দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
ঈদের আগে রাস্তার দুপাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি তিন চাকার বাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনার দাবি বাস চালকদের।
ঈদযাত্রা এবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশে অন্তত ১৫টি স্থানে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব স্থান যানজটমুক্ত করতে না পারলে ভোগান্তি বাড়বে ঘরমুখো যাত্রীদের।
তবে মহাসড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল, বেপরোয়া গতিতে তিন চাকার অবৈধবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিরসনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতি বছর ঈদে ঘরমুখো মানুষদের ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজমোড়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড়, চুরখাই, বৈলর, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, স্কয়ার মাস্টারবাড়িসহ কমপক্ষে ১৫টি পয়েন্টে যানজট ভোগান্তি পোহাতে হয়।
রাস্তায় খানা-খন্দসহ মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় এবারও যানজটের আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালকরা। ঈদের আগে রাস্তার দুপাশে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি তিন চাকার বাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আনার দাবি দূরপাল্লার বাস চালকদের।
তবে যেসব পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তা নিয়ন্ত্রণের কথা জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সৌখিন পরিবহনের চালক রানা মিয়া বলেন, সবচেয়ে বেশি যানজট হয় বাইপাস মোড়, ভালুকা এবং স্কয়ার মাস্টারবাড়ি। এসব স্থানের চারপাশে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, এগুলো উচ্ছেদ না করলে এবারও যানজট ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে।
আরেক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, “১৫ থেকে ২০ বছর ধরে পরিবহনের সঙ্গে জড়িত আছি। অভিজ্ঞতা বলে এবারও যানজট হবে। আর এর কারণ হলো মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ আর অদক্ষ চালক এবং তিন চাকার পরিবহন। প্রত্যেক ঈদকে ঘিরে রাস্তায় অনুমোদনহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। প্রশাসনকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।”
তিন চাকার অটোরিকশা চালক মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা মহাসড়ক ব্যবহার করে ময়মনসিংহ থেকে ত্রিশাল ও ভালুকায় প্রতিনিয়ত যাতায়াত করি। পেটের তাগিদে তা করতে হচ্ছে।
“তবে আমাদের কারণে কোনো যানজট হয় না। ঈদে প্রতিটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে, যার কারণে যানজট হয়। কিন্তু দায় চাপানো হয় আমাদের ওপর।”
এ বিষয়ে সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ হওয়ায় এখান থেকে চারদিকে মানুষ যাতায়াত করে। যার কারণে প্রতিবছর রাস্তায় অসংখ্য পরিবহন দেখা যায়।
এতে চাপ বাড়ায় দীর্ঘ যানজটে মানুষকে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গুণতে হয় অতিরিক্ত ভাড়াও। এসব বিষয়ে প্রশাসন তৎপর না হলে এবারও ভোগান্তি পোহাতে হবে ঘরমুখো যাত্রীদের।
মহাসড়কে তিন চাকার বাহনের জন্য কোনো ধরনের যানজট হয় না দাবি করে অটোরিকশা চালকরা বলছেন, বাস চালকরা যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজনৈতিক সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের দুপাশে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের কথা জানিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, এবার ময়মনসিংহের সব রাস্তা এখনো পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী রয়েছে।
তবে রাস্তার কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে মোবাইল টিম সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করবে। আশা করা যাচ্ছে রাস্তার কারণে কোথাও যানজট হবে না। তবে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ থাকায় যানজট হয়।
মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস। তবে যেসব পয়েন্টে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব জায়গায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
এ ছাড়া যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।


