অনলাইন ডেষ্কঃ

রাতে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় নোয়াখালীর রেলপথে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। ঝড়ের তাণ্ডবে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হয়। এতে একাধিক স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি পথে বাধার সম্মুখীন হয়ে ধীরগতিতে চলতে থাকে। একাধিক স্থানে গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছালেও দীর্ঘসময় সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। পরে আংশিকভাবে লাইন পরিষ্কার হলে ট্রেনটি চৌমুহনীর দিকে রওনা দেয়। তবে সামনের পথ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

ট্রেনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে এখনও গাছ পড়ে থাকায় যাত্রাপথ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে।

নোয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল থেকেই গাছ সরানোর কাজ করছেন। এরপর রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ম-নীতির প্রতি কঠোর আনুগত্যের একটি ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিফলন ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা মেনেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি বজায় রাখা হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন, উপকরণ ক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়। ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মানও বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা স্পষ্টভাবে জানান, এখানে কোনো ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ নেই। সকল সেবা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রদান করা হয়। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদাররা কোনো প্রকার অনৈতিক চাপ বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান ছাড়াই তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন বলেও জানা গেছে। সম্প্রতি অফিস সহকারী মিলন বড়াল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, আমি কখনো কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।

আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করছি। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বাস্তবে আমাদের সকল কার্যক্রমই সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দপ্তরের প্রতিটি কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে স্থানীয় ঠিকাদার ফারুক বলেন, আমি আমার প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করেছি এবং পরে নিয়ম মেনে বিল উত্তোলন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। তার এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক পরিবেশের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, নতুন রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, সময় ও খরচ কমেছে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে অনেক নিম্নআয়ের পরিবার উপকৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি মহল কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা এ ধরনের অপপ্রচারকে ম্লান করে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও জনগণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণই প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। সার্বিকভাবে, গৌরনদী উপজেলায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ঘুষমুক্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের যে ধারা বজায় রয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন ডেস্কঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ্ হলের নাইট ক্যান্টিনের খাবারে জীবিত পোকা (ফ্রুট ফ্লাই বা মেলন ফ্লাইয়ের লার্ভা) পাওয়া গেছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে চিকেন চাপের অর্ডার করা প্রতিটি প্লেটেই সাদা পোকা কিলবিল করতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত চারজন শিক্ষার্থী অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের শহীদুল্লাহ্ হলের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী ওয়াহিদ অভিযোগ করে বলেন, এর আগে তিনবার অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়। তারপর হল সংসদে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও ছিলেন ২০২০-২১ সেশনের ২ জন শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান ইমন ও নাজমুস সাকিব আদিব। এছাড়াও ঐ হলের আরেকজন ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী নিলয় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভুক্তভোগী।

পোকা থাকা বিষয়টি স্বীকার করে নাইট ক্যান্টিন ম্যানেজার মো সুফল বলেন, ‘চিকেন চাপের সাথে যে শসার কুচি পরিবেশন করে তা দুপুরে কাটা হয়েছে। কাটার পরে অনেক ছোট ছোট পোকা, সব সাদা তাই বোঝা যাচ্ছে না, এটা মিশে গেছে।’

হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক ইমরান তুষার জানান, ‘ঐ ক্যান্টিনের বিরুদ্ধে আজই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ওই ক্যান্টিন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও হল প্রশাসনের সাথে তারা চুক্তিবদ্ধ।’

অনলাইন ডেস্কঃ
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩১তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদের ছুটি শেষে রোববার (৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম কার্যদিবসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক গতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সময়ের আলোর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন।

সময়ের আলো : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন। দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন বিষয়গুলোকে আপনি সর্বাধিক গুরুত্ব দেবেন?

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম : আপনাকে ধন্যবাদ। আসলে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। শিক্ষার্থীরাই আমার মূল কাস্টমার বলি, সম্পদ বলি তারা আছে বলেই আমরা আছি। তাদের সেবা দান করার জন্যই আমরা কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক, উপাচার্য, উপ- উপাচার্য সবাই বসে আছি। অতএব আমরা তাদের ভালো থাকাটাই চাইব। তারা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মজীবনে যেসব দায়িত্ব পালন করেছি, সবসময় শিক্ষার্থীদের কথা বলে এসেছি। দায়িত্ব গ্রহণের পরই আমি শিক্ষার জন্য একাডেমিক পরিবেশ ও নানা সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়ে মিটিং করেছি। শিক্ষার্থীদের নিয়েই তো আমাদের গবেষণা। শিক্ষার্থীরা ভালো থাকবে, গবেষণা করবে, তাদের ক্যারিয়ার বিল্ডআপ হবে, তার মাধ্যমে আমারটাও বিল্ডআপ হবে।

আপনি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে‌ সম্পৃক্ত আছেন। বিগত সময়গুলোতে দেখা গেলে অনেকেই ভিসি হওয়ার পর দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। আপনি কোনটি করবেন?

অবশ্যই আমি একটি দলের আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু দল করাটা দোষের কিছু না, রাজনীতি করাটা দোষের কিছু না। রাজনীতি আছে বলেই দেশের পরিবর্তন আমরা আশা করি। এখন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে। এর আগে কিন্তু রাজনৈতিক গভর্নমেন্ট নেই বলে আমরা বলেছি, কোনো ইনভেস্টমেন্ট নেই, কোনো কিছু নেই‌। কেন নেই? রাজনৈতিক সরকার ছিল না। রাজনীতি করা দোষের কিছু না, কিন্তু রাজনীতি করার পরে, চেয়ারে বসার পরে আমি রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ করি কি না, আমার দ্বারা রাজনৈতিক অন্য মতের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয় কি না এটিই দেখার বিষয়। সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এই তিনটির ভিত্তিতে যদি আমি কাজ করতে পারি তা হলে আমি কোন দল করি, কোন মতাদর্শ ধারণ করি তাতে কী আসে যায়।

রেজিস্ট্রার ভবন নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ। সম্প্রতি এক ঢাবি শিক্ষার্থীর বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট ভেরিফাই করাতে গেলে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে যা সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রেজিস্ট্রার ভবনভিত্তিক নানা সমস্যা সমাধানে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি না?

ইতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭২ ঘণ্টার বেশি কোনো ফাইল কোনো দফতরে পড়ে থাকতে পারবে না- এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে যে পরিস্থিতি সেটি আমার নলেজে কিছুটা আছে, যেহেতু আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

দুপুরের পরে কর্মকর্তারা লাঞ্চে গেলে আর কাউকে পাওয়া যায় না- এমন কথাও প্রচলিত আছে। অবশ্যই আমি সেটি করতে দেব না। আমি ইতিমধ্যে মেসেজ দিয়েছি, আমি এখানে চাকরি করতে আসিনি, আমি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। দায়িত্ব পালন কিন্তু নয়টা-পাঁচটা হয় না, দায়িত্ব পালন মানে মাথায় বোঝা থাকে আমায় এটি শেষ করতে হবে। আমি ওপেন ইউনিভার্সিটিতে দায়িত্বে ছিলাম দেড় বছর। আমি চাকরি করিনি, দায়িত্ব পালন করেছি। তাই আমি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাসাধ্য ভালোভাবে পালন করার চেষ্টা করি।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি শিক্ষক মূল্যায়ন চালু করা। ডাকসুরও ইশতেহারেও তাই ছিল। এই বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিন্তু ঠিকই শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করে। এটি দোষের কিছু নয়। তবে সেটি কীভাবে হয় সেই প্রসেসটা আমার দেখতে হবে। এই বিষয়ে বোধ হয় আগের প্রশাসন কিছুটা কাজ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রায়শই ক্যাম্পাসে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছেন কি না?

আমাদের প্রক্টোরিয়াল টিম সবসময় ভিজিল্যান্স থাকে। প্রতিটা মুহূর্তে প্রক্টোরিয়াল টিম কোথায় কীভাবে কাজ করে তা আমরা মনিটর করি। আমরা আশা করি, তারা আগের চেয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল হবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়েছে। ক্যাম্পাসের আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শহিদ মিনার) যেন সবসময় আগের চেয়ে বেশি ভিজিল্যান্স থাকেন এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের উন্নয়নের পাশাপাশি আর কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি দরকার বলে মনে করেন?

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ডেফিনেটলি কারিকুলামগুলো পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করতে হবে এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি, ক্লাসের পাশাপাশি আরও এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা আসলে লেখাপড়ার চাপে অনেক জর্জরিত হয়ে যায়। তাদের জন্য আরও সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা- এগুলোর স্কোপ বৃদ্ধি করতে হবে। ডিবেটিং সোসাইটি, সব কালচারাল প্রোগ্রামসহ অন্যান্য যেগুলো আছে সেগুলো বাড়াতে হবে।

উপাচার্য হিসেবে আগামী কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান এবং কীভাবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল পরিকল্পনা। কীভাবে নেব? বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের টপ মোস্ট ইউনিভার্সিটি দেখাতে গেলে আমার ডেফিনেটলি শিক্ষা এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা আমাদের তো সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আছে, গবেষণাও আছে। কিন্তু গবেষণার মান যদি বাড়াতে না পারি, ওয়ার্ল্ড ক্লাস গবেষণা যদি করতে না পারি এবং তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুবিধা যদি বৃদ্ধি করতে না পারি তা হলে তো এগিয়ে যেতে পারব না।

তা হলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অবশ্যই ফান্ড কালেকশন করতে হবে। এখন ফান্ড তো আমাদের পরিমিত। সরকার থেকে বাজেট যখন উপস্থাপন করা হয় সেখানে খুবই সামান্য পরিমাণ অর্থ থাকে রিসার্চের জন্য। বছর বছর এটি কমতেই থাকে। এ ক্ষেত্রে আমার চিন্তা- একাডেমির সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোলাবরেশন করা যায় কী করে?

বিভিন্ন জায়গায় ইন্ডাস্ট্রি যাদের আছে তাদের কাছে আমার সহযোগিতা চাইতে হবে। এর বাইরেও বহির্বিশ্বে যেখানে আমাদের স্কোপগুলো আছে সেই স্কোপগুলো বৃদ্ধি করার জন্য আমাকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে হবে।

আর র‌্যাঙ্কিংয়ের একটা ব্যাপার আছে যেহেতু বিশ্বের দরবারে আমাদের পৌঁছাতে হলে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য এগোতে হবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু যে গবেষণা একটা প্যারামিটার, তা নয়। র‌্যাঙ্কিং ডিপেন্ড করে অনেক প্যারামিটারের ওপর। সব প্যারামিটার যদি উন্নত করতে পারি তা হলে আমি উন্নত বিশ্বের দরবারে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

অনলাইন ডেস্কঃ

রাজধানীর ঢাকা কলেজের সাউথ হলে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে সাউথ হলের ৩১৮ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান। তিনি উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুশফিকুর রহমান কক্ষে অবস্থান করার সময় হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তার মাথায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

আহত মুশফিকুর রহমান বলেন, দুপুরে খাওয়ার পর আমি শুয়েছিলাম। হঠাৎ আমার মাথার ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে প্রচণ্ড মাথাব্যথা অনুভব করি। পরে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন রুমে আমরা দুইজন ছিলাম।

এ ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই হলের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হল প্রভোস্টকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তিনি কেন প্রভোস্ট হয়েছেন? হলের সকল ছাত্রের অভিভাবক হিসেবে তার কোনো দায়বদ্ধতা নেই? কলেজ প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে হবে।

ঢাকা কলেজ হল কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, বিকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য হলের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার খরচ দেওয়া হয়েছে। আমরা হলের প্রতিটি রুমে গিয়ে জানিয়ে এসেছি, যেখানে পলেস্তারা খসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হলের সংস্কারের জন্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার টেন্ডার হয়েছে, এবং রমজানের আগেই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তার চিকিৎসা খরচ কলেজ প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আরও খরচ হয়, তাহলে তা কলেজ প্রশাসন দেবে। হলের কাজ শুরু হয়েছে, তবে মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ ছিল। আগামীকাল ইঞ্জিনিয়ারদের ডাকা হবে।

অনলাইন ডেস্কঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভর্তি আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

ভর্তি সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিভাগ বা ইনস্টিটিউট ও হলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্ধারিত তারিখ ৬ এপ্রিল হতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

এর আগে অনলাইনে ভর্তি ফি প্রদান ও প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় ১০ মার্চ। আর অনলাইনে ভর্তি ফি প্রদানের শেষ সময় ছিল ২৮ মার্চ। ভর্তি ফি প্রদান সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীদের বরাদ্দপ্রাপ্ত বিষয় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউট এবং নির্ধারিত হওয়ার পর উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ভর্তি ফি প্রদান এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউট ও হলে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

অনলাইন ডেক্সঃ
কেনাকাটার প্রয়োজনে প্রায় প্রতিদিন আমাদের কোনো না কোনো মার্কেটে যেতে হয়। তবে জরুরি বিষয় হলো রাজধানীর কোনো মার্কেটে যাওয়ার আগে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জেনে নেওয়া। আর তা না হলে, অনেকেরই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। 

এখন জেনে নেওয়া যাক সোমবার (৬ এপ্রিল ) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকে।

যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

 
আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-১৩, মিরপুর-১৪, ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া, ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টার সিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ী একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ, সানারপাড়।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ

রামপুরার মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোড়ান বাজার, মেরাদিয়া বাজার, আয়েশা-মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স, দনিয়া তেজারত সুপার মার্কেট, আবেদীন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস সুপার মার্কেট। 

অনলাইন ডেক্সঃ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস উইন্টারটন। নতুন সরকার গঠনের পর এই সফরকে ২ দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন এ তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

ব্রিটিশ হাইক‌মিশন বল‌ছে, ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের পর তার এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলা হচ্ছে। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, বিমান চলাচল ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সফরকালে ব্যারোনেস উইন্টারটন মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশে কার্যরত যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথেও মতবিনিময় করবেন। তার এ সফরের লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ খুঁজে বের করা।

সফরের অংশ হিসেবে ব্যারোনেস উইন্টারটন এমন কিছু রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন, যারা যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিটিসিএস) সুবিধা ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করছে। এই স্কিমের আওতায় শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, সহজ নিয়ম ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে উৎসাহ দেওয়া হয়।

ডিটিসিএস-এর আওতায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশ। এর মাধ্যমে দেশটি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য রপ্তানি করে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারছে।

সফরের বিষয়ে ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। তিনি নতুন সুযোগ খুঁজে বের করে দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, এই সফর দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি বাজার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইন ডেক্সঃ

টানা কয়েকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম এবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পূর্বের নির্বাচনগুলোর মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়, এবার তিনি কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হিরো আলম নিজেই। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে গিয়ে অতীতে তাকে নানা ধরনের হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার দলীয় ছত্রছায়ায় সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

হিরো আলম বলেন, ‘স্বতন্ত্র নির্বাচনে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই এবার দলীয় ব্যানারে লড়তে চাই। আমি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনছি।’

বর্তমানে তিনি ‘আমজনতা দল’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও মেয়র পদে কোন দলের হয়ে লড়বেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হিরো আলমের দাবি, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে। সমঝোতা সফল হলে খুব শীঘ্রই দলের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন তিনি।

তবে তিনি ঢাকা উত্তর নাকি দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, উত্তরে নাকি দক্ষিণে— কোথায় আমার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং কোথায় দাঁড়ালে মানুষের জন্য কাজ করা সহজ হবে, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। সময় হলে বিস্তারিত জানাব।

অনলাইন ডেক্সঃ
ঢাকা মহানগরীর ভেতরে তিনটি বাস টার্মিনাল ছাড়া অন্য স্থানে থাকা আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার রাতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সারওয়ার কাউন্টার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে অবস্থিত সকল আন্তঃজেলা বাস মালিককে অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বা রুট পারমিট ব্যতীত পরিচালিত আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার অপসারণ করা প্রয়োজন।

এতে বলা হয়, অনুমোদনহীন/অবৈধভাবে আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার স্থাপন ও পরিচালনা, পার্কিং, যাত্রী উঠা-নামা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে মহানগরে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মহানগরে রাত্রিকালেও ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হচ্ছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থায়, গণবিজ্ঞপ্তি জারির ৭ কার্য দিবসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে অবস্থিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা (গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ) ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে উক্ত কার্যক্রম পরিচালনা না করাসহ মহানগরের বিভিন্ন স্থানে যেসকল আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার রয়েছে তা সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব-উদ্যোগে অপসারণ/উচ্ছেদ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এতে বলা হয়, অন্যথায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৩৭/৪৭/৮২/৯০ ধারাসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান বলে ডিএমপির বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সামারি ট্রায়াল/মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইন অমান্যকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা (কারাদণ্ড/অর্থদণ্ড/রুট পারমিট বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল বাজেয়াপ্ত ইত্যাদি) গ্রহণ করা হবে।