TT Ads

খুলনায় মো. সোনা মিয়া (৩৮) নামে এক তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোনা মিয়া নয়াবাটি এলাকার বাসিন্দা জব্বার সরদারের ছেলে। তিনি নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড তাঁতী দলের সভাপতি ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, খালিশপুরের নয়াবাটি এলাকায় সোনা মিয়ার একটি দোকান ছিল। প্রতিদিন গভীর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরতেন তিনি। মুদি দোকানের পাশাপাশি তাঁর ২০টি ইজিবাইক ছিল। দোকান ও ইজিবাইক ভাড়াই ছিল তাঁর মূল পেশা। শনিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন যুবক দোকানে ঢুকে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, সোনা মিয়া গত রাতে দোকানে বসা ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক তাঁর ডান হাতের বাহুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর দুটি আঘাত করে। জীবন বাঁচাতে তিনি দোকান ছেড়ে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী একটি গুদামে আশ্রয় নেন। সেখানে সংজ্ঞাহীন পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তখন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে সোনা মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোয়ালখালী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দুপুরে খালিশপুর নয়াবাটির মোড়ে সোনা মিয়ার দোকানের সামনে গিয়ে জমাট বাঁধা রক্ত দেখা গেছে। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠনটি ছিল বন্ধ। সিআইডি কর্মকর্তারা ওই স্থান থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। নিহতের বাড়িতে গিয়ে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। নিহতের স্ত্রী সাথী বেগম স্বামী হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

প্রতিবেশীরা জানান, চার বছর আগে সোনা মিয়া ও সাথী বেগমের বিয়ে হয়েছে। তাদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সেই সন্তানকে কীভাবে বড় করবে সেই চিন্তায় দিশেহারা পরিবারটি।

খালিশপুর থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, বেশকিছু বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে– এলাকায় সুদের ব্যবসা, অনলাইনে জুয়াখোরদের টাকা ধার দেওয়া, ইজিবাইকের ব্যবসা এবং কয়েক দিন আগে দুটি ইজিবাইক চুরি হওয়ায় কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহ করে অভিযোগ দেওয়া। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি রাতে হওয়ায় ক্যামেরায় পরিষ্কারভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে রাত থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *