নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল জেলার ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ বাকেরগঞ্জ উপজেলা। অন্তত পাঁচটি জেলার সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার আওতায় রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। একসময় প্রাক্তন জেলা হিসেবে সারাদেশে পরিচিতি থাকলেও সেই অনুপাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মনে করেন স্থানীয়রা। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে থাকা বহু গ্রাম এখনো উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে দূরে।
এমন প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ভাবনা ও প্রত্যাশার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক পরিচিত নাম-ডা. ইকবালুর রহমান সেলিম।
গ্রামের সন্তান থেকে জনমানুষের চিকিৎসক
১নং চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডা. ইকবালুর রহমান স্থানীয়দের কাছে সেলিম ডাক্তার নামেই অধিক পরিচিত। শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামেই। পরবর্তীতে স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তিনি পুরো বাকেরগঞ্জ জুড়ে সুনাম অর্জন করেন।
ইসলামী মনোভাবাপন্ন ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন জনসেবায়। এলাকার মানুষদের জন্য সবসময়ই ছিলেন নিবেদিত।
স্ব-অর্থায়নে মানবিক উদ্যোগ
কয়েকজন সমাজসচেতন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিকযেখানে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করেছেন- ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প, ফ্রি সুন্নতে খাৎনা ক্যাম্প বহু বছর ধরে এসব কার্যক্রম অ
ব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এসব সেবামূলক উদ্যোগের পেছনে কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেনি।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবার বিস্তার
ডা. ইকবালুর রহমান বরিশালের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে- শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল , পলি ডায়াগনস্টিক, ইসলামিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল। হাজারো মানুষ তার কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছেন। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদরাসার সঙ্গেও তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা
বাকেরগঞ্জের সচেতন মহলের একাংশ মনে করছেন, সৎ, দক্ষ ও মানবিক ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে এলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাকে প্রার্থী করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তার পক্ষে সমর্থন জানাবে।
সেবাই মূল লক্ষ্য
তবে ডা. ইকবালুর রহমান নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা- বিশেষ করে আমার রক্তের সাথে মিশে থাকা বাকেরগঞ্জবাসীর সেবা-করতে চাই। আমার সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী এটি অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ। রাজনৈতিক পদ বা নির্বাচনে যাওয়া এর জন্য জরুরি বলে আমি মনে করি না।
বাকেরগঞ্জের উন্নয়ন ও মানবিক সেবার প্রসঙ্গে তাই ডা. ইকবালুর রহমানকে ঘিরে যেমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি তার ব্যক্তিগত অঙ্গীকারও স্পষ্টরাজনীতি নয়, মানুষের পাশে থাকাই তার মূল লক্ষ্য।


