TT Ads

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

খুলনার কয়রায় শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ মেশিন চালাতে চাষি আবদুল মজিদের প্রতিদিন ৩ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু কয়রার কোথাও ডিজেল নেই। ৩ লিটার ডিজেল আনতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পাইকগাছার পাম্পে যেতে হয়। এতে যাতায়াত খরচসহ বেড়েছে ভোগান্তি। একই অবস্থা খুলনার তেরখাদা, ফুলতলা, ডুমুরিয়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতেও। সেচকাজ বন্ধ থাকায় অনেক স্থানে জমি শুকিয়ে গেছে। খুলনার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্প ও এজেন্ট ডিলারের মাধ্যমে সাধারণত জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়। কিন্তু হঠাৎ এজেন্ট ডিলারদের ডিপো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রামাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কয়রার মহেশ্বরীপুর গ্রামের আবদুল মজিদ জানান, পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় শ্যালো মেশিনে পানি ওঠে না। জমিতে এখন প্রতি মুহূর্তে সেচ দরকার। কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। কয়রায় কোনো পাম্প নেই। তাই এজেন্ট ডিলারই ভরসা। কিন্তু তারাও ডিপো থেকে তেল পাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তি বাড়ছেই।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে খুলনায় ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিপণনে সিলিং পদ্ধতি বা রেশনিং পদ্ধতি চালু করায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে ডিপো থেকে চাহিদামতো অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক পাম্প স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে এজেন্ট ডিলারদের তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রামাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। খুলনার দৌলতপুরে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপো থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলায় প্রতিদিন ৩৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল বিক্রি হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে চাহিদা বেড়ে কয়েক দিনে বিক্রি দেড় কোটি লিটার ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মুরাদ হোসেন জানান, তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে ডিপো থেকে তেল বিক্রিতে সিলিং পদ্ধতি বা রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে বিগত সময়ে গড় চাহিদা হিসেবে প্রতিদিনের বিক্রি হার নির্ধারণ করা হয়। এতে বর্তমানে চাহিদামতো অকটেন-পেট্রোল পাচ্ছে না পাম্প স্টেশনগুলো।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *