দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
অবশেষে বরিশাল সেক্টরে একটি ফ্লাইট বাড়িয়ে যাত্রীবান্ধব সময়সূচী নিয়ে ফিরল বিমান। রোববারই নতুন গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী অনুযায়ী ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রী বোঝাই ‘ড্যস-৮ কিউ ৪০০’ মডেলের ৭৪ আসনের এস ২-একেই নম্বরের ‘বিজি-৪৭১ ফ্লাইট’টি নিয়ে ক্যাপ্টেন রাইহান আহমেদ মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে বরিশাল বিমান বন্দরের রানওয়ে স্পর্ষ করেন। বরিশাল থেকেও পূর্ণ লোড নিয়ে ‘বিজি-৪৭২’ ফ্লাইটটি সকাল ৯.৫০টায় উড়ান দিয়ে সোয়া ১০টার মধ্যে ঢাকায় অবতরন করে।
বিমান-এর এ নতুন সময়সূচী নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে সন্তুষ্টির কথা শোনা গেলেও সবাই বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন ফ্লাইট পরিচালন’রও দাবী জানিয়েছেন।
২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বিমান’র গ্রাষ্মকালীণ সময়সূচীতে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বিকেলে সাড়ে ৪টায় ও বরিশাল থেকে ৫.৪৫ টায় এবং শুক্র ও রোববার ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় ও বরিশাল থেকে সকাল ৯.৫৫টায় বিমান’র ফ্লাইট চলাচল করবে বলে জানা গেছে।
সদ্যসমাপ্ত শীতকালীন সময়সূচী নিয়ে বরিশাল সেক্টরের যাত্রীরা চরম ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এমনকি ইতোপূর্বে চলাচলকারী ৩টি ফ্লাইট সংখ্যা দুটিতে হ্রাস করা নিয়েও যাত্রী সাধারন সহ সর্বমহলে ব্যপক ক্ষোভ ছিল। এমনকি শীতকালীন সময়সূচীতে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইটও একটি হ্রাস করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে যাত্রী সহ সাধারন মানুষের ব্যপক ক্ষোভের প্রেক্ষিতে গ্রীষ্মকালীণ সময়সূচীতে ৩টি ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি যাত্রী বন্ধব সময় সূচীতে ফিলল বিমান। বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন কমিটিও ইতোপূর্বে মানব বন্ধন সহ প্রধানমন্ত্রী ও বিমান মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেস করে।
তবে রোববার থেকে কার্যকর গ্রীষ্মকালীন সময়সূচীতে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বরিশাল বিমান বন্দরে ১টি ফ্লাইট বৃদ্ধির কথা বলা হলেও নিয়মিত ফ্লাইটের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র মতে, অভ্যন্তরীণ সেক্টরের জন্য বিমান-এর ৫টি কানাডিয়ান ‘ড্যাস-৮ কিউ-৪০০’ উড়জাহাজের বর্তমানে অবশিষ্ট আছে মাত্র ৩টি। যারমধ্যে প্রায়সই ১টি রক্ষণাবেক্ষন সহ কারিগড়ি ত্রুটির জন্য পরিচালনের বাইরে রাখতে হয়। ফলে ২টি উড়জাহাজের মাধ্যমে দেশের ৭টি বিমান বন্দর ছাড়াও আঞ্চলিক রুটে ফ্লাইট পরিচালন দুরুহ। এসব বিবেচনায় বরিশাল সেক্টরেও চাহিদা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালন সম্ভব হচ্ছেনা বলে বিমান-এর একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারী কাটিয়ে ২০২১-এর ২৬ মার্চ সকালে সম্পূর্ণ যাত্রীবান্ধব সময়সূচী ও নিয়মিত ফ্লাইট নিয়ে বরিশালের আকাশে আবার ডানা মেলেছিল বিমান। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী সেসময় বৃহস্পতিবার বিকেলে এবং সপ্তাহের অন্য ৬দিন সকালে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালন শুরু করলে বিমান-এ ভ্রমনে যাত্রীদের আগ্রহ ফিরে আসে। কিন্তু পদ্মাসেতু চালুর অজুহাত তুলে বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে আকষ্মিকভাবেই বিমান কতৃপক্ষ ২০২২-এর আগষ্টের প্রথমভাগে বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইট সপ্তাহে ৩ দিনে হ্রাস করে।
বিষয়টি নিয়ে সাধারন মানুষের ক্ষোভ ও হাতাশার কথা বিমান কতৃপক্ষ জানলেও তা কখনো আমলে নেয়নি। এমনকি বিমান-এর বরিশাল সেলস অফিসে পতিত সরকারের সুবিধাভোগী প্রেতাত্বা বিগত সরকারের মত বর্তমান সরকার আমলেও নানা ধরনের কলকাঠি নাড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩-এর অক্টোবর পর্যন্ত বরিশাল বিক্রয় অফিসে প্রতি মাসে অভ্যন্তরীন ও অন্তর্জাতিক রুটের ৯০-৯৫ লাখ টাকার টিকেট বিক্রী হলেও পরে তা ১০-১৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু বিমানের সদর দপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে কোন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা দুরের কথা তদন্ত পর্যন্ত করেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন কমিটির সভাপতি এ্যডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন হতাশার সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করে, অবিলম্বে বরিশাল-ঢাকা আকাশপথে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর বিমান-এর ফ্লাইট চালুর দাবী জানিয়েছেন। পাশপাশি বািরশাল সেলস অফিসে রাজস্ব আয় হ্রাসের সঠিক কারণ উদঘাটন সহ দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবী জানিয়েছেন তিনি।


