধাবী সন্তানকে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।

রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নানের সঞ্চালনায় চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে রংপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নব নিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল বাছিরকে সংবর্ধনা প্রদান করে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজের সভাপতি আলহাজ্ব সালেকুজ্জামান সালেক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এতে রংপুরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রমজান মাসের শেষ দশককে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন এক হাজার মুসল্লি। শহরের বাড়েরা মাদানী নগরে অবস্থিত খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন।

খানকাটি দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.) এর মাধ্যমে এ খানকার প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোতোওয়াল্লী মুফতি মাহবুবুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক আমল ও ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রমজানের ১০ দিন আগে থেকেই ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়। চলতি বছর রমজানের দশ দিন আগে ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন। পরে পহেলা রমজান থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ জনে। রমজানের শেষ দশকে এসে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ থেকে এক হাজারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন। তাদের ইবাদত ও আমলে পুরো খানকা এলাকা এখন আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত।

শুধু আধ্যাত্মিক কার্যক্রম নয়, খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তামূলক কাজও করে থাকে। ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লার বন্যায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০ এর বেশি নও-মুসলিমের দেখভাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়া ২০০ এর বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
খানকার দায়িত্বশীলরা জানান, মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উত্তম চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী নিজ নিজ এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ। সবাই নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি সকলকে প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং মশার লার্ভা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। এজন্য নগরবাসীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শহরের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন হবে এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

জেলায় আজ পশুখাদ্য ও পশু চিকিৎসা সংক্রান্ত ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালী থানার তালতলা শম্ভুগঞ্জ এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের সিপিএসসি’র অভিযানকালে এ জরিমানা করা হয়।

র‌্যাবের সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) লুৎফা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রুকনুজ্জামান সরকার রোকন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল (শনিবার, ১৪ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে কয়েকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

সূত্রমতে, রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বর্তমানে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ছাত্রজীবনে তিনি ময়মনসিংহ কমার্শিয়াল কলেজের (ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ) জিএস এবং ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি অবিভক্ত ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
জেলা যুবদল সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব নির্বাচিত হন।

রুকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, ‘সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। সব সময় নগরবাসীর পাশে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে আমানত আমাকে দিয়েছেন তা রক্ষা করাই আমার প্রধান দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ নগরীর যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আমার কাজ শুরু হবে। একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে নাগরিকদের সহায়তা চাই।’

আগামীকাল সকাল ১০টায় সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানান সিটি প্রশাসক রুকনুজ্জামান সরকার রোকন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরধরে বরিশাল নগরীতে আব্দুল বারেক হাজী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর পোর্ট রোডের পিয়াজপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আব্দুল বারেক হাজী বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী দাঁড়িয়াল এলাকার মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে।

আটকৃতরা হলেন, শুভ, কাওছার হোসেন, সুইটি বেগম ও মাকসুদা বেগম।

শুভ, কাওছার ও সুইটি ওই এলাকার ভাড়াটিয়া ইলিয়াছ হোসেনের সন্তান। মাকসুদা ইলিয়াছের স্ত্রী।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইলিয়াছ পলাতক রয়েছে। তারা সবাই পোর্ট রোড পিয়াজপট্টি এলাকার মুসলিম হাওলাদারের বাসার ভাড়াটিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে দুই ভাড়াটিয়া পরিবারের নারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতন্ডা হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরেন।

একপর্যায়ে আব্দুল বারেক হাজীর ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন।

পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।

এদিকে মূল অভিযুক্ত ইলিয়াছ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

আসন্ন ঈদের আগে পরে রাজধানীসহ সারা দেশের সাথে বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কের ফরিদপুর-বরিশাল অংশের অপ্রশস্ত মহাসড়কে দুর্ভোগের সাথে দুর্ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে বরিশাল-ভাঙ্গা মহাসড়কের ৯১ কিলোমিটারে ছোট-বড় অন্তত ৫০টি দুর্ঘটনায় ইতোমধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো অর্ধশতাধিক। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল তিনগুনেরও বেশি বৃদ্ধি পেলেও মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি একের পর এক জটিলতা ও অনিশ্চয়তার কবলে। অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বে¡ও কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করেও এ মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কাজটিও গত ৮ বছরেও শেষ হয়নি।

এমনকি ৮ বছর ধরে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলেও সেখান থেকে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সংযুক্ত একমাত্র মহাসড়কটি উন্নয়নে যথাযথ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বিগত দুটি সরকার। বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে ইতোমধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে পূর্বের বরাদ্দকৃত অর্থে প্রকল্পটি ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত সীমিত করে পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা অংশকে বাদ দিয়ে গেছে। এমনকি প্রকল্পটি থেকে বরিশাল বাইপাস পর্যন্ত বাদ দেয়ায় মহানগরীর মধ্যভাগ দিয়ে ৬ লেন মহাসড়ক বরিশালের শেষ সীমা লেবুখালীতে পায়রা সেতুতে নিয়ে যাবার কথা বলা হয়েছে। ফরে আগামীতে বরিশাল মহানগরীও যানজটে অবরুদ্ধ হবার বিষয়টি পাকাপোক্ত হতে চলেছে।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন প্রকল্পটিরও ন্যূনতম কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ মহাসড়কটির ওপরই সারা দেশের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার সড়ক পরিবহন নির্ভরশীল। এমনকি প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘পদ্মা সেতু ও সংযুক্ত এক্সপ্রেসওয়ে’র পূর্ণ সুফলও নির্ভর করছে ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কটির উন্নয়নের ওপর।

অথচ ২০২২-এর জুনে পদ্মা সেতু চালু হবার পরে বরিশাল অঞ্চলের জাতীয় এ মহাসড়কটি ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের কয়েকগুন বাড়তি চাপ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা বিড়ম্বনার সৃষ্টি করছে। এমনকি বাড়তি যানবাহনের কারণে এ মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের গতি এখন অনেক ধীর। ঢাকা থেকে ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ভাঙ্গায় পৌঁছতে যেখানে মাত্র ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগছে, সেখানে ৯১ কিলোমিটার বরিশালে পৌঁছতে সময় লাগছে প্রায় ৩ ঘণ্টা। ফলে আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ব্যাপক যানজটে ঘরমুখী মানুষের বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ ইতোমধ্যে বর্ণনার বেড়ে গেছে। ১৭ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হলে পরিস্থিতি কতটা ভীঅবহ আকার ধারণ করবে, তা নিয়ে শংকিত পুলিশ প্রশাসনও।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০১৫ থেকে ’১৮ সালে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ পথ নকশা প্রনয়ণ করা হয়।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ ও সমীক্ষার পথনকশা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে ১৮শ’ ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি আলাদা প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। ২০২১-এর জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৪-এর জুনে চাহিদার অর্ধেক ভূমিও অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হয়ায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৬ হাজার কোটিতে উন্নীত করে নতুন ডিপিপি নাকচ করে মূল বরাদ্দে প্রকল্পটি ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত সীমিত করাসহ জুন-২৬’র মধ্যে তা শেষ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কাজ প্রায় ৮০ ভাগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হলেও ফরিদপুর অংশে একটি এলাকায় নানামুখী জটিলতায় পুরো কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে।

অপরদিকে বাস্তবতার আলোকে বরিশাল মহানগরীর পরিবর্তে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বাইপাস নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় সে ধরনের অলিখিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিমান বন্দর ডাইভার্শন ও ফরিদপুরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুলের পুনর্বাসনেও অতরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে আরো অন্তত ২শ’ হেক্টর বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। এমনকি পরবর্তীতে পটুয়াখালীতেও পথনকশায় কিছু পরিবর্তন করতে হবে।

সময়মত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় জমির বর্তমান বাজারমূল্য দ্বিগুনেরও বেশি বৃদ্ধিসহ নতুন পথনকশা অনুযায়ী বাড়তি প্রায় ২শ’ হেক্টরসহ ৩ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমির মূল্য পরিশোধেই দ্বিগুনেরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে বলে সড়ক অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তবে কি কারণে নির্ধারিত সময়ের ৫ বছর পরেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হল না, এর জবাব নেই কারো কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের দায়িত্বশীল মহলের মতে ভূমি অধিগ্রহণ একটি জটিল বিষয় হলেও এত দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়া উচিত ছিল না। তাদের মতে ৬টি জেলা প্রশাসন এ ভূমি অধিগ্রহণের সাথে জড়িত। বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের ল্যান্ড এক্যুইজিশন দপ্তর সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেও অনেক কিছু পিছিয়ে গেছে বলে মনে করছে সড়ক অধিদপ্তরের অনেকেই।

অপরদিকে ২০১৫ থেকে ’১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও পথনকশা অনুযায়ী ২১১ কিলোমিটার মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণে ২১ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হলেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আরো দুই বছর আগে নতুন করে পথনকশাসহ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি করতে বলেছে। এডিবি’র অর্থে ইতোপূর্বে সমীক্ষা ও পথনকশা প্রস্তুত হওয়ায় দাতা সংস্থাটি এ প্রকল্পে আর্থয়নের আগ্রহ দেখিয়ে আসলেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি এ লক্ষ্যে একটি খসরা ডিপিপি বহিঃসম্পদ বিভাগে প্রেরণ করা হলেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবার পরেই প্রস্তাবনা দাখিলের কথা বলে তা ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

এমনকি ভূমি অধিগ্রহণসহ পরিপূর্ণ ডিপিপি প্রনয়ণ এবং চূড়ান্ত অনুমোদেন না করায় এডিবি’র পক্ষ থেকেও এখন তেমন কোনো আগ্রহ দেখান হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। নতুন পথনকশা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার লক্ষ্যে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়ক অধিদপ্তর অনেকটা নির্বকার বলেই মনে হচ্ছে। কবে নাগাদ এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে, তাও বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চ পর্যায় থেকে ইতোপূর্বে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি’র সবুজ পাতায় ‘ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করণ প্রকল্প’টি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও চলতি অর্থ বছরে তা বাদ দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জুনের মধ্যে একটি অংশ ছাড়া অবশিষ্ট অধিগ্রহণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ব্যপারেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এমনকি সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল মহলও বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কটির উন্নয়নে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তবতা ভবিষ্যতই বলতে পারবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

বরিশাল নগরের ইতিহাস ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ফকিরবাড়ি মসজিদ। এটি দুই শতাব্দীরও বেশি আগে নির্মিত। নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদটি বরিশালের অন্যতম প্রাচীন ইসলামি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাসবিদদের তথ্যমতে, অষ্টাদশ শতকে সুদূর বাগদাদ থেকে ধর্মসাধক হজরত শাহ করিম বকস বাগদাদী ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বরিশাল অঞ্চলে আসেন। পরে ১৮০৩ সালে রহমতপুরের জমিদার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর কাছ থেকে তিনি ৮ দশমিক ৫৭ একর নিষ্কর জমি পান। সে সময় নগরের পশ্চিম প্রান্তে ওই জমিতে বসতি স্থাপন করে স্থানীয় এলাকায় ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘ফকির সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন।

বাংলা ১২১৭ সালে (১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ) শাহ করিম বকস বাগদাদী সেখানে একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে এটি ‘ফকিরবাড়ি মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। ধারণা করা হয়, সে সময় মসজিদের সামনে প্রশস্ত আঙিনা ও প্রবেশদ্বার ছিল এবং পাশেই ছিল আরেকটি ভবন। পুরোনো ছবিতেও সেই স্থাপত্যরীতির উপস্থিতি দেখা যায়।

বর্তমানে বরিশাল নগরের সদর রোডের মধ্যবর্তী অংশ থেকে পশ্চিম দিকে সামান্য দূরে মসজিদটির অবস্থান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটি পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে মূল প্রবেশদ্বারের কিছু অংশ ভেঙে গেছে এবং প্রাচীন স্থাপত্যের কিছু বৈশিষ্ট্য আড়াল হয়ে পড়েছে।
তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির পূর্ব দিকে দুটি প্রবেশপথ আছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে একটি করে জানালা। মসজিদের আয়তন দৈর্ঘ্যে প্রায় ৪০ ফুট, প্রস্থ ৩০ ফুট ও উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে আছে ধর্মসাধক শাহ করিম বকস বাগদাদীর কবর। একই স্থানে তাঁর বাবা শাহ কুতুব উদ্দীন বাগদাদী এবং তাঁর সন্তান আবদুর রহমান, আবদুল ওয়াহেদ ও আবদুর রহিমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের কবর। আবদুর রহমানের ছেলে শাহ আবদুল্লাহ এবং তাঁর ছেলে শাহ আবদুল নূর ও আবদুল কুদ্দুসের কবরও সেখানে আছে।

স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ আছে, ফকিরবাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর বাংলা ১২১৯ সনে (১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দ) জমিদার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী স্বপ্নাদেশ পেয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাষাণময়ী কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে পাশাপাশি দুটি এলাকার নাম হয় ফকিরবাড়ি ও কালীবাড়ি। বরিশাল নগরে কালীবাড়ি ও ফকিরবাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও সম্প্রীতি এখনো বজায় আছে।

ফকির করিম বকসের প্রতিষ্ঠিত ফকিরবাড়ি মসজিদ এবং জমিদার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরের নাম অনুসারেই পরে ওই এলাকার দুটি সড়কের নাম রাখা হয় ‘কালীবাড়ি রোড’ ও ‘ফকিরবাড়ি রোড’।

ফকির শাহ করিম বকসের উত্তরাধিকারদের একজন শাহ সাঈদ নোমান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই মসজিদ সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মসজিদ সম্প্রসারণও করা হয়েছে। তবে মূল কাঠামো সংরক্ষণ করেই কাজটি করা হয়েছে। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসে এখানে ইফতারের আয়োজন করা হয়, যেখানে কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

আর মাত্র কয়েকদিন পরই মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটবেন লাখো মানুষ। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বাড়বে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। তবে ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে মহাসড়কে অবাধে চলাচল করা ইজিবাইক বা অটোরিকশা। কিন্তু পুলিশ বলছে, মানুষের ভোগান্তি এড়াতে তারা এসব যানের প্রতি কঠোর হবে।

সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়মিতই দেখা যায় তিন চাকার এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করচ্ছে। এছাড়াও কাঁচপুরের পর অর্থাৎ সোনারগাঁ অংশেও এর দৌরাত্ম্য অনেক। মহাসড়কে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে অবৈধ এই বাহন হাইওয়ে পুলিশের চোখের সামনেই চলাচল করছেন। অথচ বিষয়টি নিয়ে যেনো তেমন কোনো তৎপরতাও চোখে পড়ে না। এরফলে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। যা প্রায় নিয়মিত ছোটখাটো ঘটে চলছে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদযাত্রার আগে মহাসড়কে নিষিদ্ধ এইসব যানবাহনের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে ঈদের সময় মহাসড়কে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

তবে অটোরিকশা চালকদের দাবি ভিন্ন। তারা জানান, জীবিকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে তাদের।
যানজটের জন্য তারা এককভাবে দায়ী এমন অভিযোগও মানতে নারাজ চালকরা। বরং নিরাপদ চলাচলের জন্য মহাসড়কে অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন তৈরির করা উচিত বলে মনে করেন।

অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই অটোরিকশার পক্ষেই মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় কম খরচে ও সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে অটোরিকশাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। তাই ঝুঁকি জেনেও অনেকেই এই বাহনেই গন্তব্যে পৌঁছান।
বাসচালকদের অভিযোগ, ব্যস্ত মহাসড়কে অটোরিকশা এমনভাবে চলাচল করে যেনো এটা এলাকার কোনো কোনো সড়ক। পুলিশের চোখের সামনেই এই দৌরাত্ম্য, অথচ তারা না দেখার ভান করে।

বাসচালকরা জানান, অটোরিকশার হুটহাট ব্রেক, হুটহাট ঘুরিয়ে ফেলা আমাদেরের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকি। অটোরিকশা নিয়ে একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। নতুন সরকারের উদ্যোগী হওয়া অন্তত জরুরি।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জাগো নিউজকে জানিয়েছে, আমরা অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি মামলা হচ্ছে। তবে এটার স্থায়ী সমাধান করা প্রায় অসম্ভবের মতো। কারণ অটোর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি এড়াতে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। মহাসড়কে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকছে এবং আমাদের এসপির কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ শ্রী কৃষ্ণপদ জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা নিয়মিত অটোরিকশা বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিদিন অন্তত ৩০টি মামলা হচ্ছে এবং অটো ডাম্পিংয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফয়সাল নামের এক পথচারী বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে অজ্ঞতানামা ওই ব্যক্তি হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাদেরকে বলেন, আপনারা ওনাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। আমরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলেও ওই ব্যক্তিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। 
এ বিষয়ে ডেমরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে আমরা নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে পারিনি। তাই প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।