দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

দুর্যোগ প্রবণ এলাকার মানুষের মাঝে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চট্টগ্রাম নগরী ও বাঁশখালীতে ব্যতিক্রম ধর্মী পুতুল নাট্য “নিরাপদে বাঁচি” প্রদর্শিত হয়েছে। ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত কয়েক দিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় পাহাড় ধ্বসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর আয়োজনে, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস-এর অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। নাটকটি নির্মাণ ও পরিচালনা করে ক্যানভাস পাপেট শো, পটিয়া।

পুতুলনাট্যের মাধ্যমে সহজ ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় কমিউনিটির মানুষকে দুর্যোগের পূর্বাভাস ভিত্তিক আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাটকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক ও আবহাওয়া ক্লাবের ভূমিকা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গবাদিপশু রক্ষা, কৃষি ও খাদ্য সংরক্ষণসহ জরুরি সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাহাড়ধ্বসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এই পুতুলনাট্য প্রদর্শিত হয়। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও বাস্তবমুখী বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

নাটকটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনির ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আছিয়া খাতুন বলেন,“বাবারে, কী আর কমু! এত সুন্দর পুতুলের নাটক দেখে মন ভইরা গেছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম।”

অন্যদিকে ষোলশহর স্টেশন এলাকার সাবু মিয়া বলেন,“আহা! কী যে ভালো লাগছে। মানুষ দুর্যোগ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছে।”

উল্লেখ্য, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ইপসা “শিশু-কেন্দ্রিক আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ও ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও কালিপুর ইউনিয়নে পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্প কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমধর্মী পুতুলনাট্যের আয়োজন করা হয়।

পুতুলনাট্য প্রদর্শনের সময় আয়োজিত জনসচেতনতামূলক আলোচনায় অংশ নেন ইপসার ব্যবস্থাপক (আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি) সানজিদা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ফারাবী আকাশ, ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম এবং শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সচেতনতার বার্তা নিয়ে পুতুলের মঞ্চে সাজানো এই আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি কার্যকর সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি পদ শূন্য রেখেই শুরু হয়েছে অধিবেশন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

তারেক রহমান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সৌদি সরকারের পাঠানো ১৭৮ কার্ট‌ন খেজুর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে খেজুর খুলনায় পৌঁছায়। বুধবার সকালে খেজুরগুলো সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঠানো হয়।

এর মধ্যে খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসন নিয়ে গঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার খেজুর এতিমখানা ও বোর্ডিংয়ে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য উপজেলার খেজুর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১০ মার্চ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যমে তার এলাকায় পাঠানো খেজুরের তথ্য তুলে ধরেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। বিভিন্ন সংসদীয় এলাকার মানুষ তার এলাকার জন্য বরাদ্দ হওয়া খেজুরের তথ্য জানতে চাইছেন।

খুলনার আযমখান কমার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ফয়জুল্লাহ শাকিল ফেসবুকে লেখেন, খুলনার ১৮২ কার্ট‌ন খেজুর কোথায় গেল, জানতে চাই। বিএল কলেজের শিক্ষার্থী শরীফ সানা লেখেন, খুলনা-২ আসনের খেজুর কোথায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি সরকারের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিফিল সেন্টার’ প্রতিবছর রমজান উপলক্ষে উপহার হিসেবে খেজুর পাঠান। চলতি বছর ১২ হাজার ৫০০ কার্ট‌ন খেজুর দেশে পৌঁছায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। গত ১ মার্চ ৬৪ জেলায় এই খেজুর ভাগ করে দেওয়া হয়। খুলনা জেলার জন্য বরাদ্দ হয় ১৮২ কার্ট‌ন।

খুলনা জেলার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমরা ১৭৮ কার্ট‌ন খেজুর বুঝে পেয়েছি। নথিতে ১৮২ কার্ট‌ন লেখা থাকলেও ১৭৮ কার্ট‌ন প্রাপ্তির বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে খেজুরগুলো উপজেলা প্রশাসক ও কেসিসিতে বন্টন করা হয়েছে। এখন তারা বিধি অনুযায়ী বিতরণ করবে।

তিনি জানান, কেসিসিতে ৩২ কার্ট‌ন, দাকোপে ১৯, বটিয়াঘাটায় ১৫, ডুমুরিয়ায় ২৯, পাইকগাছায় ২১, কয়রায় ১৫, ফুলতলায় ৯, দিঘলিয়ায় ১৩, তেরখাদায় ১৩ ও রূপসায় ১২ কার্টুন দেওয়া হয়েছে। কয়রা ও পাইকগাছা ছাড়া বাকিরা খেজুর বুঝে নিয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর এভাবেই খেজুর আসে এবং একইভাবে বিতরণ করা হয়। তবে মাঝে কয়েকবছর সিটি করপোরেশন এলাকায় খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

কেসিসিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বুধবার সকালে তাদের ৩২ কার্ট‌ন খেজুর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা মহানগরীর সবকটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিয়ে খেজুরগুরো সমানভাবে বন্টন করা হবে। সেভাবেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বড় বরাদ্দ গেছে ডুমুরিয়ায়। সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, খেজুর আনতে আমাদের কর্মকর্তা গেছেন, এখনও পৌছাননি। নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমখানায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। অনান্য উপজেলায় খেজুর বিতরণের তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করতে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। এগুলো হলো- পরিচ্ছন্ন নগর গড়া, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ঝুলন্ত তার অপসারণ এবং নগরীকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।

গতকাল বুধবার সকালে নিজ দফতরে নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। সাক্ষাৎকারটি প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন?

নজরুল ইসলাম মঞ্জু : আমি দায়িত্বটি সানন্দে গ্রহণ করেছি। খুলনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী। এখানে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : দায়িত্ব নেয়ার পর খুলনা মহানগরীর সমস্যাগুলো কি তালিকাভুক্ত করছেন?

মঞ্জু : দায়িত্ব নেয়ার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে বলেছেন। সেগুলোর মধ্যেই মূলত আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হয়েছে।

প্রথমত, খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম আসছে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা খুবই জরুরি। এ জন্য ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বাড়ির আঙিনায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে হবে। খোলা জায়গায় বর্জ্য না রেখে কাভার দিয়ে সংরক্ষণ এবং অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে সার, জ্বালানি তেল বা অন্যান্য উপযোগী পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

চতুর্থত, শহরের রাস্তায় ঝুলে থাকা বিভিন্ন ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তার অপসারণ করা। এগুলোকে নিরাপদভাবে মাটির নিচ দিয়ে বা ড্রেনের পাশে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চমত, খুলনাকে একটি গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।

প্রশ্ন : স্বাস্থ্যসেবা ও নগরবাসীর সামাজিক সুবিধা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

মঞ্জু : অবশ্যই আছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় যেসব ক্লিনিক রয়েছে, সেগুলোর সেবা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

প্রসূতি মায়েদের জন্য যে ক্লিনিকগুলো রয়েছে, তার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো আবার চালু করার চেষ্টা করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রশ্ন : নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে কী কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?

মঞ্জু : আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে- জিয়া হল পুনর্নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তুত করা এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া; সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট আধুনিক ও সচল করা; শহরের স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দিরের উন্নয়ন এবং বস্তিবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের সহায়তা দেয়া।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি মানবিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে চাই।

প্রশ্ন : বাজারব্যবস্থা ও যানজট সমস্যা নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?

মঞ্জু : আমরা ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেছি। যানজট নিরসনের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে।

খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং তা যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়েও আমরা বাজার পরিদর্শন করেছি। এসব বিষয় নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

প্রশ্ন : নগরীর ড্রেনেজব্যবস্থা ও ধুলাবালি সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?

মঞ্জু : শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য যে কাজ চলছে, তা দ্রুত শেষ করার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। একইভাবে ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।

কারণ শহর পরিষ্কার রাখতে গেলে এসব অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া খুবই জরুরি। এ ছাড়া শহরকে ধুলামুক্ত রাখার জন্যও আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন যেন মানসম্মত ও টেকসই হয়।

প্রশ্ন : দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের সমস্যা অনুভব করছেন কি?

মঞ্জু : না, তেমন কোনো সমস্যা অনুভব করছি না। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন- জনগণের প্রয়োজন বুঝতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

সিটি করপোরেশনের যেসব বিষয়ে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরব।

প্রশ্ন : খুলনা সিটি করপোরেশন ঘোষিত হলেও জনবল কাঠামো এখনো ১৯৮৭ সালের পৌরসভার কাঠামোয় রয়েছে। এটি আপগ্রেড করার উদ্যোগ নেবেন কি?

মঞ্জু : অবশ্যই চেষ্টা করব। একটি বড় শহর পরিচালনার জন্য আধুনিক ও পর্যাপ্ত জনবল কাঠামো প্রয়োজন। তাই এই বিষয়টি আপগ্রেড করার জন্য আমরা যথাসাধ্য উদ্যোগ নেব।

প্রশ্ন : স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা ভাবনা আছে কি?

মঞ্জু : আপাতত সে বিষয়ে ভাবছি না। বর্তমানে আমার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা। আপাতত সেই দায়িত্ব পালনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

সবশেষে ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনায় ২০২৫ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী দুই পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) কর্তৃক প্রেরিত উপহার এবং কেএমপি’র পক্ষ থেকে এ ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

আজ বুধবার দুপুরে কেএমপি কমিশনার কার্যালয়ে দুই পুলিশ সদস্যের পরিবারের হাতে এ উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

পরিবার দুটির পক্ষ থেকে সহকারী পুলিশ সুপার মরহুম এসএম ইকবাল আহমেদের স্ত্রী মোছা. নুরুন নাহার ইতি এবং এএসআই (নিরস্ত্র) মরহুম মো. আবুল হাসান সেখের স্ত্রী মোছা. শাহিদা আক্তার এসব উপহার সামগ্রী গ্রহণ করেন।

খুলনা মেট্রোপিলটন কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) বর্তমানে ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ এবং কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদ্বয়ের পরিবারবর্গ।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

উনিশ মাস পর সরব হচ্ছে জাতীয় সংসদ। ১৮ বছর পর নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যাচ্ছে বিএনপি। খুলনার ৬ টি আসনের মধ্যে নির্বাচিত ৫ জনই নতুন মুখ। ২০ বছর আগে এই সংসদে খুলনা-২ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন বিসিবি’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগর লবি। আজ প্রথম অধিবেশনে খুলনার ছয়টি আসনের সংসদ সদস্যরা ১৮ টি দাবিকে প্রাধান্য দেবেন।

খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক। সরকারি দলের হুইপ। তিনি সংসদে নতুন মুখ। নির্বাচনের আগে তার স্লোগান ছিল ‘খুলনা-৩ সবার, দায়িত্ব আমার’। তিনি এ অধিবেশনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জুটমিলসহ সকল কলকারখানা চালু করার দাবি জানাবেন। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অর্থাৎ ইপিজেড আদলের শিল্প নগরীর গড়ে তোলার প্রস্তাব করবেন তিনি। এছাড়া সকল প্রকার চাদাঁবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের কাছে দাবি জানাবেন।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগর লবি। তিনি বিসিবি’র সাবেক সভাপতি। প্রথম অধিবেশনে ডুমুরিয়া-ফুলতলাবাসীর কান্না জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলবেন তিনি। তিনি বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ সকল বিলের পানি নিষ্কাশন এবং খাল খননের ব্যাপারে সংসদকে অবহিত করবেন। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি সংসদে প্রাধান্য দেবেন ভৈরব নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণ। জেলখানা ঘাট থেকে সেনের বাজারে এ ব্রিজ নির্মাণের ফলে খুলনার সাথে রূপসা ও তেরখাদা এবং জাতীয় মহাসড়কের সাথে সংযোগের মাধ্যমে রাজধানীতে যাতায়াত সহজ হবে। দিঘলিয়ায় অর্ধনির্মিত ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাব করবেন তিনি। খুলনার আইন-শৃঙ্খলা বর্তমানে চরম অবনতিতে রয়েছে। সংসদে এ ব্যাপারেও কথা বলবেন। লবণাক্ততা দূর করে মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করতে পানির ট্যাংকি প্রকল্প চালুর প্রস্তাব করবেন। ভূতিয়ার বিল, নানিয়ার বিল, বাসুখালী বিল, পদ্ম বিলসহ অধিকাংশ বিল সারা বছর জলাবদ্ধ থাকে। এসব বিলসহ সকল খাল খনন করে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করবেন সংসদে।

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য খুলনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আমির এজাজ খান। তিনি উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ওপর জোর দেবেন। সংসদে প্রথম অধিবেশনে তিনি পোদ্দারগঞ্জ, পানখালী-বরণ পাড়ায় ব্রিজ নির্মাণ, সুন্দরবনকে আধুনিক ট্যুরিজম জোন ঘোষণায় যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানাবেন। সুতারখালী, বানিশান্তা, তীলডাঙ্গা, কামারখোলা, পানখালী, সুরখালী এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণে আগে অগ্রাধিকার দেবেন।

খুলনা-২ আসনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত ইসলামী থেকে এ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর সেক্রেটারি। তিনি সংসদে সুযোগ পেলে প্রথমে খুলনার চরম অবনতি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানাবেন। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি ও মাদকের স্বর্গরাজ্য খুলনা মহানগরীকে শান্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাবেন। শিক্ষাক্ষেত্রের চরম দুর্বলতা রোধ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে দাবি জানাবেন সংসদে।

খুলনা-৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত ইসলাম থেকে আবুল কালাম আজাদ। উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা টেকসই বেড়িবাঁধের। তিনি সংসদে এ ব্যাপারে কথা বলবেন। সুপেয় পানির সমস্যা দূরীকরণে ওটারপ্লান্ট নির্মাণ, পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংকি প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানাবেন।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঢাকাসহ দেশের পাঁচ অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ৭টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা ছাড়াও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে আজ বেলা ১টার মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য দমকা হাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

মালদ্বীপের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘মালদিভিয়ান’ আজ থেকে পুনরায় ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু করেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের’ মাধ্যমে ফ্লাইটটিকে স্বাগত জানানো হয়। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে এই দুই দক্ষিণ এশীয় দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হলো।

আজ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে এয়ারবাস এ-৩২০ মডেলের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি পূর্ণ যাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বিমানটি পুনরায় মালে’র উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) গ্যালাক্সি এভিয়েশন সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

প্রাথমিকভাবে এয়ারলাইন্সটি প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার এই রুটে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে আসা-যাওয়ার সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৭ হাজার ৮৮০ টাকা)।

এই ফ্লাইটে যাত্রীরা ৩০ কেজি পর্যন্ত মালপত্র (ব্যাগেজ) বহনের সুবিধা এবং বিমানে বিনামূল্যে খাবার পাবেন। মালদিভিয়ানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং কল সেন্টারের (১৬৭১) মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মালদিভিয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইয়াসির এবং গ্যালাক্সি বাংলাদেশ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়।

ফ্লাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশিদ, মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অপারেশনস ডিরেক্টর আহমেদ ইব্রাহিম এবং জেনারেল ম্যানেজার (ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল) মোহাম্মদ সাফাহ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত শিউনিন রশিদ বলেন, এই আকাশপথ পুনরায় সচল হওয়ায় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

রমজান ও ঈদুল ফিতরের ভ্রমণের মৌসুমে ফ্লাইটটি চালু হওয়ায় দেশে ফেরা প্রবাসী বাংলাদেশি এবং মালদ্বীপের যাত্রীদের জন্য যাতায়াত আরও সহজ হবে।

বর্তমানে মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে একটি এয়ারবাস এ-৩৩০ ওয়াইড-বডি, এয়ারবাস এ-৩২০, এটিআর, ড্যাশ-৮ টার্বোপ্রপ এবং টুইন ওটারসহ মোট ২৬টি বিমান রয়েছে।

এই বিমানগুলো দিয়ে সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদুল ফিতরের আগে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস আবার চালু, বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ছয় লেনের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি। এসব দাবি বাস্তবায়নে কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা বুধবার দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি দেন।

সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান জানান, ঈদের আগে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনঃপ্রবর্তন, ঈদের পর বরিশাল সেক্টরে অন্তত দুটি বিশেষ ফ্লাইটসহ নিয়মিত বিমানের ফ্লাইট চালু, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণ দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মাধ্যমে সড়ক ও সেতু বিভাগের মন্ত্রীর কাছেও পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১০ লাখ মানুষের যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি এবারও ঈদে ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-বাগেরহাট নৌপথে কোনো যাত্রীবাহী নৌযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়নি। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত যাত্রীবান্ধব সময়সূচির ফ্লাইট পরিচালনা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। অথচ গত তিন দশকে এই সেক্টরে জনগণের চাহিদার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এবার ঈদের আগে তিন দিন বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঈদের পর মাত্র একটি বিশেষ ফ্লাইটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে এবার ঈদে আগের মতো ঈদের পরও ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ বরিশাল সেক্টরে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ফ্লাইট চালুরও দাবি করা হয়েছে, যাতে দেশের তিনটি উপকূলীয় বিভাগের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সহজ হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, টেন্ডার ডকুমেন্ট ও নকশা প্রস্তুত থাকলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার সহায়তা নিয়ে দ্রুত অনুমোদন করা প্রয়োজন। পদ্মা সেতু চালুর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের চাপ তিন গুণ বেড়েছে। ফলে বরিশাল-ভাঙ্গা মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে বরিশালের জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম (সুমন) বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী মহসিন উল ইসলাম, সহসভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ, সাংবাদিক নাছিম উল আলম এবং যুব সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমান।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সংগঠক সাংবাদিক নাছিম উল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছি। আশা করি, এসব দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।’

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদ বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতির কারণে নগরজুড়ে ময়লার স্তূপ জমে গেছে। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সব জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদ বোনাস না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিসিসিতে বর্তমানে ৩৯৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩১৪ জন ঝাড়ুদার কর্মরত রয়েছেন। ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন।

কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ঈদের আগে উৎসব ভাতা (বোনাস) ও ৩০ দিনের পূর্ণ বেতনের দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকায় রমজান মাসে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্গন্ধের মধ্যে দিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত এ পরিস্থিতির সমাধান চান তারা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে নগরের আমানতগঞ্জ এলাকায় সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখা কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতির ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে নিয়মিত বেতন ও বোনাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ বোনাস দেওয়া হবে না। এছাড়া পুরো মাস কাজ করলেও তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২২ দিনের।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কালু ও শাহিন বলেন, গত বছরও উৎসব ভাতা ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পাচ্ছেন।

তারা বলেন, নগরের মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার ও সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারাই করেন। কিন্তু উৎসবের সময়েও তাদের বোনাস দেওয়া হচ্ছে না, যা চরম বৈষম্যমূলক।

শ্রমিক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “আমরা নিজেদের গায়ে দুর্গন্ধ লাগিয়ে শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ ঈদের সময় পরিবার নিয়ে আনন্দ করার মতো সামর্থ্যও আমাদের থাকে না।”

আরেক কর্মী পারুল বেগম বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শ্রমিক নেতা সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই বোনাস দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।