Latest post
বরিশাল জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও সেবায় নতুন দিগন্ত
সংসদে পাশ হল সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল
দক্ষিণ সুরমার যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সিলেট সিটির প্রশাসক
Popular Posts
কৃষক সুমন কিভাবে সহ কৃষি করেন যানলে যে উপকার হবে নতুন উদ্যোক্তাদের
(861)
Admin
February 9, 2026
বরিশালে বিভাগীয় আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
(590)
Admin
February 10, 2026
গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভাব হয়েছে : তারেক রহমান
(545)
Admin
February 9, 2026
সৎ নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই : চরমোনাই পীর
(522)
Admin
February 9, 2026
বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই বরিশালের উন্নয়ন হয় : সরোয়ারের
(490)
Admin
February 9, 2026
Stay Connected
Thu, Apr 9, 2026
TT Ads
হোম
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
জাতীয়
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
সারাদেশ
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
ঢাকা
চট্টগ্রাম
খুলনা
বরিশাল
রাজশাহী
সিলেট
রংপুর
ময়মনসিংহ
বিনোদন
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
রাজনীতি
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
লাইফস্টাইল
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য
দ্যা ডেইলি বাংলা নিউজ অনলাইন
লাভের হিসাবই এখন বদলে দিচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষির চিত্র। লোকসানে ডুবে থাকা আলুর বদলে নিশ্চিত লাভের আশায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন তামাক চাষে। ফলে রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে তামাকের আবাদ। কৃষকেরা জানান, এক কেজি তামাক ফলাতে খরচ হয় ৭০-৮০ টাকা, আর বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ২১০ টাকায়। অপরদিকে এক কেজি আলু ফলাতে খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, আর বর্তমান বাজারে এক কেজি আলুর দাম ১০ টাকার নিচে। গত বছর আলুর দাম না থাকায় অনেক কৃষক ঘরে ও হিমাগারে রাখা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হন। এই ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে অনেক কৃষক এখন নিশ্চিত লাভ জেনে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তামাক চাষ হয়। এর মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ১৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টরে। এক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৬১ হেক্টরে। অন্যদিকে একই সময়ে আলু চাষ কমেছে উদ্বেগজনক হারে। চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাষ হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে, যেখানে গত বছর চাষ হয়েছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৯ হেক্টরে। এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ কমেছে। অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে; যা তামাক চাষ বাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। রংপুর সদরের মমিনপুর খারুয়াবাদ এলাকার কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর দুই একর জমিতে চাষ করা আলু হিমাগারে রেখে আসতে হয়েছে। এতে লোকসান হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। কিন্তু এক একর জমির চাষ করা তামাক বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হইছিল। তামাকের টাকা দিয়া আলুর লোকসান পুষাইছি। এবার এক একরে আলু আর দুই একরে তামাক চাষ করছি। এবারও আলুত লোকসান।’ তারাগঞ্জের দোলাপাড়ার মাঠে কৃষক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘তামাক চাষে নিশ্চিত লাভ, রোগ-বালাই কম। ঋণ পাওয়া যায়। কোম্পানির লোক বীজ বপন থাকি তামাক কিনা পর্যন্ত মাঠে থাকে, দেখভাল করে। ১৮০ টাকা থাকি ২১০ টাকা কেজি দরে তামাক কিনি নেয়। আর আলু, ধানোত তো লস। ওই জন্যে বেশি করি তামাক চাষ করি।’ রংপুর বিভাগীয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিনুর রহমান জানান, তামাক উচ্চমূল্যের ফসল হওয়ায় এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়, যা মাটির জন্য ক্ষতিকর। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের বিকল্প ফসল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সামনের বছর তামাকচাষিদের অন্য ফসলের বীজ ও সার দেওয়া হবে। সেটা কতটুকু, তা নির্ভর করবে বরাদ্দের ওপর। রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, তামাকের কারণে মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড। এতে শিশুরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তামাকচাষিদের ভর্তুকি দিয়ে অন্য ফসল চাষে উৎসাহিত করতে হবে।
Category: রংপুর
Home
রংপুর
Admin
March 14, 2026
2 sec read
132
রংপুর অঞ্চল: আলুতে লোকসান, বাড়ছে তামাক
Admin
March 13, 2026
3 sec read
81
রংপুরের মডার্ন মোড়ে পুলিশের সাব-কন্ট্রোল রুম চালু
Admin
March 13, 2026
0 sec read
48
দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ২ চালকের
Admin
March 12, 2026
3 sec read
120
সৌদি খেজুর রংপুরের ৮ উপজেলা পেলেও বঞ্চিত সিটি করপোরেশন
Admin
March 12, 2026
0 sec read
149
জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় রংপুরের কৃষিবিদদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
Admin
March 12, 2026
1 sec read
60
দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী
Admin
March 9, 2026
1 sec read
128
নির্মাণ সম্পন্নের ৭ বছরেও ১০০ শয্যার রংপুর শিশু হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি
Admin
March 9, 2026
4 sec read
182
ইজিবাইক-অটোরিকশার জটে স্থবির রংপুর, নাকাল নগরবাসী
Admin
March 9, 2026
1 sec read
140
রংপুর, রাজশাহী বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস
Admin
March 6, 2026
1 sec read
171
দিনে বাড়বে তাপমাত্রা, রাতে থাকবে অপরিবর্তিত
Prev.
1
2
3
Next
Most Read
Popular Post
কৃষক সুমন কিভাবে সহ কৃষি করেন যানলে যে উপকার হবে নতুন উদ্যোক্তাদের
(861)
Admin
February 9, 2026
বরিশালে বিভাগীয় আন্তঃপ্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
(590)
Admin
February 10, 2026
গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেম রূপে আবির্ভাব হয়েছে : তারেক রহমান
(545)
Admin
February 9, 2026
সৎ নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই : চরমোনাই পীর
(522)
Admin
February 9, 2026
বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই বরিশালের উন্নয়ন হয় : সরোয়ারের
(490)
Admin
February 9, 2026
Weather
Dhaka
haze
23
℃
28º - 22º
humidity:
57%
wind:
5 km/h
32
℃
Fri
35
℃
Sat
35
℃
Sun
37
℃
Mon
35
℃
Tue
35
℃
Wed