TT Ads

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

ঈদ বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মবিরতির কারণে নগরজুড়ে ময়লার স্তূপ জমে গেছে। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সব জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদ বোনাস না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিসিসিতে বর্তমানে ৩৯৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩১৪ জন ঝাড়ুদার কর্মরত রয়েছেন। ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন।

কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ঈদের আগে উৎসব ভাতা (বোনাস) ও ৩০ দিনের পূর্ণ বেতনের দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকায় রমজান মাসে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্গন্ধের মধ্যে দিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত এ পরিস্থিতির সমাধান চান তারা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে নগরের আমানতগঞ্জ এলাকায় সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখা কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতির ব্যানার টানিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, আগে নিয়মিত বেতন ও বোনাস দেওয়া হলেও সম্প্রতি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ বোনাস দেওয়া হবে না। এছাড়া পুরো মাস কাজ করলেও তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২২ দিনের।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী কালু ও শাহিন বলেন, গত বছরও উৎসব ভাতা ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে বোনাস দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ বোনাস পাচ্ছেন।

তারা বলেন, নগরের মশকনিধন, ড্রেন পরিষ্কার ও সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারাই করেন। কিন্তু উৎসবের সময়েও তাদের বোনাস দেওয়া হচ্ছে না, যা চরম বৈষম্যমূলক।

শ্রমিক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “আমরা নিজেদের গায়ে দুর্গন্ধ লাগিয়ে শহর পরিষ্কার রাখি। অথচ ঈদের সময় পরিবার নিয়ে আনন্দ করার মতো সামর্থ্যও আমাদের থাকে না।”

আরেক কর্মী পারুল বেগম বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর বোনাস না পেলে সন্তানদের নতুন পোশাক বা ঈদের বাজার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শ্রমিক নেতা সোহাগ জানান, গত ৮ মার্চ থেকে তারা আন্দোলন করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট পরিপত্র রয়েছে। তাই বোনাস দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *