দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজশাহীর বাঘায় ভটভটি ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন আরও দুজন।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চণ্ডিপুরের হযরত আলীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক জানিয়েছেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

শহীদ আবু সাঈদের রংপুরে উন্নয়ন বৈষম্যের এক নির্মম চিত্র শিশু হাসপাতাল। নির্মাণ কাজ শেষে ভবন হস্তান্তরের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল কাক্সিক্ষত এবং র্দীঘ প্রত্যশিত ১০০ শয্যার বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালটি

শহীদ আবু সাঈদের রংপুরে উন্নয়ন বৈষম্যের এক নির্মম চিত্র শিশু হাসপাতাল। নির্মাণ কাজ শেষে ভবন হস্তান্তরের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল কাক্সিক্ষত এবং র্দীঘ প্রত্যশিত ১০০ শয্যার বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে শিশু স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় এখনও অনিশ্চিত প্রহর গুণছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছে এই অঞ্চলের শিশুরা। সুর্দীঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকায় এর বর্ণীল অবকাঠামো সমূহে ধুলায় ধুসর মলিন হয়ে এখন ভুতুরে বাড়ির পরিবেশ বিরাজ করছে। এর অন্যান্য সামগ্রীও ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো, অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের দীর্ঘ সূত্রীতায় রংপুর অঞ্চলের শিশুরা এই কাক্সিক্ষত শিশুস্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত বলে জানা গেছে।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রংপুর শিশু হাসপাতালের কাংখিত পূর্ণাঙ্গ শিশুস্বাস্থ্য সেবা আলোর মুখ দেখবে কবে? ইতোমধ্যে হাসপাতালটি নির্মাণের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এবং মুখ রক্ষার উদ্বোধনের ৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবে রংপুর অঞ্চলের শিশুরা সেই কাক্সিক্ষত শিশু হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়েছে।

সরেজমিন হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে দেখা গেছে, বর্ণিল সাজে সজ্জিত রংপুর শিশু হাসপাতাল ভবনে যেন নির্জন এক ভুতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধানে এখানে সীমিত সেবায় বর্তমানে কেবল বর্হি বিভাগ চালু রয়েছে। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন আবাসিক চিকিৎসক, ৪ জন কনসালটেন্ট, ৪ জন নার্স এবং নিরাপত্তা প্রহরীরা পালাক্রমে অনেকটা কর্মহীন অলস সময় কাটাচ্ছেন। এর চত্বরে শিশুদের জন্য নির্মিতি বিভিন্ন খেলার জমকালো রাইড গুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় এর অবকাঠাসো সহ অন্যান্য সামগ্রী ধুলায় মলিন অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্তব্যরত নার্সরা জানালেন প্রতিদিন প্রায় ৫০/৬০ জন শিশু বর্হি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে।

প্রকাশ, প্রায় ২ কোটির অধিক জন অধ্যুষিত রংপুর বিভাগের ৮ জেলার শিশুদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে মহানগরীর প্রাণ কেন্দ্রে পুরাতন সদর হাসপাতাল চত্বরে ৭ বছর আগে প্রায় ১ দশমিক ৭৮ একর জমির উপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সে সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এটির সকল ভবন হস্তান্তর করেন। এরপর করোনার ডামাডোলে এখানে শিশুদের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রমের উদ্যোগ বন্ধ রেখে এটিকে করোনার বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। করোনার প্রার্দুভাব অনেক আগেই মুছে গেলেও অজ্ঞাত কারণে শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ২০২৩ সালের ১৬ ই ফেব্রুয়ারী রংপুর ১০০ শয্যার শিশু হাসতালটির ঢাকেেঢাল পিটিয়ে উদ্বোধন করা হয়। এই অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বেঁধে ছিল যে এবারে শিশু হাসতালটির স্বাস্থ্য সেবার কার্যক্রম আলোর মুখ দেখবে। তবে সে আশা এখনও অফুরন্ত অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে। উদ্বোধনের ৩ বছর অতিবাহিত হলেও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংযোগ, জনবল নিয়োগ এবং অর্থ বরাদ্দ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরু করা হয়নি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে পুরাতন সদর হাসপাতাল চত্বরের প্রায় ১ দশমিক ৭৮ একর জমির উপর প্রায় সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৭ সালের ২১ শে নভেম্বর এই শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজে ২ বছর সময় বেঁেধ দেয়া হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই এর কাজ সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালের ৮ই মার্চ হাসপাতাল ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার জন্য জেলা সিভিল সার্জনের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

নবনির্মিত এই শিশু হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তিনতলা বিশিষ্ট মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলায় ২০ হাজার ৮৮২ বর্গফুট আয়তন সহ মোট ৬২ হাজার ৮৪৬ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালের প্রথম তলায় জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, চিকিৎসকদের চেম্বার ও প্যাথলজিক্যাল ল্যবরেটরীর ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার ও ব্রোন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় শিশুওর্য়াড এবং কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এখানে ৬ তলা বিশিষ্ট ডাক্তারদের আবাসিক ভবন এবং স্টাফ ও নার্সদের আবাসিক ভবন, তিন তলা বিশিষ্ট সুপারিনটেনডেন্ট কোয়াটার, দুই তলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়াটার, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সাপ্লাই সিষ্টেম, বিদ্যূৎ সাব ষ্টেশন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক তৈরি করা সহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। শিশু হাসতালটি চালু হলে এখানে এই অঞ্চলের শিশুদের বিনামূল্যে জটিল অপারেশন সহ বিশেষায়িত উন্নত চিকিৎসা সেবার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত অবকাঠামো সমূহ নির্মাণের পর করোনার প্রার্দুভাবের কারণে সে সময় এই হাসপাতালটিকে করোনা ডিটেকটিভ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও রহস্যজনক ভাবে দীর্ঘ দিনেও শিশু হাসতালটি পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু করা হয়নি। এর ফলে রংপুর অঞ্চলের শিশুদের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকা সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছুটতে হচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সীমিত পরিসরে বর্তমানে এই অঞ্চলের শিশুদের চিকিৎসা সেবায় প্রয়োজনীয় জনবল সহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে এখানে শিশুদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে রংপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার শাহীন সুলতানা দৈনিক সংগ্রামকে জানান, রংপুরে ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভন্ন বিষয়ের সমস্যার ব্যাপারে বিগত ১৭-১০-২৪ তারিখে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন, জনপ্রশাষন বিভাগ কর্তৃক পদ সৃজন এবং অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিহিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী এসবের বাস্তব চালচিত্র সম্বলিত একটি পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে গত বছর ৫ই নবেম্বর অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় এর অবকাঠাসো সহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জনবল পাওয়া গেলেই এটি চালু করা হবে। তবে এ ব্যাপারে এখনও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার গওছুল আজিম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, রংপুর শিশু হাসতালের পরিচালনার প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থবরাদ্দ এবং অনুমোদনের জন্য চাহিদা র্নিধারণ করে কয়েক মাস পূর্বে মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনও কোন আদেশ পাওয়া যায়নি। তিনি স্বিকার করেন অব্যবহৃত থাকায় অবকাঠামো সহ অন্যান্য সামগ্রী ধুলাবালিতে মলিন হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।

রংপুর শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জেলার ডেপুটি কমিশনার কমিশনার কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তাগাদা পত্র দেয়া হয়েছে। তবে এটি চালু করার ব্যাপারে কার্যকর কোন আদেশ এখনও পাওয়া যায়নি।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রংপুর মহানগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে তীব্র যানজটের কবলে পড়েছে নগরবাসী। রমজান মাসে এ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলছে কচ্ছপগতিতে, মোড়ে মোড়ে অটোরিকশার দীর্ঘ জটলা। সিটি বাজার থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, মেডিকেল মোড়, সুপার মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ছে। ফলে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী ও কেনাকাটায় বের হওয়া মানুষের যাতায়াতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে।

সরেজমিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সিটি বাজারের সামনে থেকে জাহাজ কোম্পানি মোড় পর্যন্ত মাত্র ১০০ গজ পথ যেতে অটোরিকশায় লাগছে ২০ মিনিট। পায়রা চত্বর থেকে প্রেসক্লাবের ৫ মিনিটের হাঁটাপথ অটোয় যেতে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা। ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, রাস্তার মাঝে অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা—সব মিলিয়ে নগরের প্রধান সড়কগুলো হয়ে উঠেছে চলাচলের অযোগ্য। রোজার গরমে পণ্য হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী—সবাই অতিষ্ঠ।

যানজটের মূল কারণ কী?

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরে অনিবন্ধিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের তথ্যানুসারে, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৪৯২টি তিন চাকার যানবাহনের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে (২০০৯ সালে প্রথম দফায় ৩ হাজার ৩১৩টি)। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন নিবন্ধন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে শহরে চলছে ২০ থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এর মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ ও নাম্বারবিহীন। উপজেলা থেকে বিনা বাধায় এসব যান শহরে ঢুকে পড়ছে।

এ ছাড়া, সরু ও খানাখন্দে ভরা সড়ক, ফুটপাত দখল, ক্লিনিক-হাসপাতালে পার্কিংয়ের অভাব, ডাম্পিং জোন না থাকা এবং সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়হীনতা যানজটকে আরও জটিল করেছে। নাগরিক সমাজসহ সব পক্ষ বলছে, অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ না করলে যানজট নিরসন সম্ভব নয়।

নগরবাসীর দুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া

মুলাটোলের বাসিন্দা কর্মজীবী সেলিম মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘যানজট এখন গলার কাঁটা। গাড়িগুলো নিজস্ব লাইন মেনটেইন করলেও অনেক ভোগান্তি কমত।’ শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ‘অটো-রিকশার জটে ফুটপাতও নেই, হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। প্রশাসনের চোখে এসব পড়ে না।’ অটোচালক আনিস মিয়া সারাবাংলাকে জানান, ‘অটো বেড়েছে, ভাড়া কমেছে, নাম্বারবিহীন গাড়ি চলে—পুলিশ ধরে না।’

পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) লিমন রায় জানান, যানজট নিরসনে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। প্রতিদিন ১০-২০টি অবৈধ ইজিবাইক জব্দ ও ২ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সমস্যা হলো—ডাম্পিং জোন দূরে (কোতোয়ালি বা তাজহাট থানায়)। ফলে একটি গাড়ি ডাম্পিং করে আসতে ফোর্সের অনেক সময় নষ্ট হয়। ট্রাফিক বিভাগে মোট ১০১ জন পুলিশ, দৈনিক ৭০ জন দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশের দাবি—সবার সহযোগিতা ছাড়া পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।

সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, যানজট কমাতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুর থেকে হাজীরহাট এবং দমদমা থেকে মাহীগঞ্জ হয়ে নবদীগঞ্জ পর্যন্ত দুটি বাইপাস সড়কের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে—এখনো অনুমোদন হয়নি।

সমাধানের পথ ও সাম্প্রতিক উদ্যোগ

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মী মুনীর চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘সড়কে কোনো শৃঙ্খলা নেই। পুলিশের পদক্ষেপ কম, সিটি করপোরেশন-পুলিশের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট।’ সুজনের খন্দকার ফখরুল আনামের মতে, ‘অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক নিবন্ধন বন্ধ করতে হবে। বিকল্প সড়ক নির্মাণ, চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা যেতে পারে।’তবে পুলিশ বলছে, ট্রাফিক পুলিশ অনিবন্ধিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। ঈদ সামনে রেখে একমুখী সড়ক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ জট খোলা কঠিন।

উল্লেখ্য, শুধু রংপুরেই এসব অটো চার্জিংয়ে মাসে ৯০-১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে—যা জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। জাতীয় পর্যায়ে বিআরটিএও অটোরিকশাকে নির্দিষ্ট রুটে চালানো, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন-লাইসেন্স ও নিরাপদ মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে।রংপুর নগরবাসী এখন শুধু একটি প্রশ্ন করছেন—কবে খুলবে এ জট? প্রশাসনের সদিচ্ছা ও নাগরিক সহযোগিতায় যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবেই সম্ভব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহ কেটেছে। দেখা দিয়েছে বৃষ্টিপাতের আভাস। এক্ষেত্রে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাত হতে পারে।আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। লঘুচাপের কারণে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়বে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাবে। ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব/দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ৬-১২ কি.মি.।

বুধবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহ নগরীর কাঁচিঝুলির জয়নুল রোডের একটি পুরোনো ভবনে চলছে ব্যতিক্রমী এক কর্মযজ্ঞ। এখানে ‘প্রতিবন্ধী আত্ম-উন্নয়ন সংস্থা’র তত্ত্বাবধানে শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীরা তৈরি করছেন কার্পেট, শতরঞ্জিসহ নানা ধরনের কারুপণ্য। তাদের নিপুণ হাতের স্পর্শে তৈরি এসব পণ্য এখন ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর বড় বোন ও ছোট বোনের দায়িত্ব এসে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী নপালীর কাঁধে। কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়েই তিনি দুই বোনকে পড়ালেখা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। এখন তাদের সংসার গুছিয়ে দেওয়ার পর নিজ জীবন নিয়ে অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন তিনি। নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরের বাসিন্দা নপালী ২০০৭ সাল থেকে এখানে কাজ করছেন। এই কাজই বদলে দিয়েছে তার ভাগ্য।

ময়মনসিংহ নগরীর কাঁচিঝুলির জয়নুল রোডের ওই পুরোনো ভবনে বসেই কার্পেট বুননের কাজ করেন এই তরুণী। জন্মের পর থেকেই পোলিওতে আক্রান্ত নপালী এখন ৩৫ বছর বয়সী। দুই চাকার হুইলচেয়ার আর চার দেয়ালের ঘরের ভেতরেই তার কর্মজীবন। তাঁতের খটখট শব্দের মধ্যেই তিনি বুনে চলেন নান্দনিক নকশার কার্পেট।

তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে এখানে আসেন। লেখাপড়া জানতেন না। ৬ মাস কাজ শিখেছেন পাশাপাশি লেখাপড়া করেছেন। এখন তিনি সব কাজ পারেন। সেলাই করেন, কার্পেটের কাজও পারেন।

শুধু নপালীই নন, তার মতো আরও অনেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী এখানে কাজ করছেন। তাদের কেউ কথা বলতে পারেন না, কেউ কানে শোনেন না, কেউবা জটিল রোগে আক্রান্ত বা চোখে কম দেখেন। তবুও থেমে নেই তাদের কাজের গতি।

ঘরের চারপাশে ছড়িয়ে আছে তাদের তৈরি চোখ ধাঁধানো নকশার কার্পেট, মেয়েদের ব্যাগ, সিঁকেসহ নানা ধরনের কুটির পণ্য। মূলত ঝুট, পুরোনো কাপড়, রিসাইকেল সুতা ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি হয় এসব পণ্য। এখানকার কারিগররাই নকশা তৈরি করেন এবং তারাই উৎপাদক।

রিতা আক্তার নামে আরেক কর্মী জানান, তিনি জানতেন না এখানে এতো প্রতিবন্ধী আছে। এখানে এসে দেখেছেন, কাজ শিখে নিজেই নিজের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন।

ময়মনসিংহে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের হাতে তৈরি এসব নান্দনিক কারুপণ্য এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সমাদৃত। সুতা, ঝুট ও পুরোনো কাপড়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন এবং মানসম্মত হওয়ায় এসব পণ্য যাচ্ছে ফ্রান্স, জাপান, বেলজিয়ামসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং একটি স্থায়ী কারখানা নির্মাণের জন্য জায়গা পেলে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য আরও বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিবন্ধীদের তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য ‘প্রজাপতি ক্রাফট’ নামে একটি নিজস্ব শোরুমও রয়েছে। সেখানে পুতুল, মোমবাতি, কার্পেটসহ বিভিন্ন ধরনের কারুপণ্য বিক্রি করা হয়।

প্রতিবন্ধী আত্ম-উন্নয়ন সংস্থা নির্বাহী পরিচালক শেফালী আক্তার জানান, এইটা প্রতিবন্ধীদের জন্যই সেবামূলক কাজ। এখানে যারা কাজ করেন, সকলেই প্রতিবন্ধী। যারা পরিচালনা করেন, তারাও প্রতিবন্ধী। ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫০ জন সদস্য আছে এই সংস্থার। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাবলম্বী করা।

‘প্রতিবন্ধী আত্ম-উন্নয়ন সংস্থা’ ময়মনসিংহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মউন্নয়ন এবং সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধীদের জন্য সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের নিয়ে যে উদ্যোগটা নেওয়া হয়েছে, খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হয়। আমরা তাদের কাজের প্রশংসা করি।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের জেরে ট্রাকে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ময়মনসিংহ-ফুলবাড়িয়া সড়কের দাপুনিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নিহত ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন (৩২)। তিনি ঘাগড়া ইউনিয়নের সুহিলা পশ্চিমপাড়া এলাকার হাতেম আলী সরকারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, জসিম একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পারিবারিক কাজে ময়মনসিংহ শহরে গিয়েছিলেন। শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার মোটরসাইকেলকে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির ড্রাম ট্রাক চাপ দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী জসিম নিহত হন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।

‎এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

হামলার সময় তার স্বামীর কাছে থাকা নগদ ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা তিনটি স্বর্ণের আংটি এবং ব্যাগে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান অভিযুক্তরা।

ময়মনসিংহ নগরীর বাসাবাড়ি মার্কেটে এক নারী ক্রেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি কাপড়ের দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নগরীর মালগুদাম এলাকার বাসিন্দা ফারজানা আক্তার (৩০) গত ৬ মার্চ রাত ৯টার দিকে ঈদ উপলক্ষে কাপড় কিনতে বাসাবাড়ি মার্কেটের ‘খাদিজা ফেব্রিক্স’ নামের একটি দোকানে যান। এ সময় দোকানের এক কর্মচারী তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করলে তিনি ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবাদ জানান।

এতে দোকানের মালিক ফরিদসহ কয়েকজন কর্মচারী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় ফারজানার স্বামী ও তার ভাইদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার ভাই জামিল হোসেন গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার সময় তার স্বামীর কাছে থাকা নগদ ২১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা তিনটি স্বর্ণের আংটি এবং ব্যাগে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান অভিযুক্তরা।অভিযোগে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা দোকানের চেয়ার, হেলমেটসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে মারধর করেন এবং ফল কাটার ছুরি ও কাঁচি দিয়ে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয় এবং পরে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করা হয়।এদিকে ঘটনার পরদিন মার্কেট কমিটি ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ময়মনসিংহের বিসিক শিল্প নগরীতে ‘মেসার্স তাকওয়া মার্কেটিং নেটওয়ার্ক’ উৎপাদিত নাইটগার্ড মশার কয়েল ফ্যাক্টরিতে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট টানা তিন ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. হাফিজুর রহমান জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারখানার যন্ত্রপাতি, উৎপাদিত কয়েল, মটরসহ অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে গেছে।

ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, আগুনে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারখানার মেরামত এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য বিপুল অঙ্কের খরচ প্রয়োজন হবে এবং পুনরায় চালু করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে। ফ্যাক্টরিতে প্রায় দেড়শত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়রি (নং-৭০৪, ০৮/০৩/২০২৬) করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে কারখানার অনেক অংশসহ উৎপাদিত কয়েল, উৎপাদন সামগ্রী, মটর এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিসিকে প্রচুর পরিমাণ শিল্প কারখানা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার।

সোমবার (৯ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ।

এর আগে ২০-এর অধিক প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ‘২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হইবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করিবেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভবেরচরস্থ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের উপর অবস্থিত ফুট ওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক ডিভাইডার এর ভাঙ্গা রেলিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে।

রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় সরেজমিন দেখা যায়, গজারিয়াবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল ভবেরচর ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। রাস্তার মাঝখানের রোড ডিভাইডারের উপর রেলিং দেওয়া, কিন্তু রেলিংয়ের একটি জায়গায় লোহার পাতগুলো ভাঙা থাকায় অনেক ফাঁকা হয়ে আছে। ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে পথচারীরা। মালামাল নিয়েও পার হচ্ছে অনেকে।

এ সময় একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিজের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার কষ্ট ও সময় বাঁচানোর জন্য ভাঙ্গা রেলিং দিয়ে তারা পারাপার হচ্ছে। অথচ মানুষ যেন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হতে পারে সে কারণেই ডিভাইডারের উপর লোহার রেলিং দেওয়া হয়।

স্থানীয় যুবক ইসমাইল জানান, কাজের তাড়া আছে। দ্রুত অফিসে যেতে হবে। অনেকে এখান দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে দেখে আমিও আসলাম। জীবনের চেয়ে কি সময়ের মূল্য বেশি- প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে তিনি চলে যান।

এভাবে ইসমাইলের মতো শত শত পথচারী প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। রেলিংগুলো দীর্ঘদিন ভাঙা থাকা সত্ত্বেও মেরামত করছে না কর্তৃপক্ষ। এতে রাস্তা পারাপারের সুযোগ থাকায় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ততম সড়ক পার হচ্ছে পথচারীরা। এ ব্যাপারে অধিকাংশ পথচারীর মত, আইল্যান্ডের উপরের রেলিংয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা পারাপারের ‘সুযোগ’ আছে বলেই তারা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না।

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হয়ে আসা তাসলিমা নামে এক নারী পথচারী জানান, ওভার ব্রিজ পার হতে কষ্ট হয়। তাছাড়া স্টিলের গ্রিল ভাঙা থাকায় অনেককেই রাস্তার মাঝখান দিয়ে পারাপার হতে দেখা যাচ্ছে,সেজন্য আমিও আসলাম।

বিষয়টা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা বিষয়টা নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি,তারা জানিয়েছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গা রেলিং মেরামত করে দিবেন। যদি তারা দেরি করেন তবে আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে কাজটা করে দিব।

এ বিষয়ে না:গঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, দু’একদিনের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।