দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ইঞ্জিন সংকটের কারণে ময়মনসিংহে বন্ধ হয়ে পড়েছে কয়েকটি লোকাল ট্রেনের চলাচল। ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব রুটে ওই ট্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব ট্রেন চালুর দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই পরিস্থিতিতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইঞ্জিন সংকটের কারণে চালু করা যাচ্ছে না দুটি লোকাল ট্রেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোকাল ট্রেনগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। করোনার সময় থেকে ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব রুটে লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ আছে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী ট্রেনটি।

ময়মনসিংহ রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, রেলপথে ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্টেশন রেলপথের দূরত্ব ৬৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মোহনগঞ্জ-ঢাকা পথে হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া একটি লোকাল ও একটি কমিউটার ট্রেনও চালু ছিল। লোকাল ডাউন ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ স্টেশন থেকে যথাক্রমে ভোর ৫টা ৪০ এবং বেলা ২টা ১০ মিনিটে মোহনগঞ্জ স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে যেতো।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা ও বিকেল সাড়ে ৫টায় মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতো।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, লোকাল ট্রেনটি ইঞ্জিন সমস্যা হওয়ায় চলাচল বন্ধ আছে। ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। ইঞ্জিন মেরামত শেষ হলে আবার চালু হবে। তবে কবে নাগাদ ইঞ্জিন মেরামত শেষ হবে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অন্যদিকে ময়মনসিংহ-ভৈরব রেলপথে চলাচল করা লোকাল ট্রেনগুলো কয়েক বছর ধরে বন্ধ আছে। রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীরা একইভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্ধ ট্রেনগুলো চালুর দাবিতে বিভিন্ন স্টেশনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে যাত্রীরা।

ময়মনসিংহ স্টেশনের সুপারিন্টেনডেন্ট বলেন, ইঞ্জিন সংকটের কারণে মোহনগঞ্জ ও ভৈরব লাইনের লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ আছে। ইঞ্জিন পেলে আবার ট্রেনগুলো চালু করতে পারবো। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ-এর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আরও ৪টিসহ মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক এ্যারাইভাল ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ২টি এ্যারাইভাল ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ২টি এ্যারাইভাল ফ্লাইট।

জানা যায়, আজকের চলমান আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-401 কুয়াশাজনিত কারণে ডাইভার্ট হয়ে ঢাকায় ফিরে যায়। পরে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর উক্ত এয়ারক্রাফটটি পুনরায় যাত্রী নিয়ে OV-402 ফ্লাইটের মাধ্যমে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়।

চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজকের ৪টি বাতিল হওয়া ফ্লাইটসহ চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

এই বছরের মধ্যেই নতুন পাঁচ থানার কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা।  থানাগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ রাউজান, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া, পশ্চিম পটিয়া বা কালারপোল এবং সাঙ্গু।

জেলায় আরও তিন থানা বাড়ানোর প্রস্তাব গণশুনানির অপেক্ষায় আছে।  এছাড়া চট্টগ্রামের উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপনের উদ্যোগেও গতি এ

জানতে ‍চাইলে এসপি নূরে আলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, পাঁচটা থানার গণশুনানি হয়ে গেছে। ডিসি (জেলা প্রশাসক) সাহেবের প্রতিবেদনও সদর দফতর হয়ে মন্ত্রণালয়ে চলে গেছে। এখন অর্থ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে নিকারে (প্রশাসনিক পুর্নবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি)। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই আমরা থানার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

সূত্রমতে, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ১৪টি থানা নিয়ে যাত্রা করেছিল জেলা পুলিশ। ২০১২ সালে মিরসরাইকে ভেঙ্গে জোরারগঞ্জ এবং ফটিকছড়িকে ভেঙ্গে ভুজপুর থানা স্থাপন করা হয়।  বর্তমানে ১৬ থানায় জনবল আছে আড়াই হাজার।  বিশাল চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়ে এখন ৮০ লাখে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বাংলানিউজকে বলেন, জনসংখ্যা বেড়েছে।  অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে।  জেলার মধ্যে এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে বা ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে এলে থানা থেকেই পুলিশ যেতে ঘন্টার উপরে সময় লাগে।  রিজার্ভ ফোর্স পৌঁছার আগেই ঘটনা বড় হয়ে যায়।  এই অবস্থায় থানা এবং জনবল বাড়ানোর বিকল্প নেই।

২০১৫ সালে চট্টগ্রামের ‍তৎকালীন পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার দশটি থানা বাড়ানোর প্রস্তাব সদর দফতরে পাঠিয়েছিলেন।  সেই প্রস্তাব পরে এক দফা সংশোধন করা হয়।  বর্তমান এসপি যোগদানের পর তারই উদ্যোগে এই প্রস্তাব গণশুনানি পর্যন্ত পৌঁছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো.জিল্লুর রহমান চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আমি রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশ-সাতকানিয়া থানাকে বিভক্ত করার যে প্রস্তাব সেটার উপর এলাকায় গিয়ে গণশুনানি করেছি।  সেখানকার এমপি সাহেবরাও আমাকে থানা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।  আরও কয়েকজন এমপি সাহেব অনুরোধ করেছেন। আমি চট্টগ্রামে আসার আগেই আরও দুটি থানার জন্য গণশুনানি হয়েছে।

সূত্রমতে, পাঁচটি থানার মধ্যে হাটহাজারী উপজেলাকে দুইভাগে বিভক্ত করে নতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা করা হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলা এবং চন্দনাইশ উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে সাঙ্গু থানা করা হচ্ছে।  রাউজান থানাকে ভেঙে দক্ষিণ রাউজান, পটিয়া থানাকে ভেঙে পশ্চিম পটিয়া বা কালারপোল এবং রাঙ্গুনিয়া থানাকে ভেঙে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আরও তিন থানা হচ্ছে সীতাকুণ্ড থানাকে ভেঙে ভাটিয়ারি, ফটিকছড়ি থানাকে ভেঙ্গে মাইজভাণ্ডার এবং বাঁশখালীকে ভেঙে উত্তর বাঁশখালী থানা।  তবে প্রস্তাবিত এসব থানার জন্য এলাকায় গিয়ে গণশুনানি আয়োজন করেনি জেলা প্রশাসন।

জানতে চাইলে ডিসি মো.জিল্লুর রহমান চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, একটু আমি সময় নিচ্ছি।  দাবি জোরালো আছে কি না একটু দেখি।  কেউ একজন এসে বলল থানা বাড়িয়ে দেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া আমরা গণশুনানি করে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলাম, তাহলে তো ঘরে ঘরে থানা হয়ে যাবে।

তবে এসপি নূরে আলম মিনা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাকি চার থানার গণশুনানিও যাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় সেই চেষ্টা তিনি করছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের উত্তরে সীতাকুণ্ডে এবং দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপনের বিষয়ও চূড়ান্ত হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বদিকে বায়েজিদ বোস্তামি লিংক রোডে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ওসি ‍দুলাল মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, থানা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় ৭ একর ৬১ শতাংশ জমি আমরা চূড়ান্ত করেছি।

এসপি নূরে আলম মিনা বাংলানিউজকে বলেন, আনোয়ারায় ইপিজেড হচ্ছে। আর মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে।  চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারিত হয়ে সীতাকুণ্ডেও যাবে।  সুতরাং উত্তরে এবং দক্ষিণে দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।  এটা পুলিশ সদর দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেই হবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

চলমান ‘অপারেশন এস ড্রাইভ’-এর অংশ হিসেবে বন্দর নগরীতে অভিযান চালিয়ে বিদেশে তৈরি একটি এসএমজি, দুটি পিস্তল, একটি পাইপগান, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার চলিতাতলী বাজারের একটি বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মোহাম্মদ ইশতিয়াক হাসান ইমন (২৬) ও জসিম (৩৫)।তারা বায়েজিদ বোস্তামীর চলিতাতলী এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সিএমপির উদ্যোগে চলমান ‘অপারেশন এস ড্রাইভ’-এর অংশ হিসেবে বায়েজিদে একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ।

পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ভাতিজা মোহাম্মদ অন্যান্য সহযোগী ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ সেখানে অবস্থান করছে। তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।

তিনি দাবি করেন, ‘অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।’ তিনি জানান, বাড়িটি থেকে দুটি পিস্তল, একটি পুরোনো মডেলের এসএমজি, একটি পাইপগান, পিস্তলের তিনটি ম্যাগাজিন, ৪৫৫ রাউন্ড গুলি, ৮৮০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

বেকারির সামনে ফুটপাতের ওপর টেবিলে সাজিয়ে রাখা নানা পদের ইফতারি। মুখরোচক সব খাবার কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। তবে বেকারির ভেতরের যেতেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বেকারির রান্নাঘরের দেয়ালজুড়ে কয়েক শ তেলাপোকার বিচরণ। এর পাশেই তৈরি করা হচ্ছিল মুখরোচক এসব ইফতারি। স্যাঁতসেঁতে রান্নাঘরে খাদ্য তৈরিতে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় হারুন বেকারিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট একটা বেকারি; দেখলে মনে হয় তেলাপোকার ফ্যাক্টরি। আমরা রান্নাঘরে ঢুকেই রীতিমতো অবাক হয়েছি। দেয়ালজুড়ে তেলাপোকার বিচরণ। রান্নাঘরে সেগুলো ঘোরাঘুরি করছিল।’নগরের জিইসি মোড়ের হারুন বেকারিতে কয়েক শ তেলাপোকার বিচরণ। গতকাল তোলা

শুধু হারুন বেকারি নয়, গত ১০ দিনে চট্টগ্রাম নগরের অন্তত ৫টি খাদ্য তৈরি বেকারি ও রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পেয়েছেন নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা। এর মধ্যে বারকোড সুইটস, মেরিডিয়ান রেস্তোরাঁর মতো নামী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তেলাপোকা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও জীবাণু বহন করে, যা খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ডায়রিয়া, আমাশয়, ফুড পয়জনিংসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে।

যেখানে যা দেখলেন কর্মকর্তারা

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নগরের চকবাজার এলাকায় নামী রেস্তোরাঁ কাচ্চি ডাইনে পরিদর্শনে যান জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে তেলাপোকা ও ইঁদুরের বিচরণ। ১ মার্চ মুরাদপুর এলাকায় বারকোড সুইটস অ্যান্ড কনফেকশনারির রান্নাঘরে গিয়েও তাঁরা তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ ও বিড়ালের উপস্থিতি দেখতে পান।

গত বুধবার কালুরঘাট এলাকার বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড ও গতকাল বৃহস্পতিবার গরীবুল্লাহ শাহ হাউজিং এলাকায় হোম রেসিপি ফুড বেকারি গিয়েও তেলাপোকা পাওয়া গেছে রান্নাঘরে। চারটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরই স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন বলে জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে আগে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও সতর্ক করলেও আবার একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে কর্মকর্তার জানিয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান জরিমানা দেওয়ার পর সাময়িকভাবে কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।নগরের মুরাদপুরের বারকোড সুইটসে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান। সম্প্রতি তোলা

রাসায়নিকের অবাধ ব্যবহার

নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ব্যবহার করা হচ্ছে অবাধে। খাদ্যপণ্যে ব্যবহারযোগ্য নয়—এমন রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে ইফতারের খাদ্যপণ্য তৈরিতে। জিলাপি তৈরিতে দেদার ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোজ বা সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের চকবাজার এলাকায় সাতকানিয়া ভাতঘর নামের প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এ সময় সেখানে জিলাপি তৈরিতে হাইড্রোজের ব্যবহার করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় বা অতিরিক্ত মাত্রায় এর সংস্পর্শে এলে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক সময় মেধাশক্তি দুর্বলও করে দেয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, হাইড্রোজ যে ড্রামে আনা হয়, এর ওপরেই লেখা আছে, এটি ব্যবহারের সময় খাওয়া বা পান করা যাবে না। কারণ, এটি বাতাসের ক্ষতিকর কণা ছড়ায়। এটি ব্যবহার করা হয় পোশাক খাতে। আর সেটি ব্যবহার হচ্ছে খাবার তৈরিতে। গোপালজল, কেওড়াজলও খাবারে ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবু ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়ার মতো শাস্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জরিমানা করে এসব প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়ার কারণে তারা একই ভুল আবার করে। যেহেতু সিলগালা করে দেওয়ার বিধান আছে, তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে কঠিন শাস্তি দিলে বাকিরা সতর্ক থাকবে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে খুলনা- সাতক্ষীরা মহাসড়কে মাছ ছেড়ে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখা। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর নিসচার উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইংরেজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. সামিউল হক।

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্নার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন। এ সময় প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাসটিভা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক প্রশাসন এস, এম সাইদুল ইসলাম, এনসিপি খুলনার প্রধান সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হরিণটানা থানার সভাপতি মো. মনজুরুল ইসলাম, লবণচরা থানার সভাপতি মাওলানা নাসিম উদ্দিন, হরিণটনা থানার সহ-সভাপতি বিডিআর (অব:) মো. আল আমিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রধান ট্রাফিক কন্ট্রোলিং সমন্বয়ক মো. নাঈম মল্লিক, বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা তাসনিম আলম সুজন, নিসচার খুলনা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম হোসেন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম সাগর, দপ্তর সম্পাদক তানিয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবীর, মো. শাহ নেওয়াজ, খালিদ হোসেন, রোদেলা আক্তার রেশমী, সজিব, মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, নিসচার ডুমুরিয়া শাখার সভাপতি খান মহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, দুর্ঘটনা সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, কার্যকরী সদস্য শাহরুজ্জামান সবুজ, এম এ জলিল, আব্দুর রহমান বেপারী প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ ভয়ংকর সড়ক যাত্রা করছেন। মাত্র ৫ বছর আগে ১৫০ কোটি টাকায় নির্মিত মহাসড়ক এখন যেন মরণফাঁদ। তৎকালীন প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজ’ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ করে। এ মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটারের কোথাও ভাঙ্গা রাস্তা, কোথাও বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ, আবার কোথাও কর্দমাক্ত জলাশয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, উল্টে যাচ্ছে যানবাহন, ঘটছে প্রাণহানি। অথচ এই ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) চরম উদাসীনতা ও মোজাহার এন্টারপ্রাইজের নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করায় এ সড়কে তৈরি হয়েছে অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগ। দায়সারা সড়ক নির্মাণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তা না হলে অচিরেই সড়ক ভবন ঘেরাও কর্মসূচিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।

উল্লেখ্য, এর আগে খুলনা শিপইয়ার্ড চারলেন সড়ক সংস্কারের দাবিতে নিরাপদ সড়ক চাই নিসচার উদ্যোগে সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে প্রতিকী প্রতিবাদ জানানো হয়।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনায় মাসুম বিল্লাহ নামের এক শ্রমিক দল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ৯টার দিকে নগরীর ডাকবাংলো মোড়ের বাটা শো-রুমের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তলসহ এক অশোক নামের সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মাসুম বিল্লাহ ‍খুলনার রূপসা উপজেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। মাসুম গত সরকারের সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা ওরফে মিনা কামালের ছোট ভাই। রূপসা উপজেলার বাগমারা পেট্রোল পাম্পের পাশে তার বাড়ি।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, রাতে মা ও মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলো মোড়ে ঈদের কেনাকাটা করছিলেন মাসুম। এ সময় ৭ জন সন্ত্রাসী সেখানে প্রবেশ করে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে ফেলে রাখে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। পালানোর সময় এক সন্ত্রাসীকে নাইন এমএম পিস্তলসহ আটক করে পুলিশ।

উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম আরও বলেন, অশোক তার সঙ্গে থাকা অন্যদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি খুলনার সন্ত্রাসী গ্রুপ-বি কোম্পানির সদস্য। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকার ৯টি স্থানের বায়ুমান ‘বিপজ্জনক’ বা ‘মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষ করে হাজারীবাগ এলাকায় বায়ুমান সূচক ৮০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাধারণত কোনো এলাকার বায়ুমান সূচক ৩০০-এর বেশি হলে তাকে স্বাস্থ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ ধরা হয়। আজ ঢাকার ৯টি নির্দিষ্ট এলাকায় এই সীমা বহুগুণ অতিক্রম করেছে।

আইকিউএয়ার-এর এলাকাভিত্তিক বায়ুমানের বর্তমান চিত্রে উঠে এসেছে, সকাল ১১টায় রাজধানীর হাজারীবাগের মান ছিল ৮০৮ (সর্বোচ্চ দূষিত), মগবাজার ভদ্র গলি ৬৬২, ধানমন্ডির ৭ নম্বর রোডে ৫৫৮, উত্তরা সেক্টর-১৮-এ ৫৪৩, ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৪৫১, উত্তর বাড্ডার আব্দুল্লাহবাগ ৪৪২, পল্লবী (দক্ষিণ) ৩৯০, গুলশান লেক পার্ক ৩৮১ ও বারিধারা পার্কে ৩৬৪।

পুরো ঢাকা শহরের গড় বায়ুমান আজ ২৭১, যা বৈশ্বিক তালিকায় দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকাকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছে। ৩২৮ সূচক নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর।

গত সোমবার দীর্ঘ ১১৪ দিন পর ঢাকায় ২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও বায়ুমানের কোনো স্থায়ী উন্নতি হয়নি।

পরিবেশবিদদের মতে, বৃষ্টির পরিমাণ খুব কম হওয়ায় তা বাতাসের ধূলিকণা সরাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বৃষ্টির পরপরই ঢাকা পুনরায় দূষণের শীর্ষে ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

বায়ুদূষণের এই চরম অবস্থায় আইকিউএয়ার নাগরিকদের জন্য জরুরি পরামর্শ জারি করেছে। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে শ্বাস নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

যেমন:- ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাইরের খোলা স্থানে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে যাতে দূষিত বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষে ছিল। মার্চের শুরুতেও দূষণের এই ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসে ‘প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়’ আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপদেষ্টার সাথে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) মো: জাহিদুল ইসলাম রনি।

জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম দাফতরিক কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান নিয়ম-নীতি এবং নির্ধারিত অফিস সময় কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এছাড়া, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকর উপস্থিতি ব্যবস্থাপনার জন্য ডিজিটাল অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য, আকস্মিক এই পরিদর্শন সত্ত্বেও প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সন্তোষজনক হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

সূত্র : বাসস

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রাজধানীর পুরান ঢাকার চাঁনখারপুলের ভাড়া বাসা থেকে নাহিদা আক্তার ওরফে ববি (২৯) নামের এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নাহিদা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নার্স ছিলেন। তাঁর এক স্বজন বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। গতকাল রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এই দাম্পত্য কলহের জেরে নাহিদা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাউছার আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ চাঁনখারপুল এলাকায় নাহিদার ভাড়া বাসায় যায়। তিনি ভবনটির ছয়তলায় থাকছিলেন। বাসার ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে ঢোকে পুলিশ।

এসআই মো. কাউছার বলেন, বাসার শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নাহিদার নিথর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। তাঁর লাশ উদ্ধার করে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে করা হয়। দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তাঁর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। নাহিদা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁনখারপুলের ভাড়া বাসাটিতে নাহিদা তাঁর স্বামী ইলিয়াস হোসেনকে নিয়ে থাকতেন। ইলিয়াস পেশায় ব্যবসায়ী। নাহিদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরে। তাঁর স্বজনেরা জানান, নাহিদার আগে বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তাঁর একটি ছেলেসন্তান আছে। বিচ্ছেদের পর ইলিয়াসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

খবর পেয়ে আজ সকালে নাহিদার ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নাহিদা ও তাঁর স্বামী ইলিয়াসের মধ্যে কলহ চলে আসছিল। নাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। গত বছরের জানুয়ারিতে নাহিদা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন ইলিয়াস। কারাগার থেকে ইলিয়াস বের হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছিল। তিনি (ফরহাদ) জানতে পেরেছেন, গতকাল রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পরে ইলিয়াস বাসার বাইরে চলে যান।

ফরহাদ রহমান বলেন, মৃত্যুর আগে নাহিদা একটি চিরকুট লিখে গেছেন। এতে তিনি স্বামী ও তাঁর শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কথা লিখেছেন।ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস বা তাঁর পরিবারের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নাহিদার ফুফাতো ভাই ফরহাদ রহমান বলেন, ‘এই মৃত্যুর জন্য ইলিয়াস ও তাঁর পরিবারের লোকজন দায়ী। আমরা বিচার চাই।’