দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
বাসমালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে বরিশাল থেকে ৬টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে এসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় রূপাতলী বাস টার্মিনালে মারধরের শিকার হন ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির একটি বাসের দুজন স্টাফ। এ নিয়ে দুই মালিক সমিতির মধ্যে আলোচনায় সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ আলোচনায় সমাধান করতে না পারায় সকাল থেকে রূপাতলী বাস টার্মিণাল থেকে বাস সরিয়ে নেন ঝালকাঠি মালিক সমিতির লোকেরা।
সেখান থেকে বাস সড়িয়ে নিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঝালকাঠির প্রবেশদ্বার কালিজিরা সেতুর ঢালে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল থেকে গাড়ি চলাচল অব্যাহত রেখেছেন।
বরিশাল বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘গতকাল একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির লোকজন তাদের বাস রূপাতলী টার্মিনাল থেকে সড়িয়ে নিয়ে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ স্ট্যান্ড চালু করত চাইছে। বিগত সরকারের আমলেও এটা করার চেষ্টা করেছে, এখনও চেষ্টা করছে। এজন্য ঠুনকো অজুহাতেও বাস সড়িয়ে নিচ্ছে।’
এই শ্রমিক নেতা দাবি করেন, রূপাতলী থেকে কোনো গাড়ি ছেড়ে গেলে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিকরা সেটি ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা মারধরের হুমকি দিচ্ছে। এতে বরিশাল ঝালকাঠি, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, পিরোজপুর, বাগেরহাট ও খুলনা রুটে বাস যেতে পারছে না।
তবে এসব দাবি অস্বীকার করে রূপাতলী বাস মালিক সমিতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, মারধর ও চুরির অবিযোগ এনেছেন ঝালকাঠি বাস শ্রমিকরা।
ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘রূপাতলীতে গতকাল আমাদের শ্রকিদের বিনা কারণে মারধর করেছে। বাস্তবতা হলো রূপাতলী বাসমালিক সমিতির নেতাদের চাঁদাবাজীতে আমরা অতিষ্ঠ। টার্মিনালে ঢুকতেই ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা সরিয়ে দেবে একজন, তার নামে ১০ টাকা তোলা হয়। বাসমালিক সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার একটা নির্ধারণ করে দেন, তার ছেলে এসে একটা নির্ধারণ করেন। রাতে সেখানে গাড়ি রাখলে ব্যাটারি চুরি হয়, তেল চুরি হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ঝালকাঠি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. মিলন বলেন, ‘রূপাতলী থেকে আমাদের বাস নিয়ে আসলেও যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমরা গাড়ি বন্ধ করিনি।’
তিনি বলেন, ‘ঝালকাঠির কালিজিরায় একটি জায়গা আছে সেখানে গাড়িগুলো রেখে আমরা যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রেখেছি। রূপাতলী বাস মালিক সমিতি কোনো গাড়ি নিয়ে এদিকে আসলেও আমাদের এখান থেকে সব রুটে গাড়ি চলাচল করছে।’
দুই বাসমালিক সমিতির দ্বন্দ্বে পড়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
নাজনিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভান্ডারিয়া যাওয়ার জন্য এসে দেখি রূপাতলীর কাউন্টার খালি। কিছুদিন পরপরই ঝালকাঠি আর বরিশালের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর একটি স্থায়ী সমাধান করা উচিত।’
আরেক যাত্রী মুনসুর হাওলাদার বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়ের জানাজা বিকেলে। খবর পেয়ে সেখানে যেতে রওয়ানা হয়ে দেখি বাস চলাচল বন্ধ। কালিজিরা থেকে বাস চলছে শুনেছি। এখন বাড়তি টাকা আর ভোগান্তির শিকার হয়ে সেখানে গিয়ে তারপরে যেতে হবে। আমরা বাস মালিক সমিতির কাছে অসগায় হয়ে পড়েছি।’


