TT Ads

দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন

রমজান মাসের শেষ দশককে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন এক হাজার মুসল্লি। শহরের বাড়েরা মাদানী নগরে অবস্থিত খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন।

খানকাটি দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এর খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.) এর মাধ্যমে এ খানকার প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোতোওয়াল্লী মুফতি মাহবুবুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক আমল ও ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রমজানের ১০ দিন আগে থেকেই ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়। চলতি বছর রমজানের দশ দিন আগে ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন। পরে পহেলা রমজান থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ জনে। রমজানের শেষ দশকে এসে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ থেকে এক হাজারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন। তাদের ইবাদত ও আমলে পুরো খানকা এলাকা এখন আধ্যাত্মিক পরিবেশে মুখরিত।

শুধু আধ্যাত্মিক কার্যক্রম নয়, খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তামূলক কাজও করে থাকে। ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ, ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তাসহ নানা মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশেও দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়। আর ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লার বন্যায় ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০ এর বেশি নও-মুসলিমের দেখভাল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হয়। এছাড়া ২০০ এর বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
খানকার দায়িত্বশীলরা জানান, মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উত্তম চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *