TT Ads

অনলাইন ডেষ্কঃ
বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঢাকা–কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই রুটে দিন দিন ট্রেনের চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকারের নির্দেশে রেল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলওয়ের অপারেশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, রেল যোগাযোগের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রেলকে যাত্রীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সভাও হয়েছে। রেলওয়েতে আগে থেকেও বিভিন্ন রুটে বেসরকারি ট্রেন চলাচল করেছে। রেলের উন্নয়নে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রেলের উন্নয়নের অঙ্গীকারের বাস্তবায়নযোগ্য অংশের কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে হবে। সে অনুযায়ী বাজেটে অর্থ সংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা–চট্টগ্রাম রেল করিডরে যাত্রার সময় কমিয়ে ৪ ঘণ্টায় নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। টঙ্গী–আখাউড়া ও লাকসাম–চট্টগ্রাম সেকশনের ২২৭ কিলোমিটার ডাবল লাইন হয়নি। এই ২২৭ কিলোমিটার আগামী চার বছরের মধ্যে ডুয়েলগেজ লাইনে রূপান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে রেলওয়ের জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে বলে রেলওয়ের পরিকল্পনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে।

রেলওয়ের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার রুটে দিন দিন ট্রেনের চাহিদা বাড়ছে। প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে কক্সবাজার রুটে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা ২০ গুণ বেড়ে যায়। তখন যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে রেল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। কক্সবাজার রেলপথ চালু হওয়ার তিন বছরের মাথায় ঢাকা থেকে দুটি এবং চট্টগ্রাম থেকে দুটি ট্রেন চলাচল করে।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ নির্মিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম ঢাকা–কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস চালু হয়। তার এক বছর পর ঢাকা–কক্সবাজার রুটে পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া নিয়মিত ট্রেন (সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস) ১৬টি কোচ নিয়ে চলাচল করে। এই দুটি ট্রেন ছিল ননএসি, অনেক আগের পুরনো বগি। এখন নতুন বগি নিয়ে সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এডিবির প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় দোহাজারী–কক্সবাজার ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হওয়ার পর যাত্রীদের চাহিদামতো ট্রেন দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে এই রুটের যাত্রীদের। বারবার ট্রেন বাড়ানোর দাবি জানালেও রেল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন। এই রুটে ট্রেন বাড়ানো হলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং যাত্রীরা। এই রুটে বেসরকারি খাতে ট্রেন পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করেন যাত্রীরা।

TT Ads

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *