দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করতে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। এগুলো হলো- পরিচ্ছন্ন নগর গড়া, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ঝুলন্ত তার অপসারণ এবং নগরীকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।
গতকাল বুধবার সকালে নিজ দফতরে নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। সাক্ষাৎকারটি প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন?
নজরুল ইসলাম মঞ্জু : আমি দায়িত্বটি সানন্দে গ্রহণ করেছি। খুলনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী। এখানে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : দায়িত্ব নেয়ার পর খুলনা মহানগরীর সমস্যাগুলো কি তালিকাভুক্ত করছেন?
মঞ্জু : দায়িত্ব নেয়ার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে বলেছেন। সেগুলোর মধ্যেই মূলত আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হয়েছে।
প্রথমত, খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম আসছে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা খুবই জরুরি। এ জন্য ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বাড়ির আঙিনায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে হবে। খোলা জায়গায় বর্জ্য না রেখে কাভার দিয়ে সংরক্ষণ এবং অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে সার, জ্বালানি তেল বা অন্যান্য উপযোগী পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চতুর্থত, শহরের রাস্তায় ঝুলে থাকা বিভিন্ন ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তার অপসারণ করা। এগুলোকে নিরাপদভাবে মাটির নিচ দিয়ে বা ড্রেনের পাশে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পঞ্চমত, খুলনাকে একটি গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।
প্রশ্ন : স্বাস্থ্যসেবা ও নগরবাসীর সামাজিক সুবিধা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
মঞ্জু : অবশ্যই আছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় যেসব ক্লিনিক রয়েছে, সেগুলোর সেবা আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রসূতি মায়েদের জন্য যে ক্লিনিকগুলো রয়েছে, তার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো আবার চালু করার চেষ্টা করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রশ্ন : নগর উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে কী কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
মঞ্জু : আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে- জিয়া হল পুনর্নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তুত করা এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া; সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট আধুনিক ও সচল করা; শহরের স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা ও মন্দিরের উন্নয়ন এবং বস্তিবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদের সহায়তা দেয়া।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা একটি মানবিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে চাই।
প্রশ্ন : বাজারব্যবস্থা ও যানজট সমস্যা নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে?
মঞ্জু : আমরা ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করেছি। যানজট নিরসনের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা এবং তা যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সে বিষয়েও আমরা বাজার পরিদর্শন করেছি। এসব বিষয় নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
প্রশ্ন : নগরীর ড্রেনেজব্যবস্থা ও ধুলাবালি সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
মঞ্জু : শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য যে কাজ চলছে, তা দ্রুত শেষ করার ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। একইভাবে ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।
কারণ শহর পরিষ্কার রাখতে গেলে এসব অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া খুবই জরুরি। এ ছাড়া শহরকে ধুলামুক্ত রাখার জন্যও আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন যেন মানসম্মত ও টেকসই হয়।
প্রশ্ন : দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের সমস্যা অনুভব করছেন কি?
মঞ্জু : না, তেমন কোনো সমস্যা অনুভব করছি না। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন- জনগণের প্রয়োজন বুঝতে হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
সিটি করপোরেশনের যেসব বিষয়ে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরব।
প্রশ্ন : খুলনা সিটি করপোরেশন ঘোষিত হলেও জনবল কাঠামো এখনো ১৯৮৭ সালের পৌরসভার কাঠামোয় রয়েছে। এটি আপগ্রেড করার উদ্যোগ নেবেন কি?
মঞ্জু : অবশ্যই চেষ্টা করব। একটি বড় শহর পরিচালনার জন্য আধুনিক ও পর্যাপ্ত জনবল কাঠামো প্রয়োজন। তাই এই বিষয়টি আপগ্রেড করার জন্য আমরা যথাসাধ্য উদ্যোগ নেব।
প্রশ্ন : স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বা ভাবনা আছে কি?
মঞ্জু : আপাতত সে বিষয়ে ভাবছি না। বর্তমানে আমার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা। আপাতত সেই দায়িত্ব পালনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।
সবশেষে ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দিয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।


