অনলাইন ডেষ্কঃ
বরিশালের একমাত্র হৃদরোগ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ সেন্টার দীর্ঘ নয় বছর ধরে বন্ধ। এর ফলে কেয়ারটেকারসহ ৬ জন কর্মচারী বেতন-ভাতা পাননি। এছাড়া হার্টের সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বরিশালবাসী এবং আশেপাশের জেলার রোগীরা। ফলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) এ।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে দেড়শো রোগী শুধু হার্টের চিকিৎসা নিতে এখানে আসছেন। বর্তমানে ইনডোর রোগীর সংখ্যা ৪৭ জন।
বরিশাল শেবাচিম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মুনীর জানান,বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন সচল থাকলে অন্তত এই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। শেবাচিম থেকে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিউ সার্কুলার রোডে বন্ধ থাকা বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ সেন্টারের খবর পেয়েছেন এবং আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন (বসিক) আওতাধীন ১৫ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, কালু শাহ সড়ক ও নিউ সার্কুলার রোডের সংযোগস্থলে একটি সাইনবোর্ডহীন পরিত্যক্ত একতলা ভবন পড়ে আছে। এ সময় বিসিসি স্বাস্থ্য কর্মীরা এখানে হামের টিকা প্রদান করছেন। ছবি তুলতে গেলে আব্দুস সালাম নামে এক বয়োবৃদ্ধ হাজির হন। তিনি জানান, জন্মলগ্ন থেকে ফাউন্ডেশনের দেখাশোনা করছেন। বর্তমানে তিনজন নিরাপত্তা কর্মী, একজন ঝাড়ুদার এবং একজন হিসাবরক্ষক অনিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার শুধুমাত্র আব্দুস সালাম ও তার সহধর্মিণীকে দেখা গেছে। তারা ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করছেন।
আব্দুস সালাম বলেন, গত নয় বছর ধরে তাদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নিয়মিত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা উত্তোলন হয়নি।
নিরাপত্তা কর্মী ও হিসাবরক্ষকরা অন্যত্র কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আব্দুস সালাম জানান, ভবনটির সুরক্ষার জন্য তিনি সার্বক্ষণিক এখানে থাকেন।
হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথে প্রবেশ মাত্র চোখে পড়ে একটি প্রস্তরখোচিত নামাফলক, যেখানে লেখা রয়েছে উদ্বোধনকারীর নাম।
বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন নির্মাণ কাজ ২০০২ সালে ৫৬ শতাংশ জমির ওপর শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এটি উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আজও বর্তমান এমপি আইনজীবী মজিবর রহমান সরোয়ার এর নাম প্রস্তরখোচিত। এরপর থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়ররা এই হার্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রথম সদস্য সচিব হিসেবে মেজবাহ উদ্দিন নেগাবান নাম বোর্ডে লেখা আছে। প্রয়াত দুই মেয়র হীরন ও কামাল সময়েও হাসপাতালের ভিড় ছিল। প্রথম চিকিৎসক ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ একেএম সামসুদ্দিন, যিনি হামলার শিকার হন। পরবর্তীতে মেয়র শওকত হোসেন হীরন সময় থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রথীন্দ্রনাথ বোস নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিতেন। মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ছিলেন যথাক্রমে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও কেবিএস আহমেদ কবীর।
২০১৮ সাল থেকে বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন অনেকটা পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ভবনটির পিছনের বারান্দা ভেঙে মালামাল চুরি হয়েছে। একটি বড় মিলনায়তনে ১০টি বেড বসিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ভিতরে চারটি পৃথক ওয়াশরুম এবং ছয়টি কক্ষ রয়েছে।
বরিশালবাসী দাবি করছেন, শীঘ্রই হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হোক। এছাড়া এটিকে অত্যাধুনিক হার্ট ফাউন্ডেশন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিলকিস জাহান শিরিন জানান, দীর্ঘ নয় বছর ধরে বন্ধ থাকা এই হাসপাতালটির কারণে বরিশালবাসী ও আশেপাশের জেলার মানুষ হার্টের সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই সমস্যার সমাধান যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল পুনরায় চালু করার করা হবে ।


