দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
গণপূর্ত বিভাগ ৪ বছরেও শেষ করতে পারেনি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই চরম ধীরগতিতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বর্তমানে শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্প এখন আর্থিক জটিলতা আর ঢিমেতালের কাজের আবর্তে বন্দী।
২০২২ সালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে ও শয্যা সংকট দূরীকরণে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ১২ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও আর্থিক জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শেষ করে চালু হয়নি ভবনটির কার্যক্রম। কাজ চলছে ঢিমেতালে। ভোগান্তি দূরীকরণে ভবনটির কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।
তথ্য বলছে, গণপূর্ত বিভাগ ২০২২ সালে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলাবিশিষ্ট বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে। কথা ছিল ১৮ মাসের মধ্যেই শেষ হবে নির্মাণকাজ। কিন্তু সময়সীমা এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি ভবনের শতভাগ নির্মাণকাজ। অন্যদিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় শয্যা সংকটসহ নানা কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
১৯১২ সালে মাত্র ২০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় হাসপাতালের মূল ভবনটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ভবনে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের জন্য আশ্রয় নিতে হয়েছে টিনশেড ঘরের। রোগীর চাপ বাড়লে মেঝেতে জায়গা পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ বলছে, আর্থিক জটিলতার কারণে কয়েক দিন কাজ বন্ধ ছিল। তাই ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নতুনভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা বাড়িয়ে ফের নির্মাণকাজ চালু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনটির ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শিগগির নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৮টি ওয়ার্ডে দেড় শতাধিক এবং বহির্বিভাগে প্রায় সাতশ রোগী সেবা নিচ্ছেন। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়া হাসপাতালের প্রধান সমস্যা।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটির মূল ভবন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। উপায় না থাকায় দুটি ভবনের একটিতে বহির্বিভাগ অপরটিতে চলছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম।
সাধারণ রোগীরা বলছেন, বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চলায় তাদের আস্থার এই প্রতিষ্ঠানটি জৌলুস হারাচ্ছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেহাল দশা আর শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রাচীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিয়ে গেলেও আধুনিক ভবনটি দ্রুত চালু না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সহসাই কমছে না।
চিকিৎসা নিতে আসা মোঃ কাওছার বলেন, হাসপাতালের ভবন দ্রুত সংস্কার করা উচিত। পুরো হাসপাতালের রুমগুলো সব জরাজীর্ণ। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অনেক ভোগান্তীর শিকার হচ্ছেন।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বরিশাল জেনারেল সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের ৭০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি যে ৩০ ভাগ কাজ আছে তা দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। চলতি বছরের জুন মাস নাগাদ শেষ করে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করছি। কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম।


