দেখতে দেখতে পার হলো ১৮ রমজান। ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে খুলনার পোশাকবাজার। প্রতিটি মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। কম দামে পোশাক কিনতে অনেকে ছুটছেন ফুটপাথের দোকানে। অভিজাত শপিং মার্কেটের দোকানগুলোতেও বিক্রি কম নয়। বিক্রি বেড়েছে ১৪ রমজান থেকে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পাওয়ার পর ঈদ মার্কেট জমে উঠেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

গত শনিবার নগরীর ব্যস্ততম সড়কের মোড়ের ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত শপিং মলগুলোতে ভিড় দেখা যায়। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। বিশেষ করে থ্রি-পিস, গাউন, লেহেঙ্গাসহ বিভিন্ন ফ্যাশনের পোশাকের দোকানগুলোতে নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র আখতার চেম্বার, হাজী মালেক চেম্বার, এশা চেম্বার, পিকচার প্যালেস, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, রব সুপার মার্কেট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিপণিবিতান, রেলওয়ে বিপণিবিতান, জব্বার মার্কেট, খানজাহান আলী হকার্স মার্কেট, নিউমার্কেটসহ বড় ও মাঝারি মার্কেটগুলোতে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে অভিজাত মার্কেটের তুলনায় মধ্যম সারির মার্কেট ও ফুটপাতে পণ্যের দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি বেশি হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।

ডাকবাংলো মোড় হাজী মালেক চেম্বারের সামনে ফুটপাথের দোকানি সজীব বলেন, প্রথম থেকে ১০ রমজান পর্যন্ত তেমন কোনো বিকিকিনি ছিল না। চাকরিজীবীদের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়ার পর সবে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ডাকবাংলো মোড়ে সাম্প্রতিক খুনের ঘটনায় আবারও পতন শুরু হয়। তবে যা হচ্ছে তা মোটামুটি ভালো। তিনি ছেলেদের গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রি করছেন। প্রতিটি গেঞ্জি ১৫০ থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দর হাঁকাচ্ছেন।

খুলনা শপিং মল অভিজাত মার্কেট হিসেবে পরিচিত। বেলা দেড়টার দিকে ওই শপিং মলের ঐশিকা ফ্যাশনের মালিক উৎপল দত্ত বলেন, সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস, জর্জেট, অর্গানজা ও ফার্সি গাউন নামের পোশাকের চাহিদা এবারের ঈদে ব্যাপক। তরুণীদের কাছে এসব পোশাকের চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, সুতি থ্রি-পিস ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা, জর্জেট, পাকিস্তানি ফার্সি গাউন থ্রি-পিস ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা, অর্গানজা ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা, জিমুচি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং ভারতীয় ফার্সি গাউন ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খালিশপুরের বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে মার্কেটে ঘুরছি কাপড় কেনার জন্য। কিন্তু দাম এবার অনেক বেশি।’ আরও ঘুরে তিনি বাচ্চাদের পোশাক কিনবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় পিকচার প্যালেস সুপার মার্কেটে। অস্থায়ী ওই মার্কেট থ্রি-পিসের প্রতিটি পোশাকের ওপর ছাড় দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ইসলামপুর থেকে পোশাক কেনেন তাঁরা।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

তিনি জানান, প্লেনে যাত্রীদের যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় তার থেকে এখন ট্রেনের এসি বার্থের যাত্রীদের বেশি সুবিধা দেওয়া হয়। এসি বার্থে নতুন চাদর বালিশ বালিশের কভার সব রেল সরবরাহ করে। এ কারণে নিরাপত্তার সাথে এক ঘুমে আয়েশিভাবে ঢাকা যাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, চাহিদা অনুযায়ী খুলনা থেকে ঢাকাগামী চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সেপ্রেসের কোচগুলোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কোচের ভেতর ও বাইরের নান্দনিক উৎকর্ষতা আনা হয়েছে। লাল সবুজ রঙের এ কোচগুলো ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে।সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সুসজ্জিত চেয়ার কোচ ;ছবি-মানজারুল স্টেশন মাস্টার জানান, রেলপথে চলাচলে গতিশীলতা বেড়েছে। পাশাপাশি আধুনিকতা ও আরামদায়ক যাত্রীসেবার কারণে বেড়েছে টিকিট বিক্রি।

তিনি জানান, খুলনা থেকে সকালে চিত্রা এক্সপ্রেস এবং রাতে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় । প্রতিটি ট্রেনে ১২টি বগি থাকে এতে মোট সিট ধারণ ক্ষমতা ৮৩৪টি। যার মধ্যেই এসিবার্থ ৪৮টি, এসি চেয়ার ১৫৬টি ও শোভন ৬৩০টি। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৭ লাখ ২শ’ ৩৮জন যাত্রী এ স্টেশন থেকে টিকিট কেটে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করেছেন ।
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সুন্দরবন এক্সপ্রেস; ছবি- মানজারুল ইসলামএছাড়া এই স্টেশনে টিকিট বিক্রি বাবদ ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার ৬ শ’ ৯৮ টাকা, পার্সেল বুকিং বাবদ ২ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার ৩ শ’ ৬৭ টাকা, মাল গাড়িতে বুকিং বাবদ ৭৫ লাখ ১৪ হাজার ৪শ’ ৩১ টাকা এবং রেল স্টেশনের দোকান ভাড়া থেকে ৩৫ লাখ ৯২ হাজার ৯ শ’ ৩৭ টাকা আয় হয়েছে। যা খুবই ইতিবাচক বলে দাবি করেন স্টেশন মাস্টার।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাতের আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সেপ্রেসের খ নং কোচের এসি বার্থ কেবিনের ১১-১২ নং আসনের যাত্রী এম রহমান বলেন, জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজ রংয়ের কোচগুলোতে কি নেই? ট্রেনের কোচগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক আসন ব্যবস্থা, উন্নত টয়লেট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা, স্পেশাল কেবিনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা। এত সুযোগ সুবিধা থাকায় অনেক প্লেনের যাত্রী এখন খুলনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছেন ট্রেনে।

আসন নিচ্ছেন যাত্রীরা। ছবি: মানজারুল ইসলামতিনি জানান, স্ত্রী সন্তান নিয়ে আরামে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়ার জন্য কেবিন নিয়েছি। তার মতো অনেকেই এসিবার্থ ও এসি চেয়ার নিয়েছেন আরামে যাওয়ার জন্য।
রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ওহিদ খান বলেন, খুলনা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসটি বাতাসের গতিতে ঢাকার উদ্দেশে ছুটে চলে। কোন সমস্যা না থাকলে রাত ৮টায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেন স্টেশন ছাড়ে। আগে যেখানে ট্রেনের প্রতীক্ষায় থেকে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হতো সেখানে এখন যথাসময়ে ট্রেন ছাড়ায় এখন ক্ষোভের পরিবর্তে আনন্দ দেখা দেয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরের মতো বায়ুদূষণের প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দূষণের মাত্রা বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বর্তমানে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর হালনাগাদ তথ্যে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ১৭৩ রেকর্ড করা হয়েছে। এই মান পরিবেশ বিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহরের অবস্থানে রয়েছে লাহোর, যেখানে একিউআই স্কোর ৩৩২। এটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে দিল্লি, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কাঠমান্ডু। এছাড়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে কলকাতা এবং পঞ্চম অবস্থানে আছে ইয়াঙ্গুন। এতে বোঝা যায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহর বর্তমানে তীব্র বায়ুদূষণের সমস্যার মুখোমুখি।

বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ সাধারণ মানুষের জন্যও ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে ঢাকার বর্তমান স্কোর ১৭৩ হওয়ায় এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমন ঢাকার বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাতাসে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এ অবস্থায় চিকিৎসকরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঢাকায় আজ আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা গতকালের তুলনায় সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাতাসের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বলা হয়েছে, পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ০৬-১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ এবং তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪.২° সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩.৮° সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৬° সেলসিয়াস।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার থেকে ঈদের ছুটি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (৮ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম-এসএমটি) এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সরকারের প্রজ্ঞাপন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পত্রের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (৯ মার্চ) থেকে ২৮ মার্চ (শনিবার) ঈদের ছুটি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো সোমবার যথারীতি খোলা থাকবে। তবে ৯ মার্চের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও অফিস চালু রাখার বিষয়ে সোমবার জানানো হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু শেষ বেলায় সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউজিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে, তাই রোববার রাত ১১টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এসএমটির সভা হয়। সেখানে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম, অর্থাৎ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

প্রক্টর আরও বলেন, তবে অফিস খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত ও এক হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু ও ১১ জন আহত এবং নৌ পথে ছয়টি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ফেব্রুয়ারির ২৮ দিনে সড়ক, রেল ও নৌ পথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ১৯৭ জন।

আজ শুক্রবার সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ১১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে, ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে মোটরসাইকেল, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত, ১৩৭ জন আহত হয়েছে। শতকরা হিসাবে নিহত ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও আহত ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

গণপূর্ত বিভাগ ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই চরম ধীরগতিতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বর্তমানে শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প এখন আর্থিক জটিলতা আর ঢিমেতালের কাজের আবর্তে বন্দী।

২০২২ সালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে ও শয্যা সংকট দূরীকরণে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ১২ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও আর্থিক জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শেষ করে চালু হয়নি ভবনটির কার্যক্রম। কাজ চলছে ঢিমেতালে। ভোগান্তি দূরীকরণে ভবনটির কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

তথ্য বলছে, গণপূর্ত বিভাগ ২০২২ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলাবিশিষ্ট বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে। কথা ছিল ১৮ মাসের মধ্যেই শেষ হবে নির্মাণকাজ। কিন্তু সময়সীমা এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি ভবনের শতভাগ নির্মাণকাজ। অন্যদিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় শয্যা সংকটসহ নানা কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।

১৯১২ সালে মাত্র ২০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালের মূল ভবনটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ভবনে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের জন্য আশ্রয় নিতে হয়েছে টিনশেড ঘরের। রোগীর চাপ বাড়লে মেঝেতে জায়গা পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ বলছে, আর্থিক জটিলতার কারণে কয়েক দিন কাজ বন্ধ ছিল। তাই ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নতুনভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা বাড়িয়ে ফের নির্মাণকাজ চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনটির ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শিগগির নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে।

জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৮টি ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক এবং বহির্বিভাগে প্রায় সাতশ রোগী সেবা নিচ্ছেন। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়া হাসপাতালের প্রধান সমস্যা।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটির মূল ভবন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। উপায় না থাকায় দুটি ভবনের একটিতে বহির্বিভাগ অপরটিতে চলছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম।

সাধারণ রোগীরা বলছেন, বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চলায় তাদের আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি জৌলুস হারাচ্ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেহাল দশা আর শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাচীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিয়ে গেলেও আধুনিক ভবনটি দ্রুত চালু না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সহসাই কমছে না।

চিকিৎসা নিতে আসা মোঃ কাওছার বলেন, হাসপাতালের ভবন দ্রুত সংস্কার করা উচিত। পুরো হাসপাতালের রুমগুলো সব জরাজীর্ণ। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অনেক ভোগান্তীর শিকার হচ্ছেন।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বরিশাল জেনারেল সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ৭০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি যে ৩০ ভাগ কাজ আছে তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। চলতি বছরের জুন মাস নাগাদ শেষ করে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করছি। কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম।

কোথাও বিটুমিন উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। আবার কোথাও সড়ক দেবে গেছে, কোথাও ফুলে উঠেছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত অংশ এমনই বেহাল। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র সড়কপথ এটি। অপ্রশস্ত এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এবারের ঈদযাত্রায় এ মহাসড়ক দিয়ে ঘরে ফেরা মানুষ দুর্ভোগে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জের রহমতপুর সেতুর পশ্চিম ঢালে একটি তিন চাকার যান (মাহেন্দ্র) নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. হারুন (৩৫)। খালি পেয়ে যানটিতে চেপে বসেন কয়েকজন যাত্রী। চালক বললেন, ‘আপনেরা কই যাইবেন?’ যাত্রীরা জানালেন, গৌরনদী। চালক সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘না, গৌরনদী যামু না, রাস্তায় ঝামেলা।’

পরে চালক হারুনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মাহিলারা থেকে আশুকাঠী পর্যন্ত মহাসড়কের ডান পাশে বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। এমনিতেই ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের এ অংশ অপ্রশস্ত। তার ওপর রমজান ও ঈদ সামনে রেখে যান চলাচল অনেক বেড়েছে। বর্ধিতকরণের জন্য গর্ত করে মাটি তোলায় মহাসড়কের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। চালক হারুন বললেন, ‘না ঠেকলে ওই পথে যাই না।

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে বরিশাল থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাদারীপুর অংশে আছে ৪৭ কিলোমিটার। মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত এই সড়কটিতে সারা বছরই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকে। গত বর্ষা মৌসুমে, বিশেষ করে গত জুলাইয়ে এ অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হয়েছিল। তখন মহাসড়কের বড় অংশেই তৈরি হয় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ।

বর্ষাকালে খানাখন্দে ভরা মহাসড়কের বরিশাল অংশে জরুরি মেরামতের আওতায় বালু, পাথর ও পিচ দিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস ঘুরতে না ঘুরতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে অনেক জায়গা। বিশেষ করে বরিশালের কাশীপুর চৌমাথা থেকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর বিমানবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কের অংশে বড় বড় গর্ত এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, কাশীপুর চৌমাথা থেকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় খানাখন্দ ও বালুর স্তূপ। কোথাও বিটুমিন উঠে গিয়ে নিচের ইটের সুরকি বের হয়ে আছে। এর মধ্যে বরিশাল নগরের শেষ অংশের গড়িয়ারপাড় থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার শিকারপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত একদল শ্রমিক মহাসড়ক বর্ধিতকরণের কাজ করছেন। কোথাও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলার কাজ চলছে, আবার কোথাও খনন করা অংশে বালু ফেলা হয়েছে। একই অবস্থা গৌরনদীর জয়শ্রী থেকে কাশেমাবাদ পর্যন্ত মহাসড়কের অংশেও।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী বাসের চালক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘বরিশালের কাশীপুর চৌমাথা থেকে বাবুগঞ্জের রহমতপুর পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এরপর দুই পাশের বর্ধিতকরণের কাজ করতে গিয়ে গর্ত করে রাখায় এখন রাস্তা আরও সরু হয়ে গেছে। দ্রুতগতির যানবাহন যখন অন্য গাড়িকে অতিক্রম করে তখন মনে হয় এই বুঝি বাস খাদে পড়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে খুবই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। ঈদের সময় এটা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।’

সওজের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, সেই তুলনায় সড়কটি খুবই অপ্রশস্ত। তহবিলসংকট থাকায় ধাপে ধাপে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে দুটি গুচ্ছে মোট ১২ কিলোমিটার অংশে বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। একটির কাজ আগামী জুনের মধ্যে এবং অন্যটির কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব স্থানে বড় বড় খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঈদের আগেই মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যান চলাচলে সাময়িক ভোগান্তি ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে মাদারীপুরের ভুরঘাটা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কে আঁকাবাঁকা অন্তত ৪০টি ঝুঁকিপূর্ণ মোড় আছে। ভুরঘাটা থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার অংশের প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার আর টেকেরহাট সেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে বাড়িয়ে প্রস্থ ১০ দশমিক ৯৬ মিটার করা হয়েছে। মহাসড়কের তাঁতিবাড়ি থেকে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড ও গোলচত্বরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।

মস্তফাপুর মিলগেট থেকে আমগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে উঁচু-নিচু হয়ে আছে। গর্ত ঢাকতে বিছানো হয়েছে ইট। শানেরপাড় থেকে টেকেরহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করায় সড়কের বিভিন্ন অংশে এখনো ভাঙাচোরা। টেকেরহাট গোলচত্বরের আগে–পরে ২০০ মিটার মহাসড়ক বেহাল। এখানেও ইট বিছিয়ে কোনোমতে মেরামত করা হয়েছে। টেকেরহাট থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার অংশের বেশির ভাগ সড়কই ভালো। তবে বরইতলা ও বাবনাতলা, সদরদী অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ আছে।

বরিশাল–ঢাকা রুটে চলাচলকারী সাকুরা পরিবহনের চালক ইকবার হোসেন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিকে সড়কটি সরু অন্যদিকে ভাঙাচোরা তো আছেই। তার মধ্যে অবাধে ভ্যান-রিকশা চলাচল করে। এসব কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমছে না। প্রতিনিয়ত এই সড়কে দুর্ঘটনা লেগে থাকে। একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হলেও পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশে গত ৬ মাসে ছোট–বড় মিলিয়ে ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অন্তত ১০ জন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন।

মস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৪৭ কিলোমিটার অংশ খুবই বিপজ্জনক। এ সড়কে আগের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়েছে বহু গুণ। প্রতিদিন এই পথে ১৮ থেকে ২০ হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। বিগত ৬ মাসে মহাসড়কে ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতের সংখ্যা অর্ধশত। এ ছাড়া ৬ মাসে মহাসড়কে নিহত হয়েছেন ১১ জন।

সওজের মাদারীপুর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি প্যাকেজে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রায় আশা করছি, আমাদের অংশে কোনো ভোগান্তি থাকবে না।’

তবে মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী সাবিক হাসান বলেন, ‘মস্তফাপুর থেকে ভাঙ্গা ৩৪ কিলোমিটার সড়ক মাঝেমধ্যেই নামমাত্র সংস্কার করা হয়। কিন্তু এ সংস্কার কোনো কাজে আসে না। সরকারের টাকা যায়; কিন্তু দুর্ভোগ কমে না।’

টেকেরহাট এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ী সুমন শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গাড়ি চালানো একপ্রকার যুদ্ধ করার মতো অবস্থা। রাস্তা যেমন বেহাল তেমনি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলো বড় সমস্যা। এসবের কারণে গাড়ির গতি বাড়ানো যায় না। যারা একটু গতিতে চলে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আমাদের আর ভোগান্তি কমে না।’

সরকার নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের শোকজ করা হয়।

নোটিশ পাওয়া দুই চিকিৎসক হলেন- বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সালাহ আল দীন বিন নাসির রাসেল ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. মাহমুদ উল্লাহ মাহিন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে দুজনকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
বরিশালের বেগম তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি মহল নানা ধরনের অপকৌশল ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের প্রচারণায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা, নিয়ম-নীতি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষা, মডেল টেস্ট, অতিরিক্ত পাঠদানসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। জানা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। এসব শিক্ষার্থীকে পুনরায় প্রস্তুত করে তুলতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। যারা টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়, তাদের নামমাত্র ফি নিয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখায়। আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করতে এবং তাদের পুনরায় প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে একটি ফেরতযোগ্য জামানত নিয়ে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে সেই জামানত ফেরত দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কলেজ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে যাচাইয়ের জন্য মডেল টেস্ট পরীক্ষারও আয়োজন করা হয়। এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে ফি নির্ধারণ করা হয়, তা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে স্ব-প্রণোদিত হয়ে প্রদান করে থাকে। কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করা হয় না বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাসও নিয়ে থাকেন। এসব অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য শিক্ষকরা আলাদা কোনো দাবি করেন না। তবে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম ও সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে স্বেচ্ছায় একটি নির্দিষ্ট সম্মানী প্রদান করে থাকে বলে জানা গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিটি বৈধ লেনদেন যথাযথ নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হয়। ব্যাংকে জমা দেওয়া রশিদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ফান্ডেও অর্থ জমা করা হয় এবং প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে নির্ধারিত রশিদ প্রদান করা হয়। ফলে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসেন বলেন, “কলেজে কোনো অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয় না। প্রতিটি লেনদেন বৈধভাবে এবং রশিদসহ সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও সঠিকভাবে পাবলিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে কিছু একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে যেসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো যাচাই করে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

এদিকে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও মডেল টেস্টের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো করতে শিক্ষকরা অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লাস নেন এবং পড়ালেখার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজে কোনো ধরনের জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ঘটনা তারা দেখেননি। বরং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।
তারা আরও বলেন, “কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আমরা হতাশ। কলেজের প্রকৃত চিত্র না জেনে অপপ্রচার চালানো ঠিক নয়। আমরা চাই সংশ্লিষ্টরা সঠিক তথ্য যাচাই করে বিষয়টি দেখুক।