TT Ads

জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামবাসীর কাছে নতুন কিছু নয়। আজ মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরের প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকা কোমরসমান নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

আজ দুপুরে বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত সড়কটি পানির নিচে ডুবে যায়। এতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার অন্যতম প্রধান এই সড়ক দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

প্যান্ট গুটিয়ে আইল্যান্ডের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘রাস্তা ডুবে যাওয়ায় আইল্যান্ডের ওপর দিয়ে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সেখানেও মানুষের প্রচণ্ড ভিড়।’

মিতুল দাস নামের আরেক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখনো বর্ষা পুরোপুরি শুরু হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভারী বৃষ্টিতে কী হবে? তখন তো ঘর থেকেই বের হওয়া যাবে না।’

প্রবর্তক মোড়ের এই জলাবদ্ধতার কারণে জিইসি ও গোলপাহাড় মোড় এলাকাতেও তীব্র যানজট তৈরি হয়। পাঁচ মিনিটের পথ পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বজ্রমেঘ থেকে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং আগামী চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

জলাবদ্ধতার কারণ ‘মাটির বাঁধ’

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টি খুব বেশি না হলেও মূলত ‘হিজড়া খাল’ সম্প্রসারণের কাজের জন্য খালের মুখে দেওয়া মাটির অস্থায়ী বাঁধের কারণেই এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. কামাল বলেন, ‘১০ বছর ধরে এই শহরে গাড়ি চালাই। সাধারণত বর্ষায় এই এলাকা ডোবে। কিন্তু গত এক মাস ধরে নির্মাণকাজের কারণে বৃষ্টি ছাড়াও প্রতিদিন পানি উঠছে।’

স্থানীয় দোকানি মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, পানি দোকানের ভেতর ঢুকে যাওয়ায় তাদের ব্যবসাও কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে। তিনি বলেন, ‘এক মাস ধরে কাজ চলছে। যদি দ্রুত কাজ শেষ না হয়, তবে আমাদের এই ভোগান্তিও শেষ হবে না।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোলপাহাড়-মেহেদীবাগ এলাকা থেকে শুরু হওয়া হিজড়া খালটি অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। একসময় এটি ৩০ ফুট চওড়া থাকলেও অবৈধ স্থাপনার কারণে বিভিন্ন জায়গায় এটি ১২ থেকে ১৫ ফুটে নেমে এসেছে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৬টি খাল সংস্কারের একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সিডিএ সূত্র জানায়, বেশির ভাগ খালের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে জানতে সিডিএর মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মঈনুদ্দীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *