নিজের আন্ডারওয়ার্ল্ড আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ইমন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সে পুরান ঢাকার অপরাধ জগতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে অবস্থান করেও তার এই নিয়ন্ত্রণে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাদেরই টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে।
রাজধানীকে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর ফের আলোচনায় ইমন। ধারণা করা হচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্যের দ্বন্দ্ব থেকেই ইমনের নিশানা হয়েছেন তারই শ্যালক নাইম আহমেদ টিটন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলায় প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী একে একে পাঁচটি গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত নাইম আহমেদ টিটন রাজধানীর পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমন ও টিটন দুজনই এক সময় ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং পুরান ঢাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন। টিটনের ছোট বোন নীলার সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়—ফলে তাদের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুজনই মুক্তি পান। এরপর ইমন বিদেশে চলে যান, আর টিটন দেশে থেকে যান। এরপর থেকেই চাঁদাবাজি ও আধিপত্য নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে জানা গেছে।
এর আগেও একই কায়দায় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সূত্রাপুরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, তিনিও এক সময় ইমনের সহযোগী ছিলেন এবং পরে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
ডিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টিটন হত্যার পেছনে দুইটি সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে—একটি হলো বিদেশে থাকা ইমনের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ, অন্যটি হলো পুরোনো হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়াসহ পুরো পুরান ঢাকার অপরাধ জগতের একটি বড় অংশ এখন ইমনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে তার নেটওয়ার্ক জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, ৫ আগস্টের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসীর সক্রিয়তা বাড়ার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পিচ্চি হেলাল, কিলার আব্বাস, সুইডেন আসলাম, রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, মফিজুর রহমান মামুনসহ একাধিক নাম উঠে এসেছে গোয়েন্দা নজরে। তারা বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক সক্রিয় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, টিটন হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত চলছে, তবে হত্যার মূল কারণ ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।


