TT Ads

অনলাইন ডেষ্কঃ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যখন ভ্যাপসা গরমে কাহিল মানুষ, তখন ঠিক উল্টা চিত্র উত্তরের বিভাগ রংপুরে। এই অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার মাঝে ঝড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। নগরীর বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বৃষ্টিপাতের মাঝেই নগরীর মণ্ডলপাড়ায় তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় উপড়ে পড়েছে একটি বিশাল বড় গাছ। সেই গাছের ডালের আঘাত পেয়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় গাছ উপড়ে পড়ার পাশাপাশি অনেকের টিনের চালা, টিনের বেড়া উড়ে গেছে। নগরীর কয়েকটি এলাকার রাস্তা ও গলিতে পানি জমে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গতকাল সোমবার বেলা ১২টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান। যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর শ্যামাসুন্দরী খাল খনন না করায় খাল উপচে পানি আশপাশের বাড়িঘর ও সড়কে ঢুকে পড়ছে। যার ফলে নগরীর জুম্মাপাড়া, কামারপাড়া, মুন্সীপাড়া ও হনুমানতলাসহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে নগরবাসীর।

এদিকে অসময়ের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার পানি বাড়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চলে মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অসময়ের বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক অপরিপক্ব ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে আজ সকাল ৯টায় পানির স্তর ছিল ৫০ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার, যা আগের দিন একই সময়ে ছিল ৫০ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ সেই হিসেব অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। একইভাবে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পানি বাড়লেও বন্যার কোনো শঙ্কা নেই।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *