দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
সৌদি সরকারের পাঠানো ১৭৮ কার্টন খেজুর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে খেজুর খুলনায় পৌঁছায়। বুধবার সকালে খেজুরগুলো সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঠানো হয়।
এর মধ্যে খুলনা-২ ও খুলনা-৩ আসন নিয়ে গঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার খেজুর এতিমখানা ও বোর্ডিংয়ে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য উপজেলার খেজুর এলাকায় পৌঁছানোর পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১০ মার্চ কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যমে তার এলাকায় পাঠানো খেজুরের তথ্য তুলে ধরেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। বিভিন্ন সংসদীয় এলাকার মানুষ তার এলাকার জন্য বরাদ্দ হওয়া খেজুরের তথ্য জানতে চাইছেন।
খুলনার আযমখান কমার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ফয়জুল্লাহ শাকিল ফেসবুকে লেখেন, খুলনার ১৮২ কার্টন খেজুর কোথায় গেল, জানতে চাই। বিএল কলেজের শিক্ষার্থী শরীফ সানা লেখেন, খুলনা-২ আসনের খেজুর কোথায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৌদি সরকারের আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিফিল সেন্টার’ প্রতিবছর রমজান উপলক্ষে উপহার হিসেবে খেজুর পাঠান। চলতি বছর ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর দেশে পৌঁছায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। গত ১ মার্চ ৬৪ জেলায় এই খেজুর ভাগ করে দেওয়া হয়। খুলনা জেলার জন্য বরাদ্দ হয় ১৮২ কার্টন।
খুলনা জেলার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমরা ১৭৮ কার্টন খেজুর বুঝে পেয়েছি। নথিতে ১৮২ কার্টন লেখা থাকলেও ১৭৮ কার্টন প্রাপ্তির বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে খেজুরগুলো উপজেলা প্রশাসক ও কেসিসিতে বন্টন করা হয়েছে। এখন তারা বিধি অনুযায়ী বিতরণ করবে।
তিনি জানান, কেসিসিতে ৩২ কার্টন, দাকোপে ১৯, বটিয়াঘাটায় ১৫, ডুমুরিয়ায় ২৯, পাইকগাছায় ২১, কয়রায় ১৫, ফুলতলায় ৯, দিঘলিয়ায় ১৩, তেরখাদায় ১৩ ও রূপসায় ১২ কার্টুন দেওয়া হয়েছে। কয়রা ও পাইকগাছা ছাড়া বাকিরা খেজুর বুঝে নিয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর এভাবেই খেজুর আসে এবং একইভাবে বিতরণ করা হয়। তবে মাঝে কয়েকবছর সিটি করপোরেশন এলাকায় খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
কেসিসিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বুধবার সকালে তাদের ৩২ কার্টন খেজুর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা মহানগরীর সবকটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিয়ে খেজুরগুরো সমানভাবে বন্টন করা হবে। সেভাবেই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বড় বরাদ্দ গেছে ডুমুরিয়ায়। সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার জানান, খেজুর আনতে আমাদের কর্মকর্তা গেছেন, এখনও পৌছাননি। নির্দেশনা অনুযায়ী এতিমখানায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। অনান্য উপজেলায় খেজুর বিতরণের তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।


