অনলাইন ডেষ্কঃ
রংপুর নগরীর সবগুলো ফিলিং স্টেশন বন্ধ। নামমাত্র তিনটিতে তেল দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও কখন তা দেওয়া হবে তা জানেন না পাম্প কর্মচারীরাও। ফলে ভোর থেকে শুরু হওয়া মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন দীর্ঘ হতে হতে এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরও ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতি আরও কঠোর করার কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ পাম্প মালিক ও গ্রাহকদের।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় সিটি ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে দুটি ট্যাংক লরি থাকলেও কখন তেল দেওয়া শুরু হবে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছেন না পাম্প কর্তৃপক্ষ।
মোটরসাইকেল নিয়ে ভোর ৬টায় লাইনে দাঁড়ানো নগরীর সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা রাহমান জানান, তিন-চারটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে বন্ধ পাওয়ার পর তিনি সিটি ফিলিং স্টেশনে এসেছেন। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘আশা করেছিলাম ৯টার মধ্যে তেল পেলে কর্মস্থলে যাবো, কিন্তু দুপুরে না বিকেলে—কখন পাবো তাও বুঝতে পারছি না। এভাবে অপেক্ষায় রেখে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।’
পীরগাছায় বেসরকারি ব্যাংকে চাকরিরত সাহেব উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদিন তার অন্তত দুই লিটার তেল দরকার। অথচ এখন তাকে পাঁচ লিটার করে দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে দুই দিন চলে। ফলে দুদিন পর পর ভোরবেলা বের হয়ে ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
তিনি বলনে, ‘সরকার বলে, পর্যাপ্ত তেল আছে, তাহলে রেশনিং পদ্ধতি কেন? সব পাম্পে প্রতিদিন জ্বালানি তেল দেওয়া হলে তো সমস্যা থাকে না। আসলে সরকার পুরো ঘটনা বলে না, এভাবে আমাদের তেল দেওয়ার নামে হয়রানি আর কতদিন চলবে?’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর আগে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে যে জ্বালানি দেওয়া হতো, তা আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের।
নগরির কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত নর্দান ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার রিপন আলী বলেন, ‘এখনও রেশনিং পদ্ধতিতে ৬ হাজার লিটারের জায়গায় মাত্র ৩ হাজার লিটার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। ফলে চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। সব ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন তেল দেওয়া হলে মানুষের এমন হয়রানি হতো না।’


