TT Ads

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

সিলেট নগরের তিনটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অযত্ন-অবহেলায় সৌন্দর্য হারিয়েছে এসব স্থাপনা। অনেক জায়গা থেকে চুরি হয়ে গেছে পানি ছিটানোর যন্ত্রাংশও। নগরের সৌন্দর্য ফেরাতে এসব ফোয়ারা চালুর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শুরুতে নগরের হুমায়ুন রশীদ চত্বরে ২০০৩ সালের ২৩ জুন একটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারার উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। পরে সেটি নষ্ট হলে দুই দফা মেরামত করা হয়। তবে অন্তত ১২ বছর ধরে এটি বিকল।

শুধু হুমায়ুন রশীদ চত্বরই নয়, নগরের কিনব্রিজের উত্তর পাশে সুরমা নদীর পাড়ে সার্কিট হাউসের বিপরীতের ফোয়ারাটি প্রায় ১০ বছর এবং নাইওরপুল এলাকার ফোয়ারাটি প্রায় ৬ বছর ধরে বিকল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তিনটি ফোয়ারাই এখন কার্যত পরিত্যক্ত।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, হুমায়ুন রশীদ চত্বরে স্টিল-পাকা সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে তিনটি ছোট ও একটি বড় ফোয়ারা আছে। চারটির কোনোটিতেই এখন আর পানি ছিটানোর যন্ত্র নেই। একটি ছোট ফোয়ারায় জমে থাকা পানিতে ভাসছে প্লাস্টিক, কাপড়চোপড়সহ নানা বর্জ্য; জমেছে শ্যাওলা। পানিতে ঘুরছে পোকামাকড়, উড়ছে মশা। অন্য তিনটিতে পানি না থাকলেও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। সীমানাপ্রাচীরের বেশির ভাগ অংশ ভাঙা। সেখানে এক ভবঘুরেকে বসে থাকতে দেখা যায়।

নাইওরপুল ফোয়ারাতেও পানি নেই। ভেতরের যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়েছে। কিনব্রিজ এলাকার ফোয়ারাটিও বিবর্ণ হয়ে আছে। সেখানে নেই পানি ছিটানোর কোনো যন্ত্রাংশ। আশপাশে ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট ও নানা বর্জ্য।

কিনব্রিজ এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা বলেন, সুরমা নদীর পাড়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ফোয়ারাটি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় পানি ছিটানোর সময় জায়গাটি আলাদা সৌন্দর্য পেত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এটি বিকল থাকায় এলাকাটি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে।

ফোয়ারাটি চালুর পর এলাকায় চটপটি ও চায়ের কয়েকটি টংদোকান গড়ে ওঠে। সেসব দোকানের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ফোয়ারা বন্ধ থাকায় লোকজনের আসা কমে গেছে। আগে যেভাবে ব্যবসা চলত, এখন তেমন হচ্ছে না।

নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা আসলাম উদ্দিন (৩৯) বলেন, ফোয়ারাগুলো সচল থাকলে নগরের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়ত। তাই এগুলো দ্রুত চালু করা দরকার। যন্ত্রাংশ চুরি ঠেকাতে আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোরও পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে নির্মিত কিনব্রিজ ফোয়ারাটি কয়েক দফায় সংস্কার করা হলেও প্রায় ১০ বছর ধরে বিকল। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নাইওরপুল ফোয়ারাটির উদ্বোধন করেন। সেটিও গত ছয় বছর ধরে বন্ধ।
সিটি করপোরেশনের এক প্রকৌশলী জানান, ফোয়ারাগুলো নষ্ট হলে কয়েক দফায় মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে অনেক যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনটি ফোয়ারা বিকল থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *