সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মিঠাপুকুর থেকে কাটাছেঁড়া শরীর নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আসেন রহমত আলী। সেখানে টিকিট করা, ট্রলি সংগ্রহ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পেতে তার সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৪৫ মিনিট। এর মধ্যেই তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায় নেওয়া হয় হাসপাতালের বেডে। পরে নার্সের কাছে টিকিট দিয়ে মূল খাতায় এন্ট্রি করে পাঠানো হয় ওয়ার্ডে। সেখানে চিকিৎসক আসা পর্যন্ত তার সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের ডাঙ্গাপাড়া থেকে গুরুতর অসুস্থ রাকিব ইসলামের সঙ্গেও ঘটে একই ঘটনা। শুধু রহমত আলী কিংবা রাকিব ইসলাম নয়, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রমেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এমন চিত্র দেখা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে চালু হচ্ছে না রমেক হাসপাতালের ‘ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ’। ফলে ওসেক (ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। জরুরি বিভাগে দীর্ঘসূত্রতা ও অক্সিজেনসংকটে রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা দ্রুত এই বিভাগটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিভাগটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করেন।
গণপূর্ত বিভাগের তথ্যানুযায়ী, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের পাশেই এই ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ। এটি নির্মাণে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএএম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাজ করেছে, যার চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০২৪ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়।
জানা গেছে, ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ আধুনিক জরুরি চিকিৎসা প্রকল্পের কাজ। এই বিভাগে রোগী আসার পর দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতালের এই বিভাগটিতে বর্তমানে ১৮টি অক্সিজেনসহ বেড রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ৪টি, এসডিইউ বেড ৩টি ও জেনারেল বেড ১১টি।
রোগী রাকিব ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটা বিভাগ যদি থাকে, যেখানে দ্রুত অক্সিজেন সুবিধা থেকে সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে; তাহলে কেন কর্তৃপক্ষ এটা চালু করতে অবহেলা করছে জানি না। ক্যাজুয়ালিটি বিভাগ থাকলে এত কষ্ট পোহাতে হতো না।’
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব আমাদের ওপর ছিল। আমরা তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই কাজটির অফিসিয়ালি হস্তান্তর পাইনি। যেখানে বিল্ডিং ইনস্টলমেন্ট ও জনবল থাকার কথা, সেগুলো দেওয়া হয়নি। তাই বিভাগটি কাজে লাগানো যাচ্ছে না


