অনলাইন ডেষ্কঃ
লাইটার জাহাজ সংকটে আমদানি করা পণ্য খালাস করতে না পারায় এবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের জট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় লাইটারগুলো গভীর সমুদ্রে যেতে পারছে না। খালাসে ধীরগতির কারণে এসব পণ্য যেমন সময়মতো বাজারে যেতে পারছে না, তেমনি অলস বসে থাকায় প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত তিনটি মাদার ভ্যাসেল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা অন্তত দেড় লাখ মেট্রিক টন কয়লা লাইটার সংকটের কারণে খালাস বন্ধ রেখে কয়েকদিন ধরে আটকে রয়েছে। অন্যদিকে লাইটার জাহাজে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে সংকট কাটাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিপিসির কাছে আলাদা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে এসব কয়লা আমদানি করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, একাধিক কয়লা জাহাজসহ আরও অনেক ভ্যাসেল বহির্নোঙরে থাকলেও পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজ না পাওয়ায় খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। লাইটারিং ও পরিবহন উভয় পর্যায়েই সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরে ৯৭টি মাদার ভ্যাসেল অবস্থান করছে। এরমধ্যে বন্দরের প্রধান জেটিতে জাহাজ ভেড়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা না হলেও সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বর্হিনোঙ্গরে। বিশেষ করে ৭৯টি বহির্নোঙরে, যার মধ্যে ৫৬টি জাহাজে খালাস চলছে এবং ২৩টি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে। প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজের ঘাটতির কারণে এসব মাদার ভ্যাসেলকে অতিরিক্ত সময় ধরে বসে থাকতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শফিক আহমেদ বলেন, লাইটার জাহাজে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় তারা মাদার ভ্যাসেলের কাছে যেতে পারছে না, ফলে খালাস প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের এ এন জে ট্রেডিংয়ের মালিক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাহাজগুলো তেলের অভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বসে আছে। এতে মাদার ভেসেলে জট তৈরি হচ্ছে এবং একইসঙ্গে লাইটার জাহাজ সংকটও দেখা দিয়েছে। লাইটার জাহাজগুলো ঢাকা রুটে চলাচল করে পুনরায় খালি হয়ে ফিরে আসার কথা থাকলেও জ্বালানি সংকটের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ১ হাজার ২০০টি লাইটার জাহাজের মধ্যে ১৫০টি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের মালিকানাধীন হলেও বাকিগুলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পরিচালিত হয়। গভীরতার কারণে জেটিতে ভিড়তে না পারা মাদার ভেসেলগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করে এসব লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করে থাকে।
এদিকে লাইটার জাহাজে পণ্যের অবৈধ মজুত হচ্ছে কি না তা নজরদারিতে থাকলেও লাইটার সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ মজুত না হয় এবং এ কাজে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাল্ক পণ্য হিসেবে গম, ভুট্টা, চাল, খাদ্যপণ্য, কয়লা, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার, চিনি ও লোহার স্ক্র্যাপসহ বিভিন্ন পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাস হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১২ কোটি মেট্রিক টন। এসব পণ্য লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ঘাট ও নদীবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়। এর মধ্যে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পরিবহনের জন্যই প্রতি মাসে গড়ে ৪২০টি লাইটার জাহাজের প্রয়োজন পড়ে।


