দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নগরীর রুপাতলী গোলচত্বর এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ সময় প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন এবং ইফতার বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, পবিত্র রমজান মাসে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত, যাতে সবাই একসঙ্গে রমজানের তাৎপর্য ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
ইফতার বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট বিভাগে থামছেই না সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২৬টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সিলেট বিভাগে মোট ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৪৮ জন আহত হয়েছেন।
জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সিলেটে সর্বোচ্চ ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১০ জন আহত। সুনামগঞ্জে ৪টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত। মৌলভীবাজারে ৬টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত। এবং হবিগঞ্জে সবচেয়ে কম ৩টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হলেও আহতের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২১ জন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত মাসে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান শিকার হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। ১২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০ জন চালক ও আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ৫টি সিএনজি ও টমটম দুর্ঘটনায় ৭ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। ১১টি দুর্ঘটনায় ১১ জন চালক এবং ৬টি দুর্ঘটনায় ৬ জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন।
নিসচার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৩টি দুর্ঘটনায় ৩ জন এবং গাছ ও খুঁটির সাথে আঘাতে ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মিশু এক বিবৃতিতে জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, দুটি জাতীয় দৈনিক এবং নিসচার শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে অনেক অনুমেয় বা অপ্রকাশিত ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সিলেট বিভাগে ২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া কদমতলা গ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, একই গ্রামের সজীব (২২), পার্থ (১৯), আশিক (১৮) এবং মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হওয়া বিল্লাল হোসেন (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ রাতে পাশের গ্রামের দুই যুবক অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েন। এই ঘটনার জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিপক্ষের একদল যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে জুগিয়া কদমতলা এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সজীব, পার্থ ও আশিককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে গেলে প্রবীণ ব্যক্তি বিল্লাল হোসেনও ছুরিকাঘাতে আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সজীব, পার্থ ও আশিকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে দুজনকে হেফাজতে নিয়েছি। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ সময় কোনো মাদক কারবারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ) ১০টার দিকে কাটাখালী থানার খানপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর চরের ঝাউ বনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবি।
বিজিবি আরও জানায়, দীর্ঘ সময় ওৎ পেতে থাকার এক পর্যায়ে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঝাউ বনের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় মাদক কারবারীরা তাদের কাছে থাকা দুটি বস্তা ফেলে রাতের অন্ধকারে ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ফেলে যাওয়া বস্তা তল্লাশি করে ৭৯ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দেওয়ায় ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকরা। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট ২৭৯টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০০ টাকার বেশি মোটরসাইকেল চালককে তেল দিচ্ছে না ফিলিং স্টেশন মালিকরা।
উত্তরের জেলা রাজশাহীতে তেল সংকটের বিষয়টি সামনে আসে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। ওই দিন নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বাইকারদের চাহিদামতো তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকার তেল দেওয়া শুরু হয়।
শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা শাহজামাল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে তিনি মাত্র এক হাজার টাকার পেট্রল নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে একটি স্টেশন থেকে ৫০০ টাকার এবং দুটি স্টেশন থেকে ২৫০ টাকা করে তেল নিয়েছেন তিনি। কোথাও চাহিদামতো তেল পাননি বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এলাকার নয়ান ফিলিং স্টেশনে কথা হয় বাইকার সবুজ আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিনই তার বাইক ব্যবহার করতে হয়। তাই বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে তিনি বাইকের ট্যাংকিতে তেল ভরার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলো চাহিদামতো তেল বিক্রি করতে পারছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে তেল রয়েছে, সেগুলোতে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় তেল কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কেউ বাইক খুব একটা ব্যবহার না করলেও এসে এক হাজার টাকার তেল চাইছে। আবার যারা বেশি বাইক চালায় তারা একাধিক পাম্পে ঘুরে ট্যাংকি পূর্ণ করে বাড়িতে সংরক্ষণ করছে। এতে সংকটের বিষয়টি আরও তীব্রভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
সারা দেশে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে আগামী রবিবার থেকে টানা তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী রবিবার রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুরের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ড্যাবের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় আড়াই হাজার চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি রয়েছে এবং এ বিষয়ে সবাই একমত। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্য যে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বেশিদিন কাছে পাইনি। ১৯৮১ সালে তিনি কতিপয় বিপথগামী ব্যক্তির হাতে নিহত হন। তাঁর স্বপ্ন ছিল মানুষের দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। আজ ড্যাবের সদস্য, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে। রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, ইনশা আল্লাহ।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান। এছাড়া ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইফতার মাহফিলে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা শাখার ড্যাব নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রায় আড়াই হাজার চিকিৎসক ও অতিথি এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় সিরাজগঞ্জ অংশে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা কমেছে। মহাসড়কজুড়ে পুলিশি নজরদারি, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ায় উত্তরের ঘরমুখো মানুষের এবারের ঈদযাত্রা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেন বর্তমানে চালু রয়েছে। যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় এলাকায় নির্মিত ১১টি উড়াল সেতু এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কও ব্যবহার হচ্ছে। ফলে অতীতে ঈদের সময় এই সড়কে যে তীব্র যানজট দেখা যেত, এবার তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে যমুনা সেতু হয়ে প্রতিদিন উত্তরের ১৬টি ও দক্ষিণের পাঁচটি জেলার প্রায় ১৫-১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এতে অতীতে বিপুল সংখ্যক যানবাহন একসঙ্গে সেতু পার হতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আগেভাগেই নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। কোথাও যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উদ্ধারকারী রেকার ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত থাকবে। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দূরপাল্লার বাসের চালক ও সুপারভাইজারদের মতে, চার লেন চালু হওয়ায় এবার যানজটের আশঙ্কা কম। তবে মহাসড়কের কিছু এলাকায় ডাকাতি বা গাড়িতে ঢিল ছুড়ে জিম্মি করার ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশের টহল জোরদার থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে জেলা পুলিশ ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। মহাসড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদসহ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’
সাসেক-২ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেন চালু রয়েছে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা থেকে বগুড়াগামী একটি সংযোগ সড়ক বর্তমানে বন্ধ থাকলেও ঈদের আগেই তা খুলে দেওয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে সড়ক সচল রাখা হবে। প্রয়োজনীয় স্থানে উদ্ধারকারী যান ও টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে এবার উত্তরের মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের বিভাজকে ফুটেছে নানা জাতের রঙিন ফুল। বসন্তের এই সময়ে সড়কের মাঝখানে সারি সারি ফুলের সমারোহ পথচারী, যাত্রী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়ক বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছে ফুটেছে বসন্তের ফুল। এর সঙ্গে ভাওয়ালের শালবনের ঘন সবুজ পরিবেশ যুক্ত হয়ে পুরো এলাকাজুড়ে এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে।
সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় মহাসড়কের আশপাশে। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ লাইভ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিশেষ করে সালনা, রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া, ভবানীপুর, বাঘেরবাজার, মাস্টারবাড়ী ও নয়ণপুর এলাকায় ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই দেখা যায় নীল কাঞ্চন, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনক চূড়া, কনক চাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল ও রক্ত করবীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ।
স্থানীয়রা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে মহাসড়কের পাশে ভিড় করছেন।
কাপাসিয়া সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তামান্না সরকার ও মোহনা সরকার বলেন, “ফেসবুকে দেখে আমরা দুই বোন সকালেই শ্রীপুরের রাজাবাড়ী থেকে এখানে এসেছি। মনে হচ্ছে গাজীপুরের মাঝেই যেন এক টুকরো জাপান”।
দর্শনার্থী মৌসুমী সরকার বলেন, “মহাসড়কের এই সৌন্দর্য রক্ষা করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার। অনেকে সেলফি তুলতে গিয়ে সড়ক বিভাজকে উঠে যান, যা ঝুঁকিপূর্ণ”।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, “ফেসবুকে দেখে সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। এমন পরিবেশ মানুষের মনকে প্রশান্ত করে। দেশের অন্যান্য সড়কেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিবেশ আরও সুন্দর হবে”।
২০১৫ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার সময় সড়ক বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার ফুলগাছ রোপণ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাতে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের আলো যেন চালকদের চোখে সমস্যা সৃষ্টি না করে এবং একই সঙ্গে সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান বলেন, “মহাসড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ তিন সারি বা এক সারিতে রোপণ করা হয়েছে। এখন গাছগুলো পরিপক্ক হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফুল ফুটে যাত্রী ও পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে কেউ যেন গাছের ক্ষতি না করেন বা সড়কে ঝুঁকি তৈরি না করেন—এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

