TT Ads

অনলাইন ডেষ্কঃ
দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো রংপুর বিভাগীয় কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘স্কিলস এণ্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’। যেখানে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার ৩০টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৯০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা হাজির হন তাদের উদ্ভাবিত বহুমুখী কৃষি রোবর্ট, স্মার্টলাইন ফলোইং রোবর্ট, এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ প্রতিরোধক, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অ্যালার্ম সিস্টেম, কচুরিপানা থেকে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ তৈরি, ফুট স্টেপ পাওয়ার জেনারেশন, হাইড্রোলিক ব্রেকিং সিস্টেম, মর্ডান গ্রিন সিটি প্রজেক্ট, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট সিটি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ব-দ্বীপ প্রাঙ্গণসহ নানান উদ্ভাবন নিয়ে।

দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় উপস্থাপিত উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর মধ্যে সেরা ৭টি উদ্ভাবন ঢাকায় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়। এরমধ্যে প্রথম হয় পলিমার রিসাইকেলড কনস্ট্রাকশন, দ্বিতীয় হয় স্মার্ট আইওটি বেজড হোম অটোমেশন সিস্টেম ও তৃতীয় হয় ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি উইথ এভরি স্টেপ।

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরতে প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসেট প্রকল্প এই আয়োজন করে।

এর আগে সকালে প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে একটি র‌্যালি দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইন্সটিটিউট মাঠে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন: কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, এসেট প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত, প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের রংপুর আঞ্চলিক পরিচালক খন্দকার মো. নাহিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সারা পৃথিবীতে দক্ষ কর্মীর প্রচুর চাহিদা আছে। কারিগরি শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দক্ষ করতে হবে। নতুন নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে। নিজ নিজ অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিজেরাই সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর জাতীয় পর্ব আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত মোট ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের প্রদান করা হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

এর আগে গত বছরে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্বে দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে তিনটি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *