স্টাফ রিপোর্টার
বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) ক্যাম্পাসে ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির হাসান রিয়াদ। তিনি দাবি করেন, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়।
তার অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টা পর অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে ১২-১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুইজন আহত হন বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তানভির হাসান রিয়াদ বলেন, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাদের সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, হামলায় জড়িতরা নিজেদের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে তারা একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে মত প্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব-সংস্কৃতি ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সকল সংগঠনের শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে জানান।


