অনলাইন ডেষ্কঃ
খুলনা প্রেস ক্লাব নির্বাচনের প্রচারের মধ্যে সেখানে ঢুকে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
সোমবার দুপুরে প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি হয়। সেখানে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় রোববার রাতেই খুলনা প্রেস ক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজানের নাম দিয়ে আরও ২০-২৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন প্রেস ক্লাবে হামলার ঘটনা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
দুই দশকে খুলনার চার সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনর রশিদ ও শেখ বেলাল উদ্দীন খুন হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বর্তমান প্রজন্ম দেখতে চায় না।
৩০ এপ্রিলের নির্বাচনকে ঘিরে রোববার সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাবে প্রচার চলছিল। এ সময় একদল লোক হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
একপর্যায়ে তারা নির্বাচনের সভাপতি পদপ্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারের নাম ধরে ডাকাডাকি ও গালিগালাজ করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং এখন টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা বলে অভিযোগ ওঠে।
সমাবেশে বক্তরা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রেস ক্লাবে ঢুকে সভাপতি প্রার্থীকে খোঁজাখুঁজি ও হুমকি দেন এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করেন। এতে আসন্ন নির্বাচন হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনাকারীদেরও খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কারা তাদের পাঠিয়েছে, তা প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
খুলনা থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূরের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক। এতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


